ঢাকা, শুক্রবার 11 January 2019, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রক্টর টিমের পাহারায় ডাকসু নির্বাচনে মতবিনিময়ে ছাত্রদল

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে যুগোপযোগী করার বিষয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স হলে এ সভা শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ছাত্রদলের নেতারা যথাসময় উপস্থিত না হওয়ায় তা আধা ঘণ্টা পরে শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদলের ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী সভায় উপস্থিত হন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, সহকারী প্রক্টর মো. বদ্রুজ্জামান ভুইয়া, সহকারী প্রক্টর সীমা ইসলামসহ প্রক্টর টিমের ১০ থেকে ১২ জন সদস্যের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাদের সভাস্থলে প্রবেশ করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতারা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল। আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি। আমাদের কাজ সবাইকে সহযোগিতা করা।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে ছাত্রদল সন্তুষ্ট নয়। এ কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। এ বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেছেন, ‘ডাকসুর গঠনতন্ত্রে যতগুলো বিষয় রয়েছে সেগুলো নিয়ে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো। আমরা আজকের সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি উপস্থাপন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু দেখি না। ডাকসু নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সকলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা সম্ভব নয়। ডাকসু নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অলঙ্কার। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত গৌরব পুনরায় ফিরে আসুক এজন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত।’

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাকসুর প্রেসিডেন্ট (উপাচার্য) চাইলে যেকোনও মুহূর্তে যে কাউকে বাদ দিতে পারেন। যেকোনও বিষয়ে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা মনোভাব পোষণ করতে পারেন। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকে না। এজন্য আমাদের প্রস্তাবনা ছিল, ডাকসুর প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। এছাড়া ডাকসুর গঠনতন্ত্রেও দেওয়া ছিল, কার্যনির্বাহী কমিটি এক বছরে একটা মিটিং করতে বাধ্য। মতবিনিময় সভায় আমরা এক বছরে তিনটি মিটিং করার প্রস্তাব করেছি। এছাড়া ডাকসুতে নতুন সম্পাদক পদ সৃষ্টি এবং নারী নেতৃত্বের সুযোগ রাখার কথা বলেছি। প্রার্থিতার বিষয়ে আমরা বলেছি, এখানে এমফিলের ছাত্ররা যেন প্রার্থী হতে পারেন। এবার যেহেতু দীর্ঘ ২৮ বছর পরে নির্বাচন হওয়ার ইঙ্গিত পাচ্ছি সে কারণে যেন একটি নির্দিষ্ট সেশন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন,‘আমরা বৈঠকে আমাদের প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেছি। আমরা চাই সব সংগঠন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করক।

মতবিনিময় সভা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের জন্য আমরা সুপরিকল্পিত রূপে এবং ধাপে-ধাপে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ডাকসুর গঠনতন্ত্র মেনে সব কাজ শেষ করা হবে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়ার প্রয়াস আমরা নিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে যাতে কাজ শেষ করতে পারি সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি, ডাকসুর গঠনতন্ত্রে সংশোধনীর বিষয়ে মতামত চেয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হলেন ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, কবি জসীমউদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক রহমত উল্লাহ, শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা ও রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। এতে আমন্ত্রিত বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল ছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ), বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের অন্তর্ভুক্ত বাম সংগঠনের মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতারা সভায় অংশ নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ