ঢাকা,মঙ্গলবার 8 January 2019, ২৫ পৌষ ১৪২৫, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

একদা যেখানে আইনের শাসন ছিল-

আমাদের এই উপমহাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা কতটা হচ্ছে তা এক প্রশ্নবোধক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে এবং পরে যেমন এ বিষয়ে কথা হয়, তেমনি কথা হয় সরকারের দমন অভিযানের সময়ও। বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ বলেছেন, ভারতে ধর্মের নামে ঘৃণার প্রাচীর তোলা হচ্ছে এবং যারাই এর বিরোধিতা করছেন তারাই অবিচার ও শাস্তির শিকার হচ্ছেন। এক ভিডিও বক্তব্যে শাহ এই মন্তব্য করেন। অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়া তার এই বার্তা প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি ভারত সরকার এনজিওর বিরুদ্ধে দমন অভিযান শুরু করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচডগ এই দমন অভিযানের বিরোধিতা করে। নাসিরুদ্দিন শাহ তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, যারাই অধিকার দাবি করছেন তাদেরকেই কারাগারে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শিল্পী, সাহিত্যিক, অভিনেতা, অভিনেত্রী, বুদ্ধিজীবী, কবি সবার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বরও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ধর্মের নামে ঘৃণার প্রাচীর খাড়া করা হচ্ছে। নিরপরাধ লোকদের হত্যা করা হচ্ছে। দেশে ভয়াবহ ঘৃণা ও নৃশংসতার জোয়ার বইছে। শাহ বলেন, ভারত এ কোন্্ পথের দিকে ধাবিত হচ্ছে? আমরা কি এমন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম যেখানে ভিন্ন মতালম্বীদের কোনো স্থান থাকবে না। কেবল ধনী আর ক্ষমতাবানদের কথাই শোনা যাবে এবং গরিব, অসহায় ও দুস্থ লোকেরা কেবলই নির্যাতনের শিকার হবে? এক সময় যেখানে আইনের শাসন ছিল, এখন সেখানে কেবলই অন্ধকার।
ভারতের সরকার এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বেশ সুন্দর করে কথা বলেন। আবেগের সাথে তারা শান্তি ও সহিষ্ণুতার বাণী উচ্চারণ করে থাকেন। তারা এ কথাও প্রচার করে থাকেন যে, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার দেশ। কিন্তু এমন প্রোপাগা-ার সাথে বাস্তব পরিস্থিতির মিল কতটুকু? নাসিরুদ্দিন শাহসহ আরও অনেক শিল্পী-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী আজ কেন প্রশ্ন তুলে বলছেন, এ কোন্্ পথের দিকে ধাবিত হচ্ছে ভারত? যে দেশে গরুর চাইতে মানুষের মূল্য কম, সে দেশ কেমন করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক চেতনার দেশ হয়? আমাদের উপমহাদেশে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশটির পরিবেশ-পরিস্থিতি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে প্রভাব ফেলে থাকে। তাই আমরা চাই, প্রকৃত অর্থেই ভারত হয়ে উঠুক একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক দেশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ