ঢাকা, রোববার 13 January 2019, ৩০ পৌষ ১৪২৫, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গত এক বছরে খুলনায় অগ্নিদগ্ধে মৃত্যু ৩৫ ॥ অনেকেই পঙ্গু

খুলনা অফিস : ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৩৫ জন। যার মধ্যে মহিলা ১৮ ও শিশু রয়েছে ৮জন। গত বছরের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৪ জন। এ ছাড়া মৃত্যুর হাত থেকে অনেকে ফিরলেও পঙ্গুত্ব বরণ করছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ সূত্র জানায়, সাধারণত জানুয়ারি মাসে শীতের প্রকোপ বাড়ার পর বিভিন্ন উপজেলায় আগুন পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধসহ বিভিন্ন কারণে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮৬২ জনের মতো। এর মধ্যে মারা গেছে ৩৩ জন। যার মধ্যে মহিলা রয়েছে ১৮ জন ও শিশু রয়েছে ৮ জন। এর আগে ২০১৭ সালের গত এক বছরে আগুন পোহানো ও বিভিন্ন কারণে আগুনে ঝলসে যাওয়া রোগীর ভর্তি সংখ্যা ছিল ৭২৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩১ জন। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫২ জনকে ঢাকা বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়েছে। সেই হিসেবে গত বছরের তুলনায় আগুন পোহাতে গিয়ে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, শীত নিবারণের জন্য আগুন পোহাতে গিয়ে বয়স্করা আগুনে পুড়ে যাওয়ায় দগ্ধ তালিকা বাড়ছে। কেউ বা পূজা করতে গিয়ে কুপির মাধ্যমেও অগ্নিদগ্ধ হচ্ছেন। শিশুরাও পুড়ছে। বর্তমানে প্রতিদিন এরকম ৩-৪ জন রোগী আগুনে পুড়ে গিয়ে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে। তিনি বলেন, শীতের সময় শরীরে অতিরিক্ত কাপড় থাকে। এ সময় কোনোভাবে আগুন ধরে গেলে সব কাপড় খুলতে সময় লাগে। অথবা কখনো খোলার আগেই শরীরের আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শীতে বয়স্ক ও শিশুদের আগুনে পোহানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, যারা এই দুর্ঘটনায় পড়ছেন তার অধিকাংশই বয়স্ক।
বার্ন ইউনিটের সূত্র মতে, ২০১৮ সালে ডিসেম্বর মাসে অগ্নিদগ্ধে মারা যায় ৭ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৪ জন, মার্চ মাসে ৫ জন, মে মাসে ৪ জন, জুন মাসে ৪ জন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ২ জনের মৃত্যু, নবেম্বরে ৩ জন ও ডিসেম্বর মাসে ২ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে চিকিৎসা নিয়েছে ৮৬২ জন। এছাড়া ২০১৯ সালে ৫ জানুয়ারি অগ্নিদগ্ধে হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু ঘটে। বার্ন ইউনিটের সিনিয়র স্টাফ নার্স ঝর্ণা খানম বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় শীতকালে আগুনে ঝলসে যাওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন আগুন পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। যারা এ সব দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তাদের মধ্যে নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা, পাইকগাছা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, কালিগঞ্জ, চিতলমারী, বটিয়াঘাটা অঞ্চলের সংখ্যা বেশি। এদের মধ্যে বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুরাও আগুন পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ