ঢাকা, রোববার 13 January 2019, ৩০ পৌষ ১৪২৫, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জনবল সংকটের কারণে চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুন:খনন কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

এফ, এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা : পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলার ৫টি নদী ও ২টি খাল পুন:খনন করার কাজ জনবল সংকটের কারণে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা  দেখা দিয়েছে। জনবল সংকট দূর করার জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েও কোন কাজ হচ্ছেনা বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা পনি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম জানান, ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ খাল, ছোট নদী এবং জলাশয়ে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য পুন:খননের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। কৃষি কাজে পানি ব্যবহার ও সুযোগ মত মাছ চাষের জন্যই এ কর্মকান্ড ২০ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে শুরু হবে। তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার ১৪ কিলোমিটার নবগঙ্গা নদী, ২৫ কিলোমিটার চিত্রা নদী, ১২ কিলোমিটার কুমার নদী ও ৬ কিলোমিটার নৌকা খাল এবং চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় মেহেরপুর জেলার ৮ কিলোমিটার ছেউটিয়া নদী, ৮ কিলোমিটার কাজলা নদী, মুজিবনগর উপজেলায় স্বরসতী খাল ১০ কিলোমিটার পুন:খনন করা হবে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ কাজ বাস্তবায়নে ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ  দেয়া হয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হতে পারে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, খনন কাজ তদারকি ও বুঝে নেয়ার জন্য জনবল সংকট রয়েছে। কিন্তু তা পূরনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছেনা।
উল্লেখ্য, মেহেরপুর জেলাও চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায়। চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে ৬৯ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছে মাত্র ২৯ জন, শুন্য রয়েছে ৪৩ জন। শুন্যপদ গুলো হলো, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (রাজস্ব) ১ জন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাখা কর্মকর্তা ৩ জন, সহকারী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১ জন, সহকারী সেচ কর্মকর্তা ১ জন, উচ্চমান সহকারী প্রধান করণীক ১ জন, ডাটা  এন্ট্রি অপারেটর ৩ জন, সার্ভেয়ার (রাজস্ব) ১ জন, সার্ভেয়ার (প্রকৌশলী) ২ জন, ট্রেসার ১ জন, কার্যসহকারী ৬ জন, হিসাব করণীক ১ জন, গাড়ী চালক ৩ জন, ইলেট্রেশিয়ান-এ ১ জন, পাম্প অপারেটর ১ জন, অফিস সহায়ক ৯ জন, মালী ১ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ৩ জন ও সহকারী কুক ১ জন।
বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম জানান, দ্রুত জনবল সংকট দূর না হলে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দুষ্কর হবে। ভেস্তে যাবে সরকারের মহৎ উদ্যোগ।
এদিকে নদী, খাল ও জলাশয় পুন:খননে খুশি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের মরহুম বিশারতের ছেলে কৃষক ইলিয়াস হোসেন (৫৫)। তিনি জানান, আগে চিত্রা নদীর পানি ব্যবহার করেই আমাদের কৃষি কাজ চলতো। চিত্রা নদীর উৎস মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন আর সেটাতে পানি থাকে না। চিত্রা নদী চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রামের মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহ, যশোর ও নড়াইল জেলার সঙ্গে মিশে গেছে। এই নদী খনন কৃষকদের জমি গুলোতে সেচ কাজে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই  উপজেলার দোস্ত গ্রামের মরহুম আব্দুল গফুরের ছেলে কৃষক হাবিবুর রহমান কাজল (৪৫) বলেন, পানির অভাবে আমাদের এ অঞ্চলে চাষাবাদ ব্যহত হয়। এ গ্রাম দিয়ে চিত্রা নদী প্রবাহিত হলেও সেখানে পানি প্রবাহ নেই। এই নদীটি খনন হলে এখানকার মানুষ কৃষিতে আরো সমৃদ্ধশালী হবে। চুয়াডাঙ্গার সদরের পৌর এলাকার শ্মশানপাড়ার মরহুম আহাম্মদ মন্ডলের ছেলে কৃষক কুদ্দুস মন্ডল (৭০) বলেন, আমার আবাদী জমির পাশ দিয়ে নবগঙ্গা খাল প্রবাহিত হলেও সেখানে পানি না থাকায় সেচ সুবিধা পাওয়া যায় না। নবগঙ্গা খাল খনন হলে আমাদের কৃষি কাজে বেশ উপকার হবে। পানির সমস্যায় আর থাকতে হবেনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ