ঢাকা, বুধবার 9 January 2019, ২৬ পৌষ ১৪২৫, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনার ঝিমিয়ে পড়া সিকিউরিটিজ হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীরা সরব

খুলনা অফিস : পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেনের পালে আবারো হাওয়া লেগেছে। যে কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকার বিনিয়োগকারীদের মতো খুলনার বিনিয়োগকারীরাও বাজারমুখী হয়েছেন। এতে ঝিমিয়ে পড়া সিকিউরিটিজ হাউজগুলোতে আবার বিনিয়োগকারীদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। শিল্প ও বন্দরনগরী খুলনার ১৭টি সিকিউরিটিজ হাউজের বেশ কয়েকটি হাউজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেও এমন চিত্র পাওয়া যায়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। দিনদিন বিনিয়োগকারীশূন্য হয়ে পড়ছিল হাউজগুলো। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফের আস্থা ফিরেছে। আর এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আগের সরকার বহাল থাকায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাজার। নির্বাচনের পরপরই নড়েচড়ে উঠেছেন বিনিয়োগকারীরা। প্রতিদিনই বাড়ছে সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। এসব কিছুকে ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে বাজার স্থিতিশীল থাকায় যেসব বিনিয়োগকারী বাজারবিমুখ হয়ে পড়েছিলেন, তাদের অনেকে বাজারমুখী হতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি কিছু নতুন বিনিয়োগকারীও বাজারে প্রবেশ করছেন বলে জানিয়েছেন সিকিউরিটিজ হাউজ কর্মকর্তারা।
সিকিউরিটি হাউজ কর্মকর্তারা জানান, বেশ কিছু শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে তা বিক্রি করে মুনাফা তুলছেন। বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোয় খুলনার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। যেসব বিনিয়োগকারী বেশ কিছুদিন সাইড লাইনে ছিলেন তারা হাউজে আসতে শুরু করেছেন।
আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ হাউজের খুলনা শাখা ব্যবস্থাপক তাপস কুমার সাহা বলেন, নতুন বছর শুরুর আগ থেকেই পুঁজিবাজারে সব শ্রেণীর বিনিযয়াগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়ায় লেনদেনের গতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। যার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট কেটে গেছে। তারা নিয়মিত হাউজে এসে লেনদেন করছেন।
ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের খুলনা শাখা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, নতুন বছরে ফের পুঁজিবাজারের লেনদেনের পালে হাওয়া লেগেছে। যে কারণে সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা হাউজে আসতে শুরু করেছেন। এতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে হাউজগুলো। আমাদেরও কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। বাজারে লেনদেনের যে ধরণ তা বিনিয়োগকারীদের মনে আশা জাগিয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কেটেছে বলে মনে করেন তিনি।
এই হাউজের বিনিয়োগকারী আবদুর রাজ্জাক ও হাবিবুর রহমান বলেন, সংসদ নির্বাচনের পর পুরো পাল্টে গেছে পুঁজিবাজারের চিত্র। প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন উঠে এসেছে হাজার কোটি টাকায়। গেল বছরের শেষ তিন মাসে পুঁজিবাজারের যে ধস নেমেছিল, সেটি নতুন বছরের শুরতেই কেটে গেছে। যে কারণে আমাদের মধ্যে আস্থার সংকট কেটে গেছে।
স্বস্তি প্রকাশ করে জয়তুন সিকিউরিটিজ হাউজের বিনিয়োগকারী আনোয়ারুল ইসলাম কাজল বলেন, নতুন বছরে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই চলছে পুঁজিবাজার। দীর্ঘ মন্দার পর অতীতের হতাশা দূরে ঠেলে নতুন বছরে ভালো একটি পুঁজিবাজারের প্রত্যাশা করেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। নতুন বছরের শুরু থেকেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ফলে শেয়ারের দাম বাড়ছে। তিনি জানান, বাজার টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকায় তার ১ লাখ ১২ হাজার টাকার ক্ষতি পুষিয়ে এখন ১৩ হাজার টাকা মুনাফা রয়েছে। 
খুলনা ইনভেস্টর ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ ডাকুয়া বলেন, বেশ কিছুদিন বাজার ভালো থাকলে বিনিয়োগকারীরাও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হন। যেমনটি এখন হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগ করছেন। এছাড়া ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বর্ষ শেষ হওয়ায় এখন বিনিয়োগকারীরা এসব খাতের দিকে আগ্রহী হচ্ছে। ফলে সব খাতের লেনদেনও আগের তুলনায় বেড়েছে।
তিনি মনে করেন, নির্বাচনের আগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে শঙ্কা ছিল, তা এখন কেটে গেছে। বাজারের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আশা করা যায়, আগামীতে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি অর্জন করতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ