ঢাকা, রোববার 13 January 2019, ৩০ পৌষ ১৪২৫, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

লালমনিরহাটে চরাঞ্চলে ব্যাপক শাক-সবজি চাষে সবুজের বিপ্লব

লালমনিরহাট : চরাঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন ফসলের সমারোহ

মোঃ লাভলু শেখ, লালমনিরহাট : লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজান ও রতœাই নদীর জেগে উঠা ধু-ধু বালুচরে বিশেষ পদ্ধতিতে চলতি মওসুমে নানা জাতের ৪০ প্রকারের শীত সবজি চাষ হচ্ছে। সবজি গ্রাম হিসেবে সুখ্যাতি পেয়েছে উত্তরের লালমনিরহাট সীমান্তের দূর্গাপুর, মোগলহাট ও কর্ণপুর গ্রাম। এখানে কৃষক পরিবারগুলো নানা জাতের সবজি ফলিয়ে এখন আর্থিকভাবে সাবলম্বী হয়েছে। জানা গেছে, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও বগুড়া জেলার ওপর দিয়ে বেশ কয়েকটি নদী প্রবাহিত হয়েছে। শুধুমাত্র বর্ষা মওসুমে ৩ মাস বাদে সেই নদীর চরে এখন সারা বছর ধান, পাট, ইক্ষু, ভুট্টা, গম, তামাক, কলার বাগান, বাওকুল বড়ই, সরিষা, আলু, মিষ্টি আলু, ধনে পাতা, পিঁয়াজ, মরিচ, বেগুন, ফুলকপি, বাধাকপি, গাজর, শালগম, সিম, টমেটো মিষ্টি কুমড়া সহনানা জাতের প্রায় ৪০ প্রকারের শীতের সবজি আবাদ হচ্ছে। ধরলা ও সানিয়াজান নদী ভারত থেকে এসে লালমনিরহাট জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসছে। নদীগুলো বর্ষা মওসুমে পানিতে থাকে টইটুম্বুর। শীতকালে পানি শুকিয়ে যায়। নদীতে পড়ে বিশাল বিশাল বালুচর ও কোথাও কোথাও পলি মিশ্রিত বেলে দোঁআশ মাটিরও চর পড়ে। চরাঞ্চলগুলো এই শুষ্ক মওসুমে সবুজের সমাহার ঘটেছে। চরের যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ ফসলের মাঠ। এটা যে, বর্ষা মওসুমে পানিতে ভরে যায়, অথৈ নদী হয়ে যায় বিশ্বাস হয় না। এই বছর দ্বীপ চর ও চরের ২ হাজার ক্ষুদ্র চাষিকে মিষ্টি কুমড়া, স্কোয়াস, পেঁয়াজ ও গাজর চাষে সম্পৃক্ত করণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে। এ বছর চরের পরিত্যক্ত বালুময় ফসলের জমির মাত্র ৪০ হেক্টর জমি কাজে লাগানো হবে। নদী ও জীবন প্রকল্পের এনজিও সিঁড়ি প্রকল্প এনজিও, সরকারি কৃষি কর্মকর্তা, কৃষিবিদ, টেকনিক্যাল অফিসারগণ দাবি করেছে উদ্যোক্তার অভাবে এখনও চরের বিশাল জমি চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয় নি। চরাঞ্চলে শীত মওসুমের খ-কালীন কৃষি আবাসিক এলাকা নির্মাণ করে খামার ভিত্তিতে ফসল ফলালে কৃষি উৎপাদন খরচ কম হবে। সেই সাথে চরের জমির শতভাগ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে। সীমান্ত গ্রাম দূর্গাপুর, মোগলহাট ও কর্ণপুর। এসব গ্রামের কৃষক ও কৃষিভিত্তিক শ্রমিক ৭-৮ বছর আগে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় গ্রামগুলোতে শীত মওসুমে সবজি চাষের জমিতে কাজে দিনমজুরি করতে যেত। এই সীমান্তের ওপারে ভারত সরকার ভৌগলিক ও ধরলা নদীর কারণে কাটা তারের বেড়া দিতে পারেনি। সীমান্তের পাহাড়াও কিছুটাও শীথিল। এখন আর দিনমুজরী করতে সীমান্ত গ্রাম হতে ভারতে কেউ যায়না। ভারতে মজুরি ভালো থাকলেও চালের দাম বেশি। বাংলাদেশের শ্রমিকের মজুরির বেশি আবার চালের দাম কম। অনেকে এখন ভারত হতে বাংলাদেশে কৃষকের বাড়িতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে আসে। দূর্গাপুর, মোগলহাট ও কর্ণপুর গ্রাম সবজি গ্রাম হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে ভারতে কাজ করেত যাওয়া কৃষিভিত্তিক শ্রমিক ও কৃষকের অবদান রয়েছে। সীমান্তের ওপারে শীতের সবজির বামপার ফলন হয়। ভারতের কৃষক পরিবারগুলো সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়। তারা নানাজাতের সবজি চাষের ওপর হাতে কলমে প্রশিক্ষিত হয়। পরে একই কায়দায় তারা নিজ জমিতে সবজি চাষ করে। ফলনও হয় বাম্পার। সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। এমনকি দেশের কয়েকটি স্বনামধন্য উচ্চ ফলনশীল বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দূর্গাপুর, মোগলহাট ও কর্ণপুর হতে বীজ উৎপাদন করছে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্ধুনা ইউনিয়নের চর সিন্ধুনার চর এলাকায় বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি আবাদ করেছে কৃষক। তার এ ফসল থেকে হাজার হাজার টাকা আয় করছেন। তাদের একটাই দাবি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মওসুমে সরিষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭ শত ৯৯ হেক্টর ও আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে, ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে, ৫২০ হেক্টর জমিতে মরিচের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তা ছাড়িয়ে ৫৩৫ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ করা হয়েছে, ভ্ট্টুা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৬ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে কিন্তু তা ছাড়িয়ে ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ