ঢাকা, বুধবার 9 January 2019, ২৬ পৌষ ১৪২৫, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঝিনাইগাতীতে অর্থাভাবে প্রতিবন্ধী পপি’র পড়ালেখা বন্ধের পথে

মো. আসাদুল্লাহ সিরাজী, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) থেকে : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে অর্থাভাবে প্রতিবন্ধী পপি আক্তারের পড়ালেখা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পপি আক্তার (১৪) উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের কান্দূলী গ্রামের দিন মজুর মোঃ জয়নাল আবেদীনের কণ্যা। পপি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। দু’হাত ও দু’পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। ১ভাই ২বোনের মধ্যে পপি আক্তার দ্বিতীয়। পিতা জয়নাল আবেদীন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। বড় ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। পপি’র ছোট বোন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। পপি’র মা নাজমা খাতুন অন্যের বাড়ীতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে যা আয় হয় তাই দিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে চলে তাদের সংসার। জানা যায়, পপি জন্মের পর থেকেই প্রতিবন্ধী। স্কুল পড়ুয়া প্রতিবন্ধী পপি ও তার পরিবারের অভাব-অনটন ও দৈন্যদশার ঘটনার বিষয় নিয়ে ২০১৬ সালে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে সময় পপি পার্শবতী শ্রীবরদী উপজেলার ভটপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ সময় অর্থাভাবে পপি’র পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রমের প্রতিবেদনটি দৃষ্টি গোচর হয় শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস আলমের। তিনি প্রতিবন্ধী পপি’র পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ ও পরিবারের দৈন্যদশা দেখে পপি’র পড়ালেখার ব্যয়ভার তুলে নেয় তার নিজ হাতে। এস আলমের দেয়া অর্থে, অনায়াসে নবম শ্রেণি থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পপি। এসএসসিতে ৫ বিষয়ে এ প্লাসসহ পপি সকল বিষয়ে ফলাফল ভালো করলেও গণিত ও অর্থনৈতিক এ দুই বিষয়ে সে অকৃতকার্য হয়। ইতোমধ্যেই (ওসি) এস আলম বদলী হয়ে অন্যত্র চলে গেলে পড়ালেখার খরচে আবারও টানা পরনের মধ্যে পরে পপি। ২০১৯ সালে ওই ২ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যে ধার-দেনা করে ফরম ফিলাপ করেছে সে। কিন্তু অর্থাভাবে প্রাইভেটও পড়তে পারছে না সে। ভটপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা ইয়াসমিন লাকী বলেন, পপি পড়ালেখায় একজন ভালো ছাত্রী। পপি জানায়, পড়ালেখার প্রতি তার খুব আগ্রহ। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অভাব-অনটন ও নানাবিধ দৈন্যদশার কারণে এসএসসি পাশের পর তার হয়তো আর পড়ালেখা করা সম্ভব হবে না। তবে আর্থিক সহায়তা পেলে সে পড়ালেখা চালিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে পপি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ