ঢাকা, বুধবার 9 January 2019, ২৬ পৌষ ১৪২৫, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রতিপক্ষের ভয়ে গ্রামছাড়া ২০০ পরিবার ॥ ভেঙে দিয়েছে বাড়িঘর

সংগ্রাম ডেস্ক : নড়াইলে প্রতিপক্ষের ভয়ে দীর্ঘ আট মাস গ্রামছাড়া দুই শতাধিক পরিবার। গ্রাম্য কোন্দলের জেরে পরিবারগুলো বাড়িছাড়া। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পার-মল্লিকপুর গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার বাড়ি যেতে পারছে না।
এসব পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করছেন।
এলাকাবাসী জানায়, পার-মল্লিকপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হেমায়েত হোসেন হিমু ও উজ্জ্বল ঠাকুর গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। গত বছরের ২১ এপ্রিল সংঘর্ষে উজ্জ্বল ঠাকুর গ্রুপের খায়ের মৃধা নামে একজন নিহত হয়।
নিহতের ঘটনায় উজ্জ্বল ঠাকুর গ্রুপের সঙ্গে হেমায়েত হোসেন হিমু গ্রুপের বিরোধ চরমে ওঠে। এ ঘটনায় হিমু গ্রুপের লোকজনের অন্তত ২০০ বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। খুলে নেওয়া হয়েছে জানালা, দরজাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র।
হিমু গ্রুপের হেমায়েত হোসেন হিমু জানান, তাদের পক্ষের পাকা বাড়ি-আধা পাকা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
হিমু গ্রুপের ওহিদুজ্জামান নামে একজন জানান, খায়ের মৃধা হত্যার পর থেকে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত গ্রাম ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও শহরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ নষ্ট করেছে প্রতিপক্ষের লোকেরা। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
তবে এ ব্যাপারে উজ্জ্বল গ্রুপের উজ্জ্বল ঠাকুর বলেন, ২০১৬ সালে হিমু গ্রুপের নূর ইসলাম ও ইকবাল মৃধা খুন হন। তখন আমাদের পক্ষের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এবার আমাদের পক্ষের খায়ের মৃধা খুন হওয়ায় লোকজন ওদের কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। উভয়পক্ষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে, সে জন্য লোহাগড়ার থানার ওসি সাহেব আমাদের ডেকেছিলেন। আশা করা যায় ঝামেলা মিটে যাবে।
এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার ওসি প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে দুপক্ষকে ডেকে মিলেমিশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ