ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 January 2019, ২৭ পৌষ ১৪২৫, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হচ্ছে খুলনাঞ্চলের বোরো বীজতলা

খুলনা অফিস : কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হচ্ছে খুলনাঞ্চলের বোরো বীজতলা। শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশা এবং লবণাক্ততার কারণে বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খুলনা জেলায় এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৫শ ৮০ হেক্টর।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলায় এবার বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর। বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর। ইতোমধ্যে বোরো রোপণ হয়েছে ৭০ হেক্টর জমিতে এবং বীজতলা তৈরি হয়েছে ২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। রবি/খরিপ-১ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার ২৪৫ জন কৃষককে দেয়া হয়েছে বীজ এবং সার। খুলনা জেলায় বার্ষিক খাদ্য চাহিদা রয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার ১৯১ মেট্রিক টন। ২০১৭-২০১৮ বছরে খাদ্যশস্য (চাল, গম) উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৩৭ হাজার ১৬৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ২০১৭-২০১৮ বছরে খাদ্য উদ্বৃত্ত হয় ৬০ হাজার ৫০৯ মেট্রিক টন।

আবহাওয়া অফিস খুলনার আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ জানান, এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে আগামী সপ্তাহে আবারও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

নড়াইল টোনা’র বেসরকারি আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. পারভেজ আহমেদ পলাশ জানান, ১৬ জানুয়ারির পর থেকে আর একটি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ঠা-ার কারণে এবং দেরীতে বীজতলা বপন করায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে লবণাক্ততার কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত কোল্ড ইনজুরি প্রতিরোধে কৃষকের করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি।

ডুমুরিয়ার বাদুড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম, মঠবাড়িয়া গ্রামের সোহেল রানা, চাকুন্দিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম মোড়ল ও আব্দুস সবুর জানায়, এ বছর আমাদের ধানের পাতা মরে যাওয়ায় উচ্চমূল্যে পাতা ক্রয় করে জমি চাষাবাদ করতে পারব কি না জানি না। উপজেলার বাইরে থেকে চড়া দামে পাতা ক্রয় করে রোপণ করলেও তা নোনার কারণে মারা যাচ্ছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন (লবণচরা) কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জেসমিন ফেরদৌস জানান, তীব্র শীত পড়লে কৃষক কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তখন বীজতলার ওপর সাদা পলিথিন ব্যবহার এবং দিনে ও রাতে বীজতলার পানি পরিবর্তন করে সে সমস্যার সমাধান করে থাকে স্থানীয় কৃষকেরা। এসব বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল লতিফ জানান, আমরা ২০১৭-২০১৮ বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলন অর্জন করতে সামর্থ্য হয়েছি। বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় না হলে এবারও বাম্পার ফলন হবে। শীতের মধ্যেও কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছে বোরো আবাদে। কিছু কিছু জায়গায় বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যারা দেরীতে বীজ বুনেছে তাদের সমস্যাটা একটু বেশি। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও কিছু জমিতে লোনার প্রভাবেই বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। বীজতলা রক্ষায় প্রতিদিন সকালে ঠান্ডা পানি বের করে দিয়ে নতুন পানি দেয়া যেতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ