ঢাকা, বুধবার 9 January 2019, ২৬ পৌষ ১৪২৫, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গতকালও সড়কে ঝরে গেল ৫ প্রাণ

সংগ্রাম ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার থেকে ১০ টার মধ্যে এ ঘটনাগুলো ঘটেছে। শীর্ষকাগজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার কল্যাণপুরে ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার কয়লার দিয়াড় গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান পলাশ (৩২) ও কলেজপাড়া মহল্লার সালাহউদ্দিনের ছেলে মশিউর রহমান পপেল (৩১)।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কল্যাণপুর হর্টিকালচার সেন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে থেমে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে অপর একটি ট্রাকের ধাক্কায় চালক নিহত হয়েছেন। নিহত ট্রাকচালকের নাম মাহেন্দ্র সরকার (৪৫)। সে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের কাঠালতলী এলাকার মৃত পরিমল সরকারের ছেলে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, গতকাল সকালে উপজেলার সরাতৈল এলাকায় রাস্তার পাশে একটি ট্রাক থেমে ছিল। পেছন থেকে এসে আরেকটি ধাক্কা সেটিকে দেয়। এতে ধাক্কা দেয়া ট্রাকের চালক মাহেন্দ্র সরকারের মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে লরিচাপায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে নগরের ইপিজেড মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন বরগুনার রাজু মিয়া (৪০) বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, ইপিজেড মোড়ে একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এ সময় লরির নিচে চাপা পড়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  হাসপাতালে পাঠানো হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, লরিচাপায় গুরুতর আহত দুইজনকে ভোর ৬টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চার হন্তারক গ্রেফতার
চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় মো. ফারুক (২৭) খুনের ঘটনায় জড়িত চার আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত নগরের বন্দর ও পতেঙ্গা থানার বিভিন্ন জায়গায় একটানা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার চার আসামি হলেন- মো. রাশেদ (৩৫), মো. মামুনুর রশিদ (৩০), মো. সজিব (২০) ও মো. ইলিয়াছ (৩২)।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর জোন) মো. হামিদুল আলম এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করে চার আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। মো. হামিদুল আলম জানান, মো. রাশেদ, মো. মামুনুর রশিদ, মো. সজিব ও মো. ইলিয়াছসহ ৭/৮ জন মিলে সোমবার মো. ফারুককে পিটিয়ে খুন করে। তবে কেন খুন করেছে সে বিষয়টি এখনও ক্লিয়ার নয়। আমরা খুনের কারন উদঘাটনে কাজ করছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) মো. জাহেদুল ইসলাম ও পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া।
সোমবার সকালে পতেঙ্গা থানার পুরাতন কন্ট্রোল মোড়ের আসিফ স্টোরের সামনে মো. ফারুককে পিটিয়ে জখম করে ৭/৮ জন যুবক। পরে মারা গেছে ফারুককে ফেলে যায় তারা। ফারুকের ভাই মো. জসিম খবর পেয়ে ফারুককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় ফারুক। এ ঘটনায় মো. রাশেদকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন ফারুকের ভাই মো. জসিম। ফারুক খুনের ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান ওসি উৎপল বড়ুয়া।
৩ লাখের বেশি তাসের প্যাকেট আটক
৩ লাখ ৪ হাজার ৯২০ ইউনিট (প্যাকেট) প্লেয়িং কার্ড বা তাস আটক করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। ঘোষণা ছাড়াই অন্য পণ্যের সঙ্গে কনটেইনারে ভরে বন্দরে প্লেয়িং কার্ড বা তাসগুলো নিয়ে আসা হয়েছিল। শুল্ককরসহ চালানটির মূল্য ১ কোটি ৩৫ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩২ টাকা। ন্যায় নির্ণয়সহ শুল্ককরাদি আদায়ের জন্য শুল্ক গোয়েন্দার প্রতিবেদন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চালানটি (সি-৬৮২৩৯০) আমদানি করে। এটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স নুরুচ্ছফা ইন্টারন্যাশনাল (প্রা.) লিমিটেড।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটি আটক করে কায়িক পরীক্ষা করা হয়। যাতে ঘোষণা অনুযায়ী পলিশিং প্যাডস ও টুথ ব্রাশ (অর্ডিনারি) পাওয়া গেলেও ৩ লাখ ৪ হাজার ৯২০ প্যাকেট তাস পাওয়া যায়। পণ্য চালানটির শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৭৬ লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৪ টাকা এবং মোট শুল্ককরাদির পরিমাণ ৫৮ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৮ টাকা। শুল্ককরসহ পণ্য চালানটির মোট মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩২ টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ