ঢাকা, বুধবার 9 January 2019, ২৬ পৌষ ১৪২৫, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

৫০ শয্যার কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভিত্তি আর পিলারেই ১১ বছর পার

মোঃ তারিকুল ইসলাম পান্নু, কাউখালী (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষে ২০০৮ সালে সম্প্রসারিত নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর পর থমকে আছে। তিন তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ কাজ স্থবির হওয়ার ফলে এ উপজেলার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা হতে বঞ্চিত হয়ে আছে। অপরদিকে ৩১ শয্যার অতি পুরাতন ভবনটি দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে জীর্ণদশা। পুরানো ৩১ শয্যার হাসপাতাল ভবন ধ্বসে পড়ার উপক্রম অন্যদিকে ৫০ শয্যার নতুন হাসপাতাল ভবনটি ভিত্তি আর পিলারেই দশ বছর পার। 

জানা গেছে, ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট মেসার্স নূরই এন্টারপ্রাইজ নামে বরিশালের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সম্প্রসারিত ৫০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণ কাজ পান। ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই কার্যাদেশের ১৮ মাসের মধ্যে সম্প্রসারিত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবার কথা। পরে ভবন নির্মানের ভিত্তির জন্য দুইটি পুকুর খনন করে ভিত্তি আর পিলার নির্মাণ পরবর্তী ফেলে রাখা হয়। এমন অবস্থায় স্থবির হয়ে পড়ে হাসপাতাল নির্মাণ কাজ। কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার এ ব্যাপারে আবেদন নিবেদন করার পর ২০১৪ সালের ২৫ শে জুন মেসার্স নূর-ই এন্টারপ্রাইজ নামের ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দরপত্রের কার্যাদেশ বাতিল করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে হাসপাতালের সম্প্রসারিত নতুন ভবন নির্মাণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৪ ইউনিটের ২টি নতুন আবাসিক ভবন নির্মান, একটি নতুন দ্বিতল বর্হিবিভাগ ভবন ও পুরনো হাসপাতাল ভবন এবং কোয়াটার গুলোর সংষ্কারের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতার জটিলতায় উপজেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।  হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পুরানো ৩১ শয্যার হাসপাতাল ভবনটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দুই জন চিকিৎসক নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসক সংকট ছাড়াও ১০ বছর পূর্বে ঘোষণা করা ঝুকিপূর্ণ ভবনে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটির দায়সারা চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনের ছাদ চুয়ে পানি পড়া, সিলিং ও ভিম থেকে কংক্রিট ভেঙে পড়া নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসস্থলের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। যে কোন সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা চিকিৎসক কর্মচারীদের। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় করুণ হাল বিরাজ করছে। পিরোজপুর জেলার ৭৯ দশমিক ৬৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাউখালী উপজেলাটি পাঁচটি ইউনিয়ন নিযে গঠিত। উপজেলা সদরের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৯ জন এবং ৫ ইউনিয়নে ৫ টি এফডব্লিউসিতে একজন করে চিকিৎসক থাকার কথা। 

এছাড়া বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ কোনো সমস্যায়ও ৬০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে যেতে হয়। গাইনী বিভাগ, এথেন্সিয়া বিভাগ, ডেন্টাল বিভাগ, প্যাথলজি বিভাগ, আরএমও বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক দীর্ঘদিন পর্যন্ত না থাকায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে উপজেলাবাসী রয়েছে। এক বছর পূর্বে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে ডা. লিটন ভুষন বড়ালকে পদায়ন করা হলেও তিনি যোগদান করে সেদিনই ঢাকার সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালে চলে যান। অপর একজন মেডিকেল অফিসার গত ৭/৫/২০১৬ তারিখে যোগদান করেই ৫ দিনের ছুটিতে যান। ছুটিতে গিয়ে আর তিনি এ হাসপাতালে ফিরে আসেননি। ওই চিকিৎসককে দুইদফা দিলে আবার ফেরৎ এসেছে। উপরন্তু কয়েকদিন পূর্বে তিনি দেড় মাসের মেডিকেল ছুটির আবেদন পাঠিয়েছেন। আর একজন মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়ালিউর মিরাজ দুই মাসের ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে করে এসেছেন।  এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, বহুবার আবেদন নিবেদনের পরও ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করনের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশল বিভাগের গাফিলতির কারনে ভবন নির্মাণ থমকে আছে। ১১ বছর পূর্বে ৩১ শয্যার পুরানো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটি ঝুকিপুর্ন ভবন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিকল্প কোনো ভবন না থাকায় জরাজীর্ণ ভবনে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ