ঢাকা, শুক্রবার 11 January 2019, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাগমারায় আলুর জমিতে স্প্রে করতে ব্যস্ত কৃষক

বাগমারায় একটি মাঠে সবুজ আলু ক্ষেতে কৃষককের ছত্রানাশক স্প্রে করার দৃশ্য

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা: রাজশাহীর বাগমারায় রবি মওসুমের এলাকার প্রধান অর্থকারী মওসুমের জনপ্রিয় ফসল আলু। বর্তমানে আলুচাষের এক দেড় মাসে আলুর গাছ মাঠ ভরে উঠেছে। তবে হঠাৎ করে শৈত্য প্রবাহের প্রভাব পড়ছে। গতস ৩/৪ ধরে  সকাল হতে কুয়াশা ঝরছে। দুপুরে প্রখর গরম অনুভূত ফলে বিরুপ আবহওয়া রাগছে। এরুপ আবহওয়ায় আলুর গাছে পচন মড়ক লাগতে পেরে এই আশংকায় কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। 

জানা গেছে, বাগমারা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় আলুচাষের মাটি উপযোগী। উর্ব্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় এলাকায় প্রচুর পরিমানে আলু চাষ হয়। বিগত বছর গুলোতে আলুর ভালো ফলন ও দাম পেয়ে বেশী লাভের আসায় অধিক আলু চাষে কৃষকরা ঝুঁকে। কিন্তু গত ৩ বছর  ধরে আলুচাষিরা স্টোরজাত আলুর দাম কম, শ্রমিক সংকটসহ হিমাগারের বেশী ভাড়ায় আলুচাষিরা লোকশান গুনছেন। মওসুমের শুরু থেকে আলুর মূল্য হ্রাস ও হিমাগার ভিত্তিক চক্রের কারণে কৃষকরা আলু নিয়ে গত ৩ বছর বিপাকে পড়ে।  এ বছর উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। 

প্রতিবারের ন্যায় এবারে মাঠে মাঠে আলুর তরতাজা গাছে মাঠ ভরে গেছে। পুরা ৯০ দিনে আলুর গাছ পরিপক্ব হয়। বর্তমানে অধিকাংশ মাঠের আলু গাছের বয়স মাঝা মাঝি। ইতি মধ্যে আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। তবে বর্তমানে বাজারে মন ৪০০/- টাকা দরে খুচরা বাজারে কেজিতে ১৫/- টাকায় আলু বিক্রি চলছে। আলুর ফলন ভালো পেলেও দাম কমে উৎপাদন খরচ নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন রয়েছে। বালানগর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, অতিরিক্ত দামে সার ওষুুধ, শ্রমিকসহ বিভিন্ন উপকরন ক্রয়ে আলুচাষে বেশী খরচ পড়েছে। যে হারে জমিতে আলুচাষে খরচ হয়েছে সে হারে মূল্য না বাড়াই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নন্দনপুর গ্রামের আলুচাষি  আকবর আলী জানান, জমির আলু এখন মাঠে মাঠে এক থেকে দেড় ফুট আকারের আলুর গাছ বড় হয়েছে। পুরো আলু উঠতে এখনো এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। বর্তমানে আলুর গাছের মাঝ বয়স গাছ যাতে মড়কে নষ্ট না করতে পারে এই জন্য বিভিন্ন ধরনের ছত্রানাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। ঘন কুয়াশায় আলুর গাছ পচন থেকে রক্ষা পেতে এলাকার কৃষকরা গাছে ছত্রানাশক করমিল, এন্ডোফিল জে মিটালেক্স, রেডোমিলসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ¯েপ্র করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা রাজিবুর রহমান জানান, হঠাৎ করে আবহাওয়া পরিবর্তন দেখে দিয়েছে। এই জন্য আলুর জমিতে পরিমিত ভাবে ছত্রানাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ঘন কুয়াশা  কেটে গেলে তেমন সমস্যা হবে না বলে জানান তিনি ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ