ঢাকা, রোববার 13 January 2019, ৩০ পৌষ ১৪২৫, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সচেতনতাই পারে জরায়ু মুখের ক্যান্সারে মৃত্যুর হার কমাতে

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোটারিসহ কয়েকটি সংগঠনের উযদ্যোগে জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : জরায়ু মুখের ক্যান্সার সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সামাজিক ও ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে বের হয়ে নারীসহ পরিবারের সবাইকে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি করতে হবে। লজ্জাবোধ ও গোপনীয়তা জরায়ু মুখের ক্যান্সারকে শেষপর্যায়ে নিয়ে যায়। তাই প্রতিটি নারীকে তার শরীর ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক বেশি উদ্যোগী ও সচেতন হতে হবে। জরায়ু ক্যান্সার সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ রোগটি শেষ পর্যায়ে এসে ধরা পড়ে। তাই প্রতিটি নারীকে জরায়ুর বিষয়ে কোনোরকম সমস্যা দেখা দিলে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের সরণাপন্ন হওয়া উচিত। এরকম সচেতনতা আমাদের দেশে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে পারে। জরায়ুর মুখের ক্যান্সারে দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩৩ জন মহিলা আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিরোধযোগ্য হলেও ঘাতক এ ব্যাধিতে প্রতিদিন ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। নারীদের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার (স্তন, জরায়ু মুখ, খাদ্যনালী ও পিত্তথলি) এর মধ্যে জরায়ুর মুখের ক্যান্সারের স্থান দ্বিতীয়।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্যান্সার প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্র’ (সিসিপিআর) মার্চ ফর মাদার, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডস্ট্রিক্টি ৩২৮১ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে জরায়ু- মুখের ক্যান্সার সচেতনতা মাসের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এ সব তথ্য জানানো হয়। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সঞ্চালনায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাবেরা খাতুন। আলোচনায় অংশ নেন রোটারিয়ান এএফএম আলমগীর, অধ্যাপক লাইলা আনজুমান বানু, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সঙ্গীত শিল্পী সামিনা চৌধুরী, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শেখ গোলাম মোস্তফা, হিস্টোপ্যাথলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. গোলাম মোস্তফা, অধ্যাপক সারওয়ার আলম, অধ্যাপক সাইদ আবদুল হামিদ, অপরাজিতা সোসাইটি চেয়ারম্যান তাহমিনা গাফ্ফার প্রমুখ। 
আলোচনার আগে ‘জরায়ু মুখের ক্যান্সারে থাকলে ভয়, বাল্যবিবাহ আর নয়।  এ রোগের কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিকার-প্রতিরোধ এবং যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর সেলিনা আক্তার ও বিউটি আক্তার যৌথভাবে এ বিষয়ে সায়েন্টিফিক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন । সভায় বক্তারা বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য ক্যান্সার। বাল্যবিবাহ, অধিক ও ঘন ঘন সন্তানধারণ, অবাধ মেলামেশা, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের সংক্রমণ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব, অপুষ্টি মূলত জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কারণ।
তারা বলেন, অতিরিক্ত সাদাস্রাব, যোনীপথে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ, তলপেটে ব্যথা, শারীরিক সম্পর্কের সময় ব্যাথা ও রক্তপাত, মাসিক বন্ধ হওয়ার পর রক্ত যাওয়া এই রোগের প্রধান লক্ষণ। এই রোগে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে এসব বিষয়ে জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের সর্বশেষ প্রকাশিত (২০১৪ সাল) হাসপাতাল ভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন প্রতিবেদন অনুযায়ী মহিলাদের ক্যান্সারের মধ্যে জরায়ু- মুখের ক্যান্সারের স্থান দ্বিতীয় (১৭.৯%), স্তন ক্যান্সার শীর্ষে (২৭.৪%)। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এর অবস্থান চার নম্বরে (৮%)। জননীর কাছে সবার আছে জন্মঋণ, জরায়ু- মুখের ক্যান্সার সচেতনতায় অংশ নিন- এই প্রতিবাদ্যভিত্তিক একটি পোস্টার প্রকাশ করা হয় এই অনুষ্ঠানে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ