ঢাকা, বুধবার 9 January 2019, ২৬ পৌষ ১৪২৫, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প শুরুর আগেই মেয়াদ শেষের পথে

খুলনা অফিস : ১২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ উন্নয়ন প্রকল্প পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। আগামী জুন মাসে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না। এতে করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। প্রকল্প শুরু করার পর কেডিএ নানা বাধার সম্মুখিন হচ্ছে। এতে করে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা ও বাধাগুলো অপসারণ করতে মেয়রের সমন্বয়ে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সড়কটি হলে এলাকার পরিবেশ আমূল পরিবর্তন হবে। শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ও জেলা প্রশাসনের ত্রি-পক্ষীয় সভা সোমবার সকালে কেসিসির মেয়র দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প নিয়ে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় শিপইয়ার্ড সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরা হয়। রূপসা চৌরাস্তা মোড় থেকে খানজাহান আলী সেতু (রূপসা) পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানকল্পে ত্রি পক্ষীয় বৈঠকে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। অংশ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. ইকবাল হোসেন, কেসিসি প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম, কেডিএ’র চীফ ইঞ্জিনিয়ার সাবিরুল আলম, কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ মো. মশিউজ্জামান খান, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন, কেডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জিহাদ, সিনিয়র বৈষয়িক কর্মকর্তা জিএম মাসুদুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী আরমান হোসেন। কেসিসির মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে যেসব স্থাপনা পড়েছে ওইসব স্থাপনার মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা নিয়ে এ বৈঠক হয়। জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কেডিএ’র চীফ ইঞ্জিনিয়ার সাবিরুল আলম বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয় ২০১৩ সালে। ১২৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি আগামী জুন’১৯ শেষ হবে। চার লেনের এ সড়কটি লম্বায় ৩.৭৭৮ কিলোমিটার। সড়কের দু’পাশে দু’শতাধিক স্থাপনা রয়েছে। যা অধিগ্রহণ করা এবং তার অধিকাংশই উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে শিপইয়ার্ডের বাউন্ডারী ওয়াল, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কিছু বরাদ্দ দেওয়া স্থাপনা রয়েছে। যা উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। সড়কের মাঝে ডিভাইডার থাকবে। সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ, সড়কের উভয় পাশে থাকবে ড্রেন, ফুটপাত এবং ওয়াকওয়ে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সাল জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। কাজের সময় এসব স্থাপনায় যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে তার জন্যই মেয়রকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের সাথে সমন্বয়ের জন্য এ বৈঠকের আয়োজন। সব কিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ মো. মশিউজ্জামান খান বলেন, এ সড়ক করতে গিয়ে কেডিএ কিছু সমস্যায় পড়ে। তার মধ্যে স্থ্পানা নির্মাণকারীদের ক্ষতিপূরণ, শিপইয়ার্ডের ওয়াল অপসারণসহ কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক ও কেডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আরমান হোসেন বলেন, এ সড়কের কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া স্থাপনার মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ সব মিলিয়ে প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ