ঢাকা,মঙ্গলবার 8 January 2019, ২৫ পৌষ ১৪২৫, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার সাথে আত্মীয়-স্বজনদের দেখা করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না

স্টাফ রিপোর্টার: কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার আত্মীয়-স্বজনদের দেখা করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, প্রায় ২১/২২ দিন অতিক্রান্ত হলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার নিকট আত্মীয়দের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব আত্মীয় স্বজন ও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাক্ষাতের জন্য বার বার আবেদন করার পরেও কারা কর্তৃপক্ষ তাতে কোনো কর্ণপাতই করছে না। কারাবিধি অনুযায়ী ৭ দিন পরপর বন্দীদের সাথে সাক্ষাতের নিয়ম। অথচ দেশনেত্রীর ক্ষেত্রে এই বিধান করা হলো ১৫ দিন পর পর। এখন সেই বিধানকেও সরকারের নির্দেশে কারাকর্তৃপক্ষ অগ্রাহ্য করছে।
তিনি বলেন, বন্দীদের যে আইনসম্মত অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে বেগম জিয়াকে। এই নিষ্ঠুর আচরণ কিসের ইঙ্গিতবাহী? বিশাল লাল দেয়ালের মধ্যে রুব্ধকপাট মুক্তিহীন বেগম জিয়াকে অন্তরীণ রেখে বাইরে দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার পায়তারা চলছে। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার সাথে তার নিকট আত্মীয়দের সাক্ষাতের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রিজভী।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সরকারের এহেন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার নিকট আত্মীয়দের দেখা করতে না দেয়াটা রীতিমতো কঠিন মানসিক নির্যাতন। এ নিয়ে শুধু তার আত্মীয় স্বজনরাই নয়, দেশবাসী উদ্বেগাকুল ও উৎকন্ঠিত।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন জনগনের ললাট এক বিষাক্ত কাঁটা। অথচ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন এবারের নির্বাচনের শৃঙ্খলা আগামীবারেও থাকবে। সাবাশ এইচটি ইমাম। আপনি আত্মমর্যাদাহীন, অনুশোচনাহীন, আজ্ঞাবাহী একজন মানুষ যার পক্ষে আগামী নির্বাচন নিয়ে এই ধরনের অঙ্গীকার করা ছাড়া আর কি-ই বা বলার থাকতে পারে। বিবেক বিক্রি করা এইচটি ইমামরা মানুষের ভোট কেড়ে নিতে কত দ্বিধাহীন, কত নির্লজ্জ্ব। ভোগ-লালসায় অস্থির থাকায় এদের কাছে মানবিক বিবেচনাগুলো হারিয়ে গেছে। এরা ক্ষমতা ধরে রাখতে পুলিশের বুটের তলায় মানুষের ভোটাধিকার চেপে দেয়ার যে কলঙ্কজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেটিরই পুনরাবৃত্তি করার অঙ্গীকার করলেন আগামী নির্বাচনের জন্য। যারা ভোট ও বিসর্জন দিয়ে ন্যায়-বিচারের এথিকসের ধার ধারেন না কেবল তাদের দ্বারাই পূর্বে সংঘটিত যেকোনো ঘৃণ কাজের পূনরাবৃত্তিই হওয়াই সম্ভব।
রিজভী বলেন, নির্বাচন পূর্বাপর ব্যাপক সহিংসতা, রক্তপাত, ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করা, ধানের শীষের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ করে রক্তাক্ত করাসহ ধানের শীষের প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদেরকে পাইকারী হারে গ্রেফতার, আদালতকে ব্যবহার করে প্রার্থীতা বাতিলসহ ভোটের নামে নিষ্ঠুর তামাশায় শুধু দেশবাসীই নয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদে সোচ্চার। মানুষের ভোটাধিকার হরণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ন্যাক্কারজনক ভূমিকায় দেশবাসী হতবাক ও ক্ষুব্ধ। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন জনগণের ললাটে এক বিষাক্ত কাঁটা। তিনি বলেন, বর্তমান মহাজালিয়াতি, বিরামহীন ভোট ডাকাতির নির্বাচনে তৈরী নিষ্ঠুর কর্তৃত্মবাদী শাসন, গণতন্ত্র হরণ, বিরোধী দল ও মত নিধনের বিরুদ্ধে জনগণের প্রবল আন্দোলনের খরস্রোত ধেয়ে আসছে।
 দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও গ্রেফতারের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, রোববার মিথ্যে মামলায় হাজিরা দিতে গেলে কক্সবাজার নিম্ন আদালত কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জালাল আহমদসহ ১৪ জনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছে। বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছকে প্রধান আসামী করে ১২০০ জনের বিরুদ্ধে আবারও ৪টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রিজভী আহমেদ এই মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে তাদের বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ