ঢাকা, বুধবার 9 January 2019, ২৬ পৌষ ১৪২৫, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মাঠে-মাঠে সোনালী ধানের ঝিলিক পাথরঘাটায় আমনের বাম্পার ফলন

পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা এলাকার একটি মাঠে সোনালী ধান কাটছে কৃষক

পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা : উপকূলীয় এলাকা বরগুনার পাথরঘাটা কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে অন্যতম। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ফসলের মাঠে এখন সোনালী ধানের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও আংশিক আধাপাকা থাকলেও প্রায় মাঠেই এখন ধান পেকে সোনালী রূপ ধারণ করেছে। জানা গেছে, চলতি মওসুমে আশানুরূপ বৃষ্টি কম হওয়ায় এবার রোপা আমন নিয়ে শঙ্কায় ছিল কৃষক। তবে শেষের দিকে কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় আশা নিরাশার দোলায় সকল বৈরিতা কাটিয়ে আমনের ভালো ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার ৭ ইউনিয়নে এবার ১৭ হাজার ৪শত ৫০ হেক্টর রোপা আমনে লক্ষ্যমাত্রা অটুট আছে। ফসলের মাঠজুড়ে বাতাসে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন-আমন ধান। পোকার আক্রমণ আর নানা রোগ-বালাইয়ের পরও এবার আমনের বাম্পার ফলনের সুবাস পাচ্ছেন কৃষকরা। কৃষক পরিবারে এখন ধানের মৌ মৌ গন্ধ। মাঠে মাঠে আনন্দে ধান কাটছে চাষিরা। আমনের বাম্পার ফলন আর নবান্নের আনন্দে আজ বাংলার মাঠ-ঘাট ভরে উঠেছে সোলানী ফলন। পাথরঘাটার মাঠে-ঘাটে পাকা ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। কৃষাণ-কৃষাণীদের মনে বইছে আনন্দের বন্যা। উপজেলা জুড়ে আমন ধানের বাম্পার ফসলে আবারো বাধ-ভাঙা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছে কৃষক। আর এ সোনালী ফসলের মনোরম দৃশ্য এখন গোটা উপজেলার মাঠ জুঁড়ে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। ধান কাটার মহোৎসবে ব্যাস্ত সময় পার করছেন এখানকার কৃষকরা। শীতের সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত মাঠে-মাঠে ফসল কাটার চিরাচারিত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে গ্রামজুড়ে। কৃষকরা একদিকে ধান কেটে বাড়ির আঙ্গিনায় জড়ো করছেন। অপরদিকে সেই ধান মাড়াই মেশিন দিয়ে মাড়াইয়ের কাজ সম্পন্ন করে নিচ্ছেন। মাড়াই শেষে বাতাসে ধান উড়িয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করে গোলায় তোলার কাজে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষাণীরা। চলছে উপজেলার গ্রামে-গ্রামে ও মাঠের পর মাঠ সোনালী ফসল ঘরে তোলার মহা উৎসব। বাতাসে ছড়ানো আমনের মৌ-মৌ গন্ধ আর কৃষক-কৃষাণীদের ফসল ঘরে তোলার কর্মব্যাস্ততা এক অন্যরকম আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল জানান, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা স্বত্বেও রোপা আমন ধান চাষাবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। আমাদের দেশের স্বনির্ভবতার সবচেয়ে বড় অর্জন এই ধান। তাই ধান চাষাবাদে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। তবে আশা করা হচ্ছে কৃষকেরা আশানারুপ ফলন গোলায় তুলতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ