ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 January 2019, ২৭ পৌষ ১৪২৫, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রসঙ্গ : পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল

রহিমা আক্তার মৌ : “স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও শিক্ষানীতির বলি কোমলমতি শিশুরা”
অভ্র আমার ছোট সন্তান, এবার ২০১৮ সালে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ২৪ ডিসেম্বর ঘোষিত ফলাফলে সে ৪.৭১ নাম্বার পায়। ওর আরেকটা পরিচয় হল ও শিশুতোষ গল্প লিখে পত্রিকায় পাশাপাশি আর্ট একাডেমিতে আর্ট শিখে। ৪/৫ দিন আগে অভ্রকে ওর ছোট মামার বাসায় বেড়াতে দিয়ে আসি, ২৪ ডিসেম্বর ফলাফল দিবে বলে আমি ওকে আনতে যাই। ছোট ভাই বলে-
নিবি কি করতে? ঘরে বসেই ফলাফল পাওয়া যাবে।
আরে ভাই স্কুলে সবার সাথে দেখার আলাদা আনন্দ আছে।
দুপুর ১২ টায় আমি ওকে নিয়ে বাসায় আসি। পথে বাসে বসে ওকে বলি-
তুই যা পাবি তাতেই আমি খুশি। তুই নবম শ্রেণীতে উঠ আমি এটাই চাই।
আমার কথা শুনে ওর চোখ বড়, কি বলছো আম্মু  এটা কি আসলেই তুমি বলছো।
হ্যা আমি বলছি, তুই পাশ করলেই হবে।
পাশে বসা এক মহিলা বলেন-
একি কথা, ঢাকা শহরে থাকেন পড়ান, পাশ করলেই হবে এ কেমন কথা। ভালো করতে হবে ওকে।
না, এ প্লাস না পেলে আমি দুঃখ করব না। যে দেশের শিক্ষানীতি ৪৭ বছরেও ঠিক হয়না, সে দেশের জেএসসি পরীক্ষার মতো একটা পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আমার কোন আফসোস নেই।
অভ্রকে নিয়ে বাসায় আসি, ওর বাবা রোল চায়, ওর বোন রোল চায়। সবাইকে খুদেবার্তা দিই। রেজিস্টেশন নাম্বার আর রোল। অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকি। ওর প্রিয় বান্ধবী কল করে জানায় সে জিপিএ ৫ পেয়েছে। আমাদের অপেক্ষা বাড়তে থাকে। মোবাইলে নেট স্লো তাই অভ্র’র ফল পাচ্ছি না। একদিকে বড় মেয়ে অফিসে বসে চেষ্টা করছে অন্যদিকে আমরা।
১৬২২২ নং এ খুদেবার্তা দিয়ে ফিরতি খুদেবার্তার মাধ্যমে ফলাফল পেলাম। অভ্র চুপ। বিশ্বাস করতে পারছেনা সে জিপিএ  ৪.৭১ পেয়েছে। আমি ওকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। ওর বাবা আহসানকে আর বড় মেয়ে মালিহাকে কল দিয়ে ফলাফল জানাই। আহসান কিছু না বললেও মালিহা বলে-
অভ্র যেন মন খারাপ না করে।
অভ্র পরপর কয়েকটা ফলাফল বের করে ওর স্কুলের প্রথম দ্বিতীয় ছাত্রীদের। ওর মাথায় হাত। প্রথম দ্বিতীয় যারা তারাও জিপিএ ৫ পায়নি। তখন সে হেসে উঠে বলে-
যাক কষ্ট কিছু কমেছে।
এরমাঝে আহসান কল করে জানায় ওর মেজো বোনের ছোট ছেলেও জিপিএ ৪.৭১ পেয়েছে। আহসানকে জানিয়ে দিই যারা অভ্র’র ফলাফল শুনে আফসোস করবে তারা যেন কল না করে।
খাওয়া দাওয়া করে মোবাইল সাইলেন্ট করে মা মেয়ে দিলাম ঘুম। জানি অনেকেই কল করবে। ৪টার পর উঠে আমি নামাজ পড়ি। ফেইসবুক অন করে দেখি জিপিএ ৫ এর পোস্ট আর পোস্ট। কারো মেয়ে কারো ছেলে, কারো ভাই কারো বোন। অনেককে অভিনন্দন জানাই। ভাবলাম, আজ অভ্র জিপিএ ৫ পেলে আমিও পোস্ট দিতাম। কিন্তু জিপিএ ৪.৭১ পেয়েছে বলেই হয়তো পোস্ট দিইনি। তাই একটা পোস্ট দিই-
“আপনাদের প্রিয় গল্পকার অভ্র জিপিএ ৪.৭১ পেয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ্ আমি খুশি।”
প্রথম কমেন্টে এক গল্পকার লিখেন- “ওর লেখাপড়ায় আরো মনযোগী হোন”
অভিনন্দন জানিয়েছেন অনেকে। যিনি প্রথম কমেন্টে “ওর লেখাপড়ায় আরো মনযোগী হোন” লিখেছেন তিনি জানেন আমি লেখালেখি করি, ঘর সংসার সামলিয়ে লিখি। হয়তো সন্তানদের লেখাপড়ায় তেমন খেয়াল করিনা। (প্রসঙ্গে উল্লেখ করি- আমার বড় সন্তান এসএসসি এইচএসসি তে জিপিএ ৫ পায়। কোন কোচিং না করিয়ে ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি পরীক্ষা দেওয়াই। যেখানে সে বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি পরীক্ষায় ক ইউনিটে ইংরেজিতে মাত্র দুজন পাশ করে, আমার সন্তান ঘ ইউনিটে ইংলিশে ২০ এর মাঝে ১৭ পায়। সে ঘ ইউনিটে চাঞ্চ পেলেও আমি ভর্তি করাইনি। কারণ ওকে সিএ পড়াব ঠিক করি।) আমি কি দুইজনকে এক করলে চলবে? নাকি দুইজনের সময় আমাদের শিক্ষানীতি এক ছিলো? কখনোই নয়। তাই বলে আমার ছোট সন্তান লেখাপড়ায় খারাপ নয়। কিছুক্ষণ পর ফেইসবুক পোস্ট ডিলেট করে দিই। সন্ধ্যার পর টিভি সংবাদে শুনি-
অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় এবার পাসের হার ২ দশমিক ১৮ শতাংশ বাড়লেও জিপিএ-৫ কমেছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৩। এবার এ পরীক্ষায় পাস করেছে ৮৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৮ হাজার ৯৫ জন। গত বছর জেএসসি-জেডিসিতে সম্মিলিতভাবে ৮৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। এর মধ্যে ১ লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘আগে অষ্টমের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয়ের নম্বর ধরেই ফলাফল হিসাব করা হতো। মূল্যায়ন পদ্ধতির ধারাবাহিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এবার তা করা হয়নি। এ কারণেই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। চতুর্থ বিষয়ের নম্বর যোগ করলে দেখা যাবে জিপিএ-৫ আবার বেড়ে গেছে’।
সত্যিই অবাক না হয়ে পারলাম না মাননীয় মন্ত্রীর কথা শুনে। প্রিয় পাঠক দেখুন মন্ত্রী সাহেব কি বলছেন- ‘চতুর্থ বিষয়ের নম্বর যোগ করলে দেখা যাবে জিপিএ-৫ আবার বেড়ে গেছে’।
তাহলে প্রশ্ন হল-
অভ্র’র ফলাফলের সাথে চতুর্থ বিষয়ের নম্বর যোগ কি আমিই করে দিবো?
চতুর্থ বিষয়ের নম্বর যোগ করা হলো না কেন? আগাম কোন ঘোষণা না দিয়ে কেন পাবলিক পরীক্ষায় কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যতকে বলি দিচ্ছে?
চতুর্থ বিষয়ের নম্বর যে যোগ করা হবে না, সেটা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগে জানিয়ে দেয়া হলো না। কেন? পরীক্ষা শেষে রেজাল্ট দেয়ার সময়ই বা সেটা জানানো হলো। কেন? বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ আসে ব্যবহারিকের নম্বর যোগ হওয়ায়। বিষয়টি পরীক্ষার আগে জানালে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই সচেতন থাকতে পারত। একদিকে ব্যবহারিক পড়া খাতা বাড়ির কাজের নামে ৬-৮ টা ব্যবহারিক খাতা কিনতে বাধ্য করা হয়েছে, সারা বছর সেগুলো করতে বাধ্য করেছে।
ব্যবহারিকের নম্বর ফলাফলের সঙ্গে যোগ করতেই হবে এমন কথা বলতে চাইনা। বেশ কয়েক বছর ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নানা রকম সিদ্ধান্ত নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে কেন এমন করা হচ্ছে তাই জানার বিষয়। শিক্ষা নিয়ে যারা ভাবেন তাদের প্রায় অনেকেই বলছেন ৫ম শ্রেণীর ৮ম শ্রেনীর এই দুইটা পাবলিক পরীক্ষার কোন প্রয়োজন নেই, তাহলে কেনো এগুলো চলমান? যদিও বলা হয়েছে ২০১৯ সাল থেকে পিএসসি পরীক্ষা থাকবে না। ‘এই দুইটি পাবলিক পরীক্ষা বন্ধ না হওয়ায় লাভবান হচ্ছে কোচিং বাণিজ্য’ এটা সরকার মহলের কথা হলেও এগুলো বন্ধ করতে উনাদের এত টালবাহানা কেন? নাকি কান টানলে মাথা চলে আসবে বলেই শিক্ষানীতি নিয়ে এত বাহানা।
২০১৮ সালের প্রথম দিকে পিএসসি পরীক্ষার নিয়ম ছিল এক, বছরের মাঝে এসে বলা হল অবজেকটিভ থাকবে না। শুরু হল অভিভাবকদের নতুন নিয়মের গাইড বই কেনা, এতে কারা লাভবান হচ্ছে? নাকি এখানেও কান টানলে মাথা আসার অবস্থা। এটা কি ধরণের নিয়ম তাই মাথায় আসে না। ফলাফল প্রকাশের পর এমন কথা বলে হচ্ছে। একটা পাবলিক পরীক্ষায় নতুন নিয়ম নীতি আনতে হলে কম হলেও ২ বছর হাতে সময় নিয়ে নীতি পেশ বা পাশ করা প্রয়োজন। কিন্তু এই স্বাধীন দেশে ঘন্টায় ঘন্টায় শিক্ষানীতি পরিবর্তন করা হচ্ছে।
গত বছর অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং সমমানের জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) ঔউঈএবং ঔঝঈ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ৩০শে ডিসেম্বর। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য  ২০১৮ প্রকাশিত হচ্ছে আজ ২৪শে ডিসেম্বর। এছাড়া জেএসসি পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে জেএসসি বৃত্তির রেজাল্ট ২০১৮ প্রকাশিত হবে জেএসসি রেজাল্ট ২০১৮ প্রকাশের পর। গত ১লা নভেম্বর থেকে শুরু হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০১৮ সালের জে.এস.সি ও জে.ডি.সি পরীক্ষা। ১লা নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৪ই নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই দুটি পরীক্ষার মোট ২৯ হাজার ৬৭৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বচ্চ ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। জেএসসিতে এবছর মোট সাতটি বিষয়ে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। অন্যদিকে জেডিসিতেও ২০০ নম্বর কমিয়ে ৯৫০ নম্বর করা হয়েছে।
২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ বেলা ১০টার পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফল হস্তান্তরের পর সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
“(চলতি বছর থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় ২০০ নম্বর কমেছে। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ের ১০০ নম্বর বাদ যাওয়ায় সেটা নিয়ে কারো খুব একটা চিন্তা নেই। কিন্তু বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে কমানো হয়েছে আরো ১০০ নম্বর। এই ১০০ নম্বরের নতুন মানবন্টন নিয়ে খুবই চিন্তিত শিক্ষার্থী । কী থাকবে আর কী থাকবে না, কেউ বলতে পারছে না। এনসিটিবি আগামী সপ্তাহে নতুন মানবন্টন প্রকাশ করবে।
তবে এডুকেশন বাংলা ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছে নতুন মানবন্টন কীভাবে হবে?  বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে অনুষ্ঠিত এনসিসিসি’র সভায় উপস্থিত সদস্যদের কাছ থেকে এ বিষয়ে বেশকিছু তথ্য জানা গেছে। কীভাবে হবে বাংলা ও ইংরেজির মানবন্টন, তা পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।
ইংরেজি দুইপত্র মিলে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এরমধ্যে গ্রামার অংশ থেকে ৩০ নম্বর, আনসিন অংশ ২০, রাইটিং অংশ থেকে ৩০ নম্বরের ও রিডিং টেস্ট (সিন প্যাসেজ) থেকে ২০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
বাংলা দুইপত্রে মিলিয়ে এ বছর থেকে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে এমসিকিউ ৩০, সিকিউ ৭০ নম্বরের। এমসিকিউ ৩০ নম্বরের মধ্যে গদ্য ও পদ্যাংশ থেকে আটটি করে এবং ব্যাকরণ অংশ থেকে ১৪টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান হবে এক নম্বরের অর্থাৎ মোট ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হবে। সিকিউ ৭০ নম্বরের মধ্যে বাংলা প্রথম পত্র থেকে ৪০ নম্বরের এবং দ্বিতীয় পত্র থেকে ৩০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। প্রথম পত্রের গদ্যাংশ (গল্প) থেকে চারটি প্রশ্ন থাকবে দুটি লিখতে হবে। আর পদাংশ (কবিতা) থেকে তিনটি প্রশ্ন থাকবে দুটি লিখতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান হবে ১০ নম্বর করে। আর দ্বিতীয় পত্রে রচনা ১৫, সারাংশ ৫, চিঠি ৫ ও ভাবসম্পসারণ ৫ নম্বর করে মোট ৩০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
জেএসসি-জেডিসিতে এতদিন বাংলা ও ইংরেজির দু’টি করে পত্রে ১৫০ করে নম্বরের পরীক্ষা হতো। এখন বাংলা ও ইংরেজিতে আর আলাদা পত্র থাকবে না। একেকটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এছাড়া জেএসসি-জেডিসির চতুর্থ বিষয়ের (গার্হস্থ অর্থনীতি/কৃষি) পরীক্ষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। জিপিএ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
জানা যায়, আগামী সপ্তাহেই এনসিটিবি থেকে বিস্তারিত নম্বর বন্টন প্রকাশ করা হবে।
বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। সভা শেষে তিনি বলেন, জেএসসিতে এখন ৮৫০ নম্বরের পরিবর্তে ৬৫০ নম্বর এবং জেডিসিতে ১০৫০ নম্বরের পরিবর্তে ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন-কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, বুয়েটের সাবেক শিক্ষক ইনামুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহারিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক, অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন, জাবেদ আহমেদ, অরুণা বিশ্বাস, রওনক মাহমুদ, যুগ্মসচিব সালমা জাহান, এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) মো. মশিউজ্জামান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত ৮ মে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি জেএসসি ও জেডিসিতে ২০০ নম্বরের পরীক্ষা কমাতে প্রস্তাব করেছিলো। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। (৩১ মে ২০১৮ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত নিউজ)”
একটু পেছনে গেলে দেখতে পাবেন, ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবার পর বলা হয় এবছর যারা ভর্তির সুযোগ পায়নি, তারা সামনের বছর আর ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে না। অথচ এই নিয়ম করা দরকার ছিল ঘোষনার দুই/তিন বছর পর। এমন একটি পরীক্ষা নিয়েও কত তামাশা হয়ে চলছে দেশে। তাই অনুরোধ শিক্ষানীতি নিয়ে এমন না করে পরিকল্পিত একটা নীতি করুন, যা কম পক্ষে ১০/১৫ বছরে ও পরিবর্তন হবে না। নতুন নিয়ম করতে হলে বছর দুই হাতে নিয়ে ঘোষনা দিন। আমরা অভিভাবকরা বলছিনা নিয়ম পাল্টাতে, শুরু বলছি - শিক্ষানীতির বলি কোমলমতি শিশুরা যেন না হয়।
লেখক-সাহিত্যিক, কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক
rbabygolpo710@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ