ঢাকা, শনিবার 12 January 2019, ২৯ পৌষ ১৪২৫, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : ডিসেম্বর মাসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো প্রচ- ব্যস্ত ছিল। বিএনপি-জামায়াতকে তেমন কাজ করার সুযোগ দেয়নি আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন। নানাবিধ হামলা, মামলা, হাজিরা ও জামিন নিতে ব্যস্ত রাখে বিএনপি, জামায়াত, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে। নির্বাচনে তাদের তেমন কোনো প্রচারণার সুযোগ ছিল না। হামলা-মামলা উপভোগ করতে করতেই তাদের মাস যায়। এ মাসে ৬৪৩টি রাজনৈতিক ঘটনার তথ্যে নিহতের সংখ্যা ৩৮। এই ৩৮ জনের ১৯ জনই খুন হয় আওয়ামী লীগের হাতে, ছাত্রলীগের হাতে ২, যুবলীগের হাতে ৩, বিএনপির হাতে ১০, জাপার হাতে ১, জেএসএস-এর হাতে ২ ও তাবলীগ জামায়াতের হাতে ১ জন। মাসটিতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় প্রাপ্ত তথ্যে আহত ২,৪৫০ জন এবং গ্রেফতার অনেক বেশী হলেও ৩,৪৬৪ জনের খবর পাওয়া গেছে বাকিদের তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রেফতারকৃতরা অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে দন্ডপ্রাপ্ত ৩ জন, এই ৩  জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১, ছাত্রলীগের ১ ও বিএনপির ১ জন।
ডিসেম্বর মাসে প্রাপ্ত তথ্যে নিহত যারা- (১) গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে এক সংঘর্ষে মাওলানা জুবায়ের গ্রুপের হাতে সা’দ পন্থী ইসমাইল হোসেন মন্ডল নিহত হয়, (২) রাজশাহীর বাগমারায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সহিংসতায় চঞ্চল কুমার নামে একজন নিহত হয়, (৩) পাবনা সদরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আব্দুল মালেক শেখ ও (৪) লস্কর খাঁ নিহত হয়, (৫) নওগাঁর পতœীতলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে উপজেলা সভাপতি ইছাহাক হোসেন খুন হয়, (৬) নড়াইলের নড়াগাতীতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে রুকু ও (৭) ইমান আলী নামে দু’জন খুন হয়, (৮) সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ীতে ডেকে নিয়ে কাউছার হোসেন ও (৯) তার ভাই মিল্টন হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, (১০) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বরইতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে জাপা-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে জাপা কর্মী আহমেদ কবীর খুন হয়, (১১) চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে আবু সাদিক নামে এক ছাত্র নিহত হয়, (১২) কুমিল্লার লাঙ্গলকোটে আওয়ামী লীগের হামলায় বিএনপি নেতা বাচ্চু মিয়া নিহত হয়, (১৩) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষের সময় যুবদল কর্মী ইসমাইল হোসেন নিহত হয়, (১৪) টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজের লাশ উদ্ধার, এ বিষয়ে বিএনপির অভিযোগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, (১৫) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তুলাচারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বিএনপির ওপর আওয়ামী লীগ গুলিবর্ষণ করলে আনছার সদস্য নূর নবী হেঞ্জু নিহত হয়, (১৬) সিলেটের বালাগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সায়েম আহমেদ সোহেল নিহত হয়, (১৭) দিনাজপুরের বিরলে মন্ডলপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের হামলার সময় পালাতে গিয়ে পড়ে নিহত হয় মোহাম্মদ নামে একজন, (১৮) লালমনিরহাট সদরে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী মোজাম্মেল হক নিহত হয়, (১৯) নরসিংদীর শিবপুরে সতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মিলন মিয়া নামে এক আওয়ামী লীগ সমর্থক নিহত হয় এবং (২০) কক্সবাজার পেকুয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ নামে একজন খুন হয়।
(২১) চট্টগ্রমের পটিয়ায় ছাত্রলীগের হাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জালাল উদ্দিন আকবর নিহত হয় ও (২২) ঢাকার বানানীতে প্রেম ঘটিত কারণে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব খুন হয় এবং (২৩) চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানা এলাকায় যুবলীগের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে সাহেদ রনি নিহত হয় ও (২৪) চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডুতে দলীয় কোন্দলে যুবলীগ নেতা দাউদ সম্রাট নিহত হয়, (২৫) গাজীপুর মহানগরীর হারিনাল উচ্চবিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে যুবলীগের দলীয় কোন্দলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লিয়াকত হোসেন নিহত হয়, (২৬) নোয়াখালী সদরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা হানিফ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়, (২৭) ফরিদপুর সদরে আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ আল মামুন নিহত হলে বিএনপির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ, (২৮) সিলেট সদরে বিএনপির হাতে আওয়ামী লীগ সমর্থক কায়সার আহমেদ খুন, (২৯) রাঙ্গামটির কাউখালীতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ঘাগড়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন খুন হয়, (৩০) কুমিল্লার চান্দিনায় পশ্চিম বেলাশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র বিএনপি-এলডিপির লোকজন পুলিশের ভাষ্যে কেন্দ্র দখল দখল করতে গেলে পুলিশের গুলিতে মজিবর রহমান নামে একজন নিহত হয়, (৩১) বগুড়ার কাহালুতে বাগুইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল ইসলাম নিহত হয়, (৩২) নাটোরের নলডাঙ্গায় বিএনপির কর্মীর ছুরিকাঘাতে আওয়ামী লীগ কর্মী হোসেন আলী নিহত হয়, (৩৩) চট্টগ্রামের পটিয়ায় গোরনখাইন গ্রামের নির্বাচনী বিরোধ নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে দিল মোহাম্মদ নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়, (৩৪) রাজশাহীর তানোরে বিএনপির হাতে আওয়ামী  লীগ নেতা মোদাচ্ছের আলী নামে একজন নিহত হয় এবং (৩৫) রাজশাহীর মোহনপুরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ কর্মী মিরাজুল ইসলাম নিহত হয়, (৩৬) ময়মনসিংহের ভালুকায় জামিরদিয়া ডোবালিয়া পাড়া গ্রামে জাতীয় পার্টির নেতার হাতে মরিয়ম বেগম নামে এক মহিলা খুন হয় বলে অভিযোগ এবং (৩৭) খাগড়াছড়ির পানছড়ি পুজগাং এলাকায় জেএসএস-এর হাতে ইউপিডিএফ-এর উজ্জ্বল কান্তি চাকমা ও নির্মাণ শ্রমিক (৩৮) সোহেল রানা খুন হয়। 
আওওয়ামী লীগ : ১ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাগমারায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সহিংসতায় যুবলীগ নেতা চঞ্চল কুমার চন্দ্র নিহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এমপি গ্রুপ এবং তাহেরপুর পৌর মেয়র ও অপর আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে কাওসার আলীসহ ১০ জন আহত হয়। ফেনী সদরে বিএনপি নেতা ভিপি জয়নাল আবেদীনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য তার শহরের ফলেশ্বরের বাড়ীতে তাকে অবরুদ্ধ করে আওয়ামী লীগের লোকজন। বিএনপি নেতার বাড়ীতে আসার সময় ফরহাদনগর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা বেলায়েত হোসেন বাচ্চু, সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল হক, উপজেলা যুবদল যুগ্ম-আহবায়ক তারেক ইকবাল মনি, ইয়াসিন, শাহাদাত হোসেন ও অন্য এক বৃদ্ধকে বেদম মারপিট করে পুলিশ দেয় তারা। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যাস সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে নৌকা মার্কার প্রার্থী করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ করে। এ সময় উত্তেজিত কর্মীদের ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই আব্দুল জলিল, এসআই রিদওয়ান, এসআই হাবিবুর রহমান, এএসআই নাজমুল ও এএসআই নূরুল হাকিম আহত হয়। এদিন জেলা কৃষক দল সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের বাড়ীও তারা হামলা ও ভাংচুর করে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ীরা জোটে জাপার পরিবর্তে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়ার দাবীতে দোকানপাট বন্ধ করে। ঝালকাঠির রাজাপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বজলুল হক হারুনকে পরিবর্তনের দাবীতে পুনরায় বিক্ষোভ করে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের একটি অংশ।
২ ডিসেম্বর ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইল নতুনপাড়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ ও তার বেয়াই দেলোয়ার হোসেনের ওপর আওয়ামী লীগ নেতা ওমর আলী, তার স্ত্রী ফারহানা আফরোজ রুনা, জনি, আশিকুর রহমান জয়, মিজানুর রহমান, রুহুল আমিন, মনি বেগম ও মাজহারুলসহ ২৫-৩০ জন হামলা করে। এ সময় তারা ওমর আলীর ব্যক্তিগত অফিস ভাংচুর ও লুটপাট করে। ৩ ডিসেম্বর পাবনা সদরের ভাড়ারা এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আব্দুল মালেক শেখ ও লস্কর খাঁ নিহত এবং অপর ১০ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান গ্রুপ ও আবু সাঈদ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। নোয়াখালীর হাতিয়ায় সুখচর রামরচন বাজারে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে যুবলীগ নেতা মেহরাজকে গুলিবিদ্ধ করে। আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী গ্রুপ ও ওয়াজি উল্লাহ গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আয়েশা ফেরদৌসের বিরুদ্ধে নির্বাচনী পথসভা করে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে বিএনপির প্রার্থী ফজলুল আজীম। নাটোর সদরে কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায় যুবদল জেলা তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রওশন আলীকে মারধর করে আওয়ামী লীগ। এ সময় তার মোবাইল ও মটর সাইকেল ছিনিয়ে নেয়। পিপরুল ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী জহুরুল মেম্বারকে মারধর ও মটর সাইকেল ছিনিয়ে নেয়। অনুরূপ ভাবে ছাতনী ইউনিয়ন যুবদল যুগ্ম-আহবায়ক গোলাম মোস্তফা বাবু ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত বিএনপি নেতা সাইফুজ্জামান সৌরভকে মারধর করে।
৪ ডিসেম্বর নওগাঁর পতœীতলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নজীপুর পৌর সাবেক মেয়র ইছাহাক হোসেন খুন হয়। ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ ফকির লিটু, তার ভাই লোকমান হোসেন ফকির বেলাল এবং নিহত ইছাহাকের বাড়ীর দারোয়ান আনিকুলকে আটক করে পুলিশ। ৫ ডিসেম্বর নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দলীয় অফিসের সামনে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন নাজু গ্রুপ ও যুবলীগ নেতা রাসেল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী আরমান, ইউনুস, বদন আলী, ইলিয়াস, এলডিপির জাফর আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম ও সোহেলসহ ১০ জন আহত হয়। পুলিশ সাইদুর রহমান নামে একজনকে আটক করে। নওগাঁর বদলগাছীতে দুর্নীতির দায়ে কোলা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এসকেন্দার মির্জা বাচ্চুকে সাময়িক ভাবে বরখস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
৬ ডিসেম্বর নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার কান্দুরী গ্রামের আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে রুকু ও ইমান আলী নামে দু’জন নিহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ছহম উদ্দিন গ্রুপ ও ইলিয়াস গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এই হত্যাকান্ড হয়। ঝিনাইদাহের শৈলকুপায় ব্রাহিমপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষ হয়। স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মিজানুর রহমান বাবুল গ্রুপ এবং উমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান সাব্দর হোসেন গ্রুপর মধ্যে সংঘর্ষে আমজাদ হোসেনসহ ৫ জন আহত হয়। ৭ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও-২ আসনে সরকার দলীয় এমপি দবিরুল ইসলামের ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সুজন সম্প্রতি ডি.কে মহাবিদ্যালয় মাঠে এক সভায় বলেন- ভোট আপনারা যাকেই দেন না কেন, এমপি ঠিকই হবে দবিরুল ইসলাম। আর ধানের শীষের যেসব কর্মী লাফালাফি করবে তাদের মাশুল দিতে হবে নির্বাচনের পর। চাঁদপুরে ছাত্রদল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হোসেনকে মারধর করে পুলিশে দেয় আওয়ামী লীগের মিজান খান ও সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এক দল লোক। পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কর্মী সভায় আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও হিন্দু-বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক শেখর কুমার সিকদার, বাবুল, বিপুল বেপারী ও রতন সিকদারের উপর হামলা করে আওয়ামী লীগ নেছারাবাদ উপজেলা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম। সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও খাসপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মহিলা মেম্বার শিরিন সুলতানার বাড়ীতে ডেকে নিয়ে কাউছার হোসেন ও তার ভাই মিল্টন হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেচের ড্রেন নির্মান ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটে। তবে মিল্টন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ৯ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় রাখালগাছা বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা মিনহাজ উদ্দিনের নেতেৃত্ব হামলায় বিএনপি প্রার্থী দাউদার মাহমুদ, উপজেলা প্রকাশনা সম্পাদক আনিচুর রহমান, তাজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক, যুবদল নেতা মহসীন আলী, বিএনপি কর্মী রতন আলী, হাবিবুর রহমান ও হেকমত আলী আহত হয়। 
১০ ডিসেম্বর জামালপুরের মেলান্দহে বিএনপির প্রার্র্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল হযরত শাহ কামাল (র.) মাজার জিয়ারত করতে গেলে আওয়ামী লীগের হামলায় ১০ জন আহত হয়। পুলিশ সেখান থেকে বিএনপির ৬ নেতা-কর্মীকে আটক করে। ভোলার চরফ্যাশনে বিএনপির প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আলমের বাড়ীতে আওয়ামী লীগ কর্মীরা হামলা ও ভাংচুর চালায়। ঝিনাইদাহের শৈলকুপায় ভাটই বাজারে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন। দুধসর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক টি.এ রাজু ও একই ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে শহীদুল ইসলাম, রাজন এবং পৃথক ঘটনায় নাকোল গ্রামে আবু সাঈদ ও শাহজাহানসহ ১০ জন আহত হয়। এ সময় তারা বাড়ী-ঘর ভাঙচুর করে। নাটোরের লালপুরে ত্রিমোহনী স্কুলের সামনে ধানের শীষের প্রার্থী ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলামের গাড়িতে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ। এ সময় তাদের হামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম বিমল ও ইসমাইলসহ ৩ জন আহত হয়। ১১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক পুলিশ প্রটোকল ব্যবহার করে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে। ঠাকুরগাঁও সদরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে আওয়ামী লীগের হামলায় ১৫ আহত হয়। এ সময় ৭-৮টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। নোয়াখালীর কবিরহাট বাজারে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ গণসংযোগে বের হলে আওয়ামী লীগের হামলায় প্রায় ৫০ জন আহত হয় এবং গণসংযোগ পন্ড হয়ে যায়। কুমিল্লা সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুর রশীদ ইয়াসিনের পৃথক ১০ মিছিলে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের হামলায় প্রায় ৫০ জন আহত হয়। বগুড়ার ধুনটে বিএনপির প্রার্থী জি.এম সিরাজের গাড়ি বহরে আওয়ামী লীগের হামলায় ৪টি গাড়ি, ২০টি মটর সাইকেল ভাংচুর ও ২৩ নেতা-কর্মী আহত হয়। তারা যুবদল নেতার বাড়ীতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। খুলনা-৩ আসনে রকিবুল ইসলাম বকুলের প্রচারণায় হামলা কালে যুবদল নেতা লিটন হোসেন লিটু ও রুহুল আমীন আহত হয়। ময়মনসিংহের ফুলপুর ও ভালুকাসহ ৩টি আসনে প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগের হামলায় ইসলাম উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সাত্তার, মিলন, মোস্তফা কামাল খান ও পাপ্পুসহ ২৩ জন আহত হয় এবং ভালুকায় বাটাজোড় বাজারে বিএনপির নির্বাচনী অফিসের চেয়ার-টেবিল ও আলমীরা ভাংচুর করা হয়। নাটোরের সিংড়ায় বিএনপির পোস্টারে আগুন ও জয়কুড়ি বাজারে বিএনপি অফিস ভাঙচুর এবং যুবদল নেতা আমিনুল ইসলামকে আওয়ামী লীগের মারধর।  [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ