ঢাকা,মঙ্গলবার 8 January 2019, ২৫ পৌষ ১৪২৫, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আলো ছড়াচ্ছে ‘চিরি নদীর বাতিঘর’

মোহাম্মাদ মানিক হোসেন চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) থেকে, ৫ জানুয়ারি : ‘চিরি নদীর বাতিঘর’ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি গ্রন্থাগার। প্রতিদিন শত শত পাঠক বই পড়তে ছুটে আসেন এখানে। বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে নিজেকে করেন বিকশিত। চিরি নদীর বাতিঘর নামের এই পাঠাগার তৈরি করেছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংগঠন স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব চিরিরবন্দর (স্যাক)। চলতি বছরের ১১ই মার্চ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্যাক চিরিরবন্দর উপজেলার ডাকবাংলোর পার্শে চালু করে চিরি নদীর বাতিঘর নামে গ্রন্থাগার। এখানে ১ হাজার ৬শত বই রয়েছে। এলাকার ২ শত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উপজেলার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এই গ্রন্থাগারের নিয়মিত পাঠক। তারা জ্ঞানের আলোয় নিজেকে আলোকিত করতে ছুটে আসে এখানে। গ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে চলে নিয়মিত পাঠচক্র, কবিতা পাঠ, স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি ও নানা প্রতিযোগীতার আয়োজন। এছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বিশেষ আলোচনাসভার আয়োজন করে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ। গ্রন্থাগারিক হিসেবে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মোকছেদ আলী। এই গ্রন্থাগারটি পরিচালনার জন্য রয়েছে একটি কমিট। যার সভাপতি হিসেবে রয়েছেন স্যাকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিবুর রহমান লাবু এবং সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামানসহ ২১জন সদস্য। গ্রন্থাগারটি পরিচালতি হয় উপদেষ্টা কমিটির আর্থিক অনুদান এবং সদস্যদের মাসিক চাঁদার বিনিময়ে। কথা হয় গ্রন্থাগারের নিয়মিত পাঠক সুদীপ্তা রায়ের সাথে তিনি বলেন, ‘চিরিনদীর বাতিঘরে হুমায়ুন আহমেদ ও জাফর ইকবাল স্যারের অসংখ্য বই, কিশোর আলো এবং বিজ্ঞান চিন্তাসহ অন্যান্য বইয়ের মাধ্যেমে আমরা পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বই পড়ার সুযোগ পাই। যা জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সহায়তা।
ক্ষুদে পাঠক চন্দ্রীমা রায় বলেন, এখানে শিশু সাহিত্যের সকল বই পড়ে ফেলেছি। বই পড়তে খুব মজা পাই। এরকম আরো বই চাই।’ দশম শ্রেণীর ছাত্র আমির আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ফেসবুক ও ইন্টারনেটে পড়ে থাকার চেয়ে বাতিঘরের পুরনো বইয়ের মধ্যে অনেক বেশী আনন্দ খুজে পাই। সময় পেলেই ছুটে আসি এই চিরিনদীর বাতিঘরে।’ গ্রন্থাগারের একজন নিয়মিত পাঠক চিরিরবন্দর উপজেলা  কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানান, ছাত্র সংগঠনের মাধ্যেমে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠানের উদ্যেগটি একটি অনন্য সাধারণ। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত বইগুলো গ্রন্থাগার থেকে নিয়ে পড়ছি। অনেকে এখান থেকে বই পড়ে উপকৃত হচ্ছে। আমি এর সমৃদ্ধি কামনা করি।’ কথা হয় গ্রন্থাগার কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমানের সাথে তিনি বলেন,‘এমন একটি সময় ছিল যেসময় চিরিরবন্দরে কোন গ্রন্থাগার ছিল না। সেই অভাব বোধ থেকে চিরিনদীর বাতিঘর নামে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের আর্থিক সহযোগীতা এবং অনেকে করেছেন বই দিয়ে সহযোগীতা। পাঠকদের চাহিদার বিপরীতে বইয়ের অপ্রতুলতা, আসবাবপত্রের অভাব এবং আর্থিক টানাপেড়েন থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন পাঠকদের আগমন আশার আলো জাগিয়ে তোলে। গ্রন্থাগারের মাধ্যেমে যুব সমাজ মাদক ও অতিরিক্ত ইন্টারনেট আসক্ততা থেকে মুক্তি পাবে এবং নিয়মিত বই চর্চার মাধ্যেমে জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হোক এই কামনায়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ