ঢাকা,মঙ্গলবার 8 January 2019, ২৫ পৌষ ১৪২৫, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা

গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শপথ বাক্য পাঠ করান -পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : শপথ নিলেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর চমক লাগানো মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন। বঙ্গভবনের দরবার হলে গতকাল সোমবার বিকাল ৩টা ৪৬ মিনিটে মন্ত্রিসভার ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এর আগে সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকার গঠিত হলো।
চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর শেখ হাসিনা স্টেজ থেকে নেমে এলে ছোট বোন শেখ রেহানা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে আলিঙ্গন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের প্রবীণ সদস্য সাজেদা চৌধুরী।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম রোববার বিকালে সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নাম ও তাদের দফতরের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তালিকা অনুযায়ী নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য সরকারি পরিবহন পুল থেকে গাড়ি যায়। ওই গাড়িতে চড়ে মন্ত্রীরা বঙ্গভবনে শপথ নিতে যান।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল সাড়ে ১০টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবেন।
২৪ জন মন্ত্রী
আ ক ম মোজাম্মেল হক- মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ওবায়দুল কাদের- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, মো. আব্দুর রাজ্জাক- কৃষি মন্ত্রণালয়, আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মো. হাছান মাহমুদ- তথ্য মন্ত্রণালয়, আনিসুল হক- আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আ হ ম মোস্তফা কামাল- অর্থ মন্ত্রণালয়, তাজুল ইসলাম- স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, ডা. দীপু মনি- শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এ কে আব্দুল মোমেন- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এম এ মান্নান- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন- শিল্প মন্ত্রণালয়, গোলাম দস্তগীর গাজী- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, জাহিদ মালেক- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সাধন চন্দ্র মজুমদার- খাদ্য মন্ত্রণালয়, টিপু মুনশি- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, নুরুজ্জামান আহমেদ- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শ ম রেজাউল করিম- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, মো. শাহাবুদ্দিন- পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বীর বাহাদুর উ শে শিং- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী- ভূমি মন্ত্রণালয়, মো. নুরুল ইসলাম সুজন- রেলপথ মন্ত্রণালয়, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মোস্তাফা জব্বার- ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। শেষের দুজন টেকনোক্র্যাট কোটায় শপথ নিয়েছেন।


১৯ জন প্রতিমন্ত্রী
কামাল আহমেদ মজুমদার- শিল্প মন্ত্রণালয়, ইমরান আহমেদ- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জাহিদ আহসান রাসেল- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, নসরুল হামিদ- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, আশরাফ আলী খান খসরু- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মুন্নুজান সুফিয়ান- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাকির হোসেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শাহরিয়ার আলম- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জুনায়েদ আহমেদ পলক- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ফরহাদ হোসেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বপন ভট্টাচার্য্য- স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, জাহিদ ফারুক- পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মুরাদ হাসান- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, শরীফ আহমেদ- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, কে এম খালিদ- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডা. মো. এনামুর রহমান- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, মো. মাহবুব আলী- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ- ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
তিনজন উপমন্ত্রী
বেগম হাবিবুন নাহার- পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, একেএম এনামুল হক শামীম- পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিবুল হাসান চৌধুরী- শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় আওয়ামী লীগ। পরে রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান। এবারের সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হলে তিনি বাংলাদেশে ২০ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনাকারী প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি পাবেন। এটা হবে স্বাধীন বাংলাদেশের একটি রেকর্ড। এর আগে বাংলাদেশে যারা সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের কেউই চারবারের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাননি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ২১ বছর পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলে শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বিজয়ী হলে ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বার শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আবারও বিজয় অর্জন করে। এর মধ্য দিয়ে তিনিই একমাত্র সরকার প্রধান, যিনি তৃতীয় মেয়াদে টানা ১৫ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ