ঢাকা,মঙ্গলবার 8 January 2019, ২৫ পৌষ ১৪২৫, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিশ্বসভ্যতা বিকাশের মৌলিক উপাদান

অধ্যক্ষ ডা. মিজানুর রহমান : পৃথিবী ও মানুষের উৎপত্তি নিয়ে বৈজ্ঞানিক, প্রত্নতত্ত্ববিদ, নৃবিজ্ঞানী ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে বহু বিতর্ক ও মতভেদ রয়েছে। বৈজ্ঞানিকদের কেউ কেউ মনে করেন আজ থেকে ৪০০ কোটি বছর পূর্বে পৃথিবীর জন্ম। তবে ভূতত্ত্ববিদদের ধারনা, পৃথিবীর বয়স ১৫০-২০০ কোটি বছর। তাঁরা এই সময়কে ৫টি প্রধান মহাযুগে ভাগ করেছেন। পাশা পাশি পৃথিবীতে জীব ও প্রাণির আবির্ভাব সম্পর্কেও তাদের মত ব্যক্ত করেছেন। রুশ উৎসে বলা হয়েছে, মানুষের উদ্ভব হয়েছে ২০ লাখ বছর আগে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অধিকাংশ উৎসে দশলাখ বছর আগে মানুষের আবির্ভাবের কথা উল্লেখ করা হয়। বর্তমানকালে মনে করা হয়, আধুনিক মানুষ যারা হোমোসেপিয়ান্স নামে পরিচিত তাদের আবির্ভাব হয়েছিল ২০ হাজার বছর আগে। অবশ্য এই দীর্ঘ সময় বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ আজ বর্তমান সভ্যতায় পৌঁছেছে।
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে খ্যাত। সভ্যতার ক্রম বিকাশে মানুষ চাঁদে যেতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বের তাবুৎ তথ্য ও জ্ঞানকে মানুষ হাতের মুঠোয় নিতে আসতে সক্ষম হয়েছে। বিরাট দেহ সর্বস্ব হাতিকে পোষ মানায়, চালনা করে মানুষ। এজন্যই কাল লিনিয়াস মানুষকে অসাধারন প্রাণি হিসেবে উল্লেখ করে মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম দেন Homosapiens বা জ্ঞানী মানুষ।  লাতিন ভাষায় হোমো অর্থ মানুষ সোপিয়েন্স অর্থ জ্ঞান, দুটো শব্দ মিলে অর্থ দাঁড়ায় জ্ঞানী মানুষ।
কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম। বিশ্বজুড়ে আজকাল মহাদুর্যোগ। মানুষ প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে আছে। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। অর্থনীতিতে শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন, সংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, তথ্য বিভ্রাট, প্রযুক্তির কুটকৌশল, ক্ষমতার অপব্যবহার, সর্বোপরী পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলছে সারা বিশ্বে। এছাড়া পারমাণবিক, রাসায়নিক ও সমরাস্ত্রের অপপ্রয়োগের যুদ্ধ সহ অগনিত  সমস্যা আর ভোগান্তির শিকার হয়ে জাতি আজ দুর্বিপাকে হাবুডুবু খাচ্ছে। এতো প্রতিকূলতার মাঝেও মানুষ সভ্যতার অভিযাত্রায় অতন্দ্র প্রহরী। তারই ধারাবাহিকতায় সভ্যতা বিকাশের পাঁচটি মৌলিক উপাদান পেশ করা হলো।
১। সাহিত্য : সাহিত্য মনের জমিনকে চাষ করে। সাদা ধবধবে ইউরিয়া সার যেমন চাষাবাদে জমিনকে উর্বর করে সবুজের সমারোহ দিগন্ত জোড়া ফসল ফলাতে সাহায্য করে, তেমনি সাহিত্য মনের জমিনকে উর্বর করে সভ্যতার সোনালী ফসল ফলাতে অসাধারণ অবদান রাখে। একটি শান্তিপূর্ণ আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে যা যা প্রয়োজন তার সব রকম উপাদান বিদ্যমান রয়েছে সাহিত্যে। এজন্য সাহিত্যের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
২। দর্শন : মানব জীবনকে তার কাক্সিক্ষত মহিমায় সমুন্নত করতে হলে দর্শন-চর্চার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে আমরা বিজ্ঞান প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও শাসননীতি নিয়ে অনেক ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি।তারপরও আমরা কি একথা বলতে পারবো যে, বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের জীবন ও সমাজ সুখ-শান্তি ও কাক্সিক্ষত মর্যাদায় সমুন্নত হতে পেরেছে। আসলে বর্তমান সময়ে  মানবোচিত সুষম দর্শন-চর্চার অভাবে আমরা যেন দিকভ্রষ্ট হয়ে  পড়েছি। আমরা অনেক কথা বলছি, অনেক কাজ করছি কিন্তু কাক্সিক্ষত ফল পাচিছ না। আমাদের যেন কোনো বাতিঘর নেই। আসলে সঠিক জীবনদর্শনের অভাবেই বর্তমান সময়ে অনাস্থা-বিশ্বাস, শোষণ-নির্যাতন, প্রতারণা ও হিংসা-বিদ্বেষপূর্ণ এক বিপদসংকুল-বিশ্বে আমাদের বসবাস। মানুষের সঙ্গত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য এমন পরিস্থিতির অবসান প্রয়োজন।
এখানে সহজেই অনুমেয় যে মানুষের যাবতীয় অনিষ্টকর পরিবেশ পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করে একটি শান্তিময়, কল্যাণময়, অনুকুল, নিরাপদ, পরিবেশ তৈরী করার মহান সংগ্রামের ব্রত হওয়ার জন্যই মূলত মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষকে ইচ্ছা, চিন্তা, বিবেক, বুদ্ধির অপার স্বাধীনতা দিয়ে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাঁরা সর্বসময় আবেগ-বিবেক দ্বারা পরিচালিত হবে। আবেগের বিপরীতে বিবেকের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্রষ্টার নীতিমালার অনুশীলন করাই জ্ঞানী লোকদের কাজ ও বৈশিষ্ট্য। যে বৈশিষ্ট্য মানুষকে সৃষ্টিকরার উদ্দেশ্যকে অর্থবহ করবে।
জীবন ও জগৎ সম্পর্কে যদি মানুষের সঠিক ধারণা না থাকে তথা মানুষ যদি কাক্সিক্ষত জীবন-দর্শনে পরিশীলিত না হয়, তাহলে তার কর্মতৎপরতা মানুষ ও সমাজের জন্য আশাপ্রদ হতে পারে না। এক্ষেত্রে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকে সভ্য করতে হলে দর্শন চর্চার বিকল্প নেই। আসুন আলোকিত জীবন দর্শনের সন্ধানে ব্রতহই, রপ্তকরি রেঁনেসার দর্শন।
৩। মিডিয়া বা সংবাদপত্র : জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানুষের জীবনের সকল দিক বা বিভাগে যে অসমতা, সমস্যা, দুর্ভোগ, ভোগান্তি চলমান আছে তা চিরতরে দুর করে বিশ্ব বিবেক কে জাগ্রত করে সংবাদপত্র। যাবতীয় অসভ্যতার পরিবর্তে সভ্যতা, অমানবিকতার পরিবর্তে মানবিক গুণাবলী অর্জনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে সংবাদপত্র। যাবতীয় নীতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয়টি অতিসহজেই জাতির সামনে তুলে ধরে সভ্যতার সংগ্রাম করে সংবাদপত্র। সংবাদপত্র বা মিডিয়া মুলতঃ জাতির দর্পণ।
গোটাবিশ্বে সকল প্রান্তের মানুষ এখন মিডিয়া নির্ভর। মিডিয়া যেদিক-যে ভঙ্গিতে চালিত করে গোটা বিশ্ব আজ সেদিকেই ঝুঁকে পড়ে। এক্ষেত্রে জনসংযোগ, সাহিত্য, দর্শন, সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা, এবং সংবাদের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। মানুষ যখন দুর্বিপাকে পড়ে তখন স্রষ্টার সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নিপীড়িন মানুষ শেষ পর্যন্ত  উপাসনালয়ে আশ্রয় নেয়। তেমনি জাতি যখন দুর্বিপাকে পড়ে তখন পৃথিবীজুড়ে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে খুঁজে নেয় মিডিয়াকে। মিডিয়ার আয়নাতেই সে বিশ্ব পরিস্থিতি দেখতে, জানতে ও বুঝতে চায়।
মিডিয়ার মাধ্যমে অতিসহজেই সকলপ্রকার তথ্য ও সংবাদ পাওয়া যায়। সংবাদকে ইংরেজীতে নিউজ বলে। NEWS অর্থাৎ N-North অর্থ উত্তর, E-East অর্থ পূর্ব, W-West অর্থ পশ্চিম, S-South অর্থ দক্ষিণ,  ফলে দাঁড়ালো সবদিকের তথ্যও খবরা-খবর মিলেই তৈরি হয় নিউজ। কাজেই তথ্যবহুল বস্তুনিষ্ঠ সংবাদপত্রের নির্ভরতার প্রতি মানুষ দিন দিন আস্থাশীল হচ্ছে। সেই সাথে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, দর্শন, অর্থনীতি সমরনীতি কূটনীতি, আধ্যাত্মিক, জাগতিক, পারলৌকিক সফলতা অর্জনে জন্য যে সব সংগ্রাম করতে হয়, তন্মধ্যে সার্বক্ষণিক ভাবে সংগ্রাম করার একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বাহন বা হাতিয়ার হচ্ছে প্রিন্ট মিডিয়া বা সংবাদপত্র।
৪। বিশ্ব মানব সভ্যতা বিকাশে আল-কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি : মানবজাতির সভ্যতার জন্য আল্লাহ তা’য়ালা বেশ কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, সেখান থেকে পাঠকদের জ্ঞাতার্থে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ  আয়াত পেশ করছি :
“যারা আমার  অবতীর্ণ শিক্ষাগুলো ও বিধানগুলো গোপন  করে, অথচ গোটা মানব জাতিকে পথের সন্ধান দেয়ার জন্য আমি সেইগুলো আমার কিতাবে বর্ণনা করে দিয়েছি, অবশ্যই আল্লাহ তাদের উপর অভিশাপ বর্ষণ করেন এবং সকল অভিশাপ বর্ষণকারীরা তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করে।” সূরা আল বাকারা-১৫৯
“অবশ্যই সেই ব্যক্তি সফল যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে  নিয়েছে (তাগুদের পদাঙ্ক অনুসরণ থেকে)। আর সেই ব্যক্তি বিফল যে নিজেকে দাবিয়ে রেখেছে তাগুতের পথে। সুরা আশ-শামস-৯-১০ 
“জেনে রাখো যারা আল্লাহর বন্ধু, যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে তাদের কোন ভয় ও চিন্তার কারণ নেই। দুনিয়া এবং আখিরাতে উভয় জীবনেই তাদের জন্য সুসংবাদ। আল্লাহর কথা পরিবর্তিত হবার নয়। এটি বড়ই সফলতা।” সূরা ইউনুস-৬২-৬৪
“অতঃপর যারা তার প্রতি ঈমান এনে (তাকে জান, মাল, মনন, প্রতিভা ও জ্ঞান বিলিয়ে দিয়ে) সহযোগিতা করে, তাকে সাহায্য করে এবং তাঁর প্রতি নাযিলকৃত নূরের (আল কুরআনের) অনুসরণ করে, তারাই সফল।” সুরা আল আরাফ-১৫৭
“অতঃপর যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে ছালেহ করেছে তাদের রব তাদেরকে তাঁর রাহমাতের মধ্যে দাখিল করে নেবেন। এটি সুস্পষ্ট সফলতা।” সুরা আল জাসীয়া-৩০
“তোমাদের মধ্যে হতে এমন একদল লোক থাকতে হবে যারা লোকদেরকে কল্যাণের দিকে ডাকবে, মা‘রূফ কাজের নির্দেশ দেবে এবং মুনকার থেকে বিরত রাখবে। আর এরাই সফল। সূরা আল ইমরান-১০৪
“বলুন (হে মুহাম্মদ সাঃ) সত্য সমাগত এবং মিথ্যা অপসৃত হয়েছে নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত অবশ্যম্ভাবী।” সুতরাং সত্য সরল পন্থিদের ওপর যতবড় বিপদই নেমে আসুক, বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।”
“তুমি তোমার প্রভূর পথে (মানুষকে) হিকমত (প্রজ্ঞা) ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে ডাকো।” সূরা নাহল-১২৫
“তোমরাই উত্তম জাতি, তোমাদেরকে বের করা হয়েছে মানুষকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার জন্য।” সূরা আল ইমরান-১১০
“এবং কোন ব্যক্তি যদি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবন বিধান তালাশ করে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” সূরা আল ইমরান-৮৫
“তার কথার চেয়ে আর কার কথা অধিক উত্তম হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, সৎ কাজ করে এবং বলে আমি একজন মুসলমান।” সূরা হা-মীম সাজদা-৩৩
এই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই যুগ যুগান্তরে বহু ক্ষনজন্মা আলোকিত জ্ঞানী ও গুণীরা পৃথিবীর মানুষের জীবনে শান্তি ও আখিরাতে মুক্তির এবং অসভ্যতার পরিবর্তে সভ্যতা বিনির্মাণে নিজেদের জীবন যৌবন বিলিয়ে দিয়েছেন আল্লাহ পথে তারাই সফল কাম।
৫। জ্ঞানী-গুণীরাই সভ্যতার পথ প্রদর্শক : জ্ঞানী মানুষের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সৃষ্টির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি জীবনের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য ঠিক করা। এই বিষয়ে মহাগ্রন্থ আলকুরআনের ভাষায় “আমি পৃথিবীতে জীন ও ইনছানকে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদতের জন্য।” আরো বলা হয়েছে “তোমরা এক অতীব উৎকৃষ্ট জাতি, মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। পুণ্যের আদেশ করা এবং অন্যায় কাজের নিষেধ করাই তোমাদের জীবনের একমাত্র মিশন। যারা এই মিশনে অনুযায়ী অনুশীলন করবে তাদের শেষ ঠিকানা হবে জান্নাত।”
তবে জান্নাত পাওয়ার সৌভাগ্য এত সহজ নয়, এর জন্য প্রয়োজন মানবরচিত মতবাদের মূলোৎপাটন করে ওহীর বিধান প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়া। কারণ ইসলামের ইবাদতের মিশন হলো তাওহীদ, নবুয়াত ও খিলাফত এই ৩টি মূলনীতিকে কেন্দ্র করেই মুসলিম জাতির মিশন পরিচালিত হয়। রাসুল (স.) দীর্ঘ ২৩ বছর নবুয়তী জিন্দেগীতে এই তিনটি মিশন বাস্তবায়নে শেষ জীবন পর্যন্ত সংগীদের নিয়ে সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন।
জ্ঞান চর্চা, সাহিত্য চর্চা, গ্রন্থ লেখক গবেষক, দার্শনিক বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, সাংবাদিক,প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদরা ইসলামের মান দন্ডে স্বীকৃত তাহ্জীব-তামাদ্দুনিক জগতে অসাধারণ ভূমিকা ও অবদান রেখে চলেছেন, তাঁদের মর্যাদা তাগুত শক্তি না দিলেও মহান আল্লাহ তাদের মর্যাদা অবশ্যই দিবেন। “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আপন করে নেন এবং যেই ব্যক্তি তাঁর দিকে আসতে চায় তিনি তাকে পথ দেখান।” 
সত্য পন্থী জ্ঞানীরা হচ্ছেন একটি জাতির, একটি দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ও পথ প্রদর্শক। এবিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-“যারা জানে, যারা জানে না তারা কি এক সমান হতে পারে? সূরা জুমার-৯
আলিম বা জ্ঞানীদের মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (স.) বলেন “তোমাদের উপর আমার মর্যাদা যেমন, একজন ইবাদতকারীর উপর আলিমদের মর্যাদা তেমন। যারা জনগণকে দ্বীনি ইল্ম শেখায় তাদের জন্য আল্লাহ তাঁর ফিরেশতাগণ, আসমান ও জমিনের অধিবাসীগণ, এমন কি গর্তের পিঁপড়া ও মাছ পর্যন্ত কল্যাণ কামনা করতে থাকে। তিরমিযী “একজন বিজ্ঞ আলিম শয়তানের নিকট এক হাজার আবেদের চেয়ে ভয়াবহ” ইবনে মাজাহ।
মোট কথা ইল্ম অর্জন করা এবং তাকওয়া অবলম্বনকারী মানুষের অস্তিত্ব পৃথিবীতে যত দিন থাকবে তত দিন পৃথিবী ধ্বংস হবে না। সুতরাং পৃথিবী ধ্বংসের রক্ষা কবজ হলো জ্ঞানী ও আবেদরা। এরাই পৃথিবী স্থায়ীত্বের গ্যারান্টির প্রতীক।
অতএব শক্তপন্থী শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, দার্শনিক, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, বিশেষজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, আলোচক, উপস্থাপক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজ কর্মীরাই বিশ্ব মানব সভ্যতায় সাহিত্য, দর্শন ও মনোজগতের কারিগর। যাঁদের চিন্তা, কর্ম, মতামত, গবেষণা ও লেখনীর মাধ্যমে বিকশিত হয় বিশ^ সভ্যতার ভিত্তি প্রস্তর। অন্ধকার অসভ্য সমাজে একেকজন শিক্ষাবিদ একেকটি ধ্রুব তারকা, যা দেখে জ্ঞানপিপাসু নাবিকেরা সঠিক ও সরল পথের সন্ধান লাভ করতে পারে।
লেখক : জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রাবন্ধিক সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী।
ইমেইল dr.mizanur470@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ