ঢাকা, শনিবার 12 January 2019, ২৯ পৌষ ১৪২৫, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

না এভাবে নয়

কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ না করে পিটিয়ে হত্যা করা পৃথিবীর কোনও সভ্য দেশের মানুষই সমর্থন করে না। করতে পারে না। বিনাবিচারে মানুষ হত্যা ভয়াবহ অপরাধ। এক অপরাধ দিয়ে আরেক অপরাধ ঠেকানো যায় না। এমন ঘটনা যেমন বেআইনি এবং দুষ্কর্ম তেমনই তা অমানবিক। গত ৭ জানুয়ারি সোমবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এমনই একটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চাঁদাবাজির সময় সরকার দলীয় এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী। নিহত নেতার লোকজন গত রোববার এক মরিচ ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে বাজারের পাশে একটি ঘরে তাকে বেঁধে রাখে। পরে টাকা দিয়ে মুক্ত হন তিনি। পরের দিন সোমবার এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ঐ নেতার বাসায় যান ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য ওসমান খান। তিনি এর প্রতিবাদ জানালে এক পর্যায়ে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেয় ঐ নেতা। ওসমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হন এবং তারা দোকানপাট বন্ধ করে নেতার আস্তানা ঘেরাও করেন। কিন্তু ফটক বন্ধ থাকায় কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। এরই মধ্যে কে বা কারা বাইরে থেকে নেতার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় ঐ নেতা বেরিয়ে এলে তাঁর ওপর লোকজন চড়াও হয়। পুলিশ গণপিটুনিতে আহত নেতাকে উদ্ধার করে  হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বলতে দ্বিধা নেই, ক্ষমতাসীন দলের হোমরাচোমরা কেউ হলে তার দাপট বেড়েতো যায়ই, এমনকি পুলিশও তার বিরুদ্ধে সহজে মামলা নিতে চায় না। কারণ পুলিশেরও চাকরির ভয় থাকে। পুলিশও নিজের চাকরিকে ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না। তবে নিপীড়িত জনগণের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায় তখনই তারা এভাবে জেগে ওঠে। আইন হাতে তুলে নেবার দুঃসাহস দেখায়। কিন্তু এভাবে আইন হাতে তুলে নেবার ঘটনা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হয় না। হতে পারে না। এতে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আইন অমান্য করবার প্রবণতা ভয়াবহ হয়ে দেখা দেয়। এতে দেশ ও জাতিকে মারাত্মক সঙ্কটে পড়তে হতে পারে। আমরা এমন পরিস্থিতি কেউ প্রত্যাশা করতে পারি না কখনই।
যাই হোক, চট্টগ্রামের ডবলমুরিংয়ের পাহাড়তলির বাজারে গণপিটুনিতে চাঁদাবাজ হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে তা অনাকাক্সিক্ষত, অনভিপ্রেত। এর পুনরাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে সেদিকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি জরুরি। সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা এড়ানো যেতো বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ