ঢাকা,মঙ্গলবার 8 January 2019, ২৫ পৌষ ১৪২৫, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

স্থান না হলেও মন্ত্রিত্বের আশা ছাড়েনি মহাজোট শরিকরা

বিবিসি বাংলা : বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে কিন্তু এই মন্ত্রিসভায় স্থান পায় নি মহাজোটের শরিক দলের কোনো নেতা।
এর আগে তিনবার শরিক দলের নেতারা মন্ত্রী হলেও এবারই প্রথম কোনো শরিক দল থেকে মন্ত্রী করা হয় নি।
শরিক দলের একজন নেতা বলছেন, এটা নিয়ে তাদের সাথে আগে আলোচনা করা হয়নি। অন্য দলগুলো আশা করছে এখনো সময় রয়েছে আলোচনার মাধ্যমে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর। নতুন যে মন্ত্রীসভা শপথ নিয়েছে তার মধ্যে ২৫ টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ১৮টিতেই পরিবর্তন এসেছে।
এর মধ্যে দেখা গেছে শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু এবং জাতীয় পার্টি, যেটা জেপি নামে পরিচিত, সেই দলের আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন।
নতুন এই মন্ত্রিসভায় শরিক দলের কোনো নেতা মন্ত্রী হতে না পারাটাকে কীভাবে দেখছেন দলগুলোর নেতারা?
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন, যিনি পূর্ববর্তী সরকারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন, তিনি বলছিলেন এই মন্ত্রিত্বের বিষয়ে তাদের সাথে আগে আলোচনা করা হয় নি। যেটা তিনি অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন।
মি. খান বলেন “এটা একটা সাহসী পদক্ষেপ কোন সন্দেহ নেই। তবে এখানে যে অসুবিধাটা হলো সেটা হল এটা পুরোপুরি ভাবে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা হয়েছে।”
তিনি বলেন, ‘এখানে ১৪ দলের অন্য যেসব নেতা রয়েছেন তাদের সাথে আলাপ আলোচনা হয় নি। যেটা খুব অস্বাভাবিক ব্যাপার। আগামী দুই একদিনের মধ্যে এই সম্পর্কে একটা ব্যাখ্যা আমরা পাবো।’
উনিশশো ছিয়ানব্বই সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও জাসদের আ স ম আব্দুর রবকে মন্ত্রী করা হয়।
দু’হাজার আট সালে মহাজোট সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায় ১৪ দলের শরিকদের জাতীয় পার্টিসহ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ বড়–য়াকে টেকনোক্র্যাট কোটায় শিল্পমন্ত্রী করা হয়।
দু’হাজার চৌদ্দ সালের নির্বাচনে জাসদের হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননকে মন্ত্রী করা হয়।
এবারে এই দলগুলো থেকে কেউ মন্ত্রী হন নি। এখন পর্যন্ত ঘোষিত মন্ত্রীদের নামের মধ্যে শরিকদের কারো নাম না থাকার ফলে জোটের মধ্যে কি কোনো অস্বস্তির সৃষ্টি হবে?
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ বড়–য়া বলছিলেন ‘আমাদের ১৪-দলীয় জোটের মধ্যে এই নিয়ে কোনো রকমের সংশয়, দ্বিধা বা কোনো রকম সমস্যার সৃষ্টি হবে না। আমরা পলিটিক্যালি দেখছি, সেখানে ১৪ দল খুব সুসংহত। কাজেই এখানে মন্ত্রিত্বের বিষয়টি গৌণ।’
শরিক দলের কিছু নেতা মনে করছেন, মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার রয়েছে। সেখানে নতুনদের সুযোগ দেয়া এবং নতুন মন্ত্রিসভাকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা। তবে মন্ত্রিসভায় নাম লেখানোর এখনো সময় আছে বলে মনে করছেন কয়েকজন নেতা।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাধারণ সম্পাদক এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরিন আখতার বলছিলেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা প্রতিক্রিয়া আছে তবে, সবার উপরে তারা রাজনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এদিকে মহাজোটের আরেক শরিক দল, জাতীয় পার্টি এবার ২২টি আসন পেয়েছে। দলটি ঘোষণা করেছে, তারা সংসদে বিরোধী দল হিসেবে থাকবে এবং কোনো মন্ত্রিত্ব তারা চাচ্ছে না।
এর আগে জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধী দল হলেও তাদের চারজন সংসদ সদস্য সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।
মহাজোটের অন্য শরীক দলগুলোর মধ্যে এবারের নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির তিনজন, জাসদের দুইজন, বিকল্পধারা থেকে দুইজন, তরিকত ফেডারেশন ও জেপি-র একজন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ