ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 January 2019, ২৭ পৌষ ১৪২৫, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনা বিভাগের পাঁচ জেলায় মৎস্য খাতে কৃষি ব্যাংক ৪৩০ কোটি টাকা ঋণ দেবে 

 

খুলনা অফিস : চলতি অর্থবছরে খুলনাঞ্চলের পাঁচ জেলায় মৎস্য খাতে ৪৩০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি ব্যাংক। এর আগের অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২২০ কোটি টাকা। এ অঞ্চলের জেলাগুলো হচ্ছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর ও নড়াইল। মূলত আমিষ জাতীয় খাদ্যের ঘাটতি পূরণ ও সব ধরনের মাছ রপ্তানি বৃদ্ধিতে কৃষি ব্যাংক এ উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যেই ২৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। সহজ শর্ত এবং বার্ষিক শতকরা ৯ টাকা সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে।

কৃষি ব্যাংক’র সূত্র জানান, ৫ জেলায় ব্যাংকের ৮৮টি শাখার মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ১৩৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয়। তার মধ্যে শুধু চিংড়ি চাষের জন্য ৭০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এ খাতে ২১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ হয়। গলদা ও বাগদা চাষের এলাকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাগেরহাটের মংলা, রামপাল, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, খুলনার পাইকগাছা, ডুমুরিয়া, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, সাতক্ষীরার তালা, শ্যামনগর, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, নড়াইলের কালিয়া, যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর।

ব্যাংকের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আবু হাসিম মিয়া জানান, মৎস্য খাতে দ্বিগুণ ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ায় চাষিরা উৎসাহিত হয়েছে। বিশেষ করে এ ঋণ পেয়ে চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে। মহাজনের চড়া সুদ থেকে গ্রামের প্রান্তিক চাষিরা রেহাই পাবে।

ব্যাংকের খুলনাস্থ মুখ্য আঞ্চলিক পরিচালক মো. টিপু সুলতান জানান, জেলার ২০টি শাখায় এ অর্থবছরে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এ ঋণে খুলনা জেলার ২ হাজার ৪৭০ জন মৎস্য চাষি উপকৃত হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে, গত অর্থবছরে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭৩ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণ হয় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সাতক্ষীরাস্থ উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, গত অর্থবছরের চেয়ে এবারে জেলায় ২৪ কোটি টাকা বেশি মৎস্যখাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। সাদা মাছের জন্য তালা, কলারোয়া ও সাতক্ষীরা উপজেলা সদরে এবং চিংড়ি আবাদের জন্য আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর উপজেলা, জেলা সদরের আংশিক ও তালা উপজেলা সদরের আংশিক এলাকায় ঋণ বিতরণ করা হয়। খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু ছাইদ জানান, জেলায় গত অর্থবছরে ৩৬ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে ১২ হাজার ৪৬৩ মেট্রিক টন বাগদা এবং ২০ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন গলদা উৎপাদন হয়। ২০১৮ সালে জেলায় ২৬ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমিতে ৬ হাজার ৪১ মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো খুলনার সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গেল অর্থবছরে ২২টি প্রতিষ্ঠানের ৫৭২ কোটি টাকার চিংড়ি এবং ১ কোটি ৪১ লাখ ৩৭২ টাকার মূল্যের কাঁকড়া যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামে রফতানি হয়। চিংড়ি রফতানি হওয়া দেশগুলো হচ্ছে রাশিয়া, ইতালী, স্পেন, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক, জার্মান, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, লিথুনিয়া, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কৃষি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ সহজ শর্ত হওয়ায় প্রান্তিক চাষিরা মহাজনের চড়া সুদ থেকে রেহাই পাবে। প্রতি বছর চিংড়ি খাতে মড়ক এবং আইলা নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুঁজি হারানো কৃষকদের উৎসাহিত, আমিষের ঘাটতি পূরণ এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংক এ উদ্যোগ নিয়েছে। মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া চাষেও ঋণ দেয়া হচ্ছে। খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষের সম্প্রসারণ হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ