ঢাকা, রোববার 13 January 2019, ৩০ পৌষ ১৪২৫, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভোট নিয়ে গণশুনানি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে মানুষ বিস্মিত হয়েছে। ফলে চলছে বিচার-বিশ্লেষণ। এই ধারা হয়তো আরো অনেক দিন অব্যাহত থাকবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থীরা বলেছেন, নজিরবিহীন ভুয়া ভোটের এই নির্বাচনে আগের রাতেই আওয়ামী লীগ জিতেছে। নির্বাচনের দিন ভোটাররা প্রতারিত ও অপমানিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসন একযোগে আওয়ামী লীগকে জেতাতে কাজ করেছে। ১১ জানুয়ারি শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত ‘ভোট ডাকাতি, জবরদখল ও অনিয়মের নানা চিত্র’ শীর্ষক গণশুনানিতে ওইসব কথা বলেন বাম দলগুলোর প্রার্থীরা। দিনব্যাপী গণশুনানিতে ৮২ জন প্রার্থী তাদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। এর মধ্যে কয়েকজন বলেছেন, এটি ছিল এক কলঙ্কিত নির্বাচন। উল্লেখ্য যে, ১৩১ আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ১৪৭ জন প্রার্থী অংশ নেন। ১২ জানুয়ারি প্রথম আলো পত্রিকায় গণশুনানি সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি মুদ্রিত হয়।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবারের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসন থেকে কোদাল প্রতীকে দাঁড়ান। গণশুনানিতে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগের দিন রাতেই কেন্দ্রভেদে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়েছে। আমরা যারা ভোট দিতে গিয়েছিলাম, দেখেছি একটা ভোট কেন্দ্রে ভোটারের তেমন কোন ভিড় নেই, অথচ নয়টা বা সাড়ে নয়টার মধ্যেই ব্যালট বাক্স ভরে গেছে।’ জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এর মতো কলঙ্কজনক নির্বাচন আর নেই। এটা আমাদের উপলব্ধি করার কথা। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে একটা নির্বাচন হলো, কিন্তু সেই নির্বাচনে জনগণকে অংশ নিতে দেওয়া হলো না। সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের কর্তৃত্ব কাজ করেছে।’ নরসিংদী-৪ আসনে কাঁস্তে প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন সিপিবির কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায়  একটি ভোট কেন্দ্রের এক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নির্বাচনের আগের দিন আমার কাছে স্বীকার করেন, প্রশাসনের নির্দেশ ৩৫ শতাংশ ভোটের সিল যেন নির্বাচনের আগের রাতেই দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের চাপে পড়ে তা ৪৫ শতাংশ হয়ে যায়। সেই প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নির্বাচনের আগের দিন রাতে আমাকে বলেছিলেন, এখন আমি কীভাবে এই বাড়তিটুকু ম্যানেজ করবো।’
গণশুনানি অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সব প্রার্থীর কথাই রেকর্ড করা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ বাতিল করার দাবি জানিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা বলেছেন, গণশুনানির তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে বিনিময় করা হবে। জোট এসব তথ্য নিয়ে নিজেদের সভায় আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। হতাশ ও অপমানিত দেশবাসীকে সাহস যোগাতে তারা দলনিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আন্দোলন জোরদার করবেন। গণশুনানি অনুষ্ঠানে যে তথ্য ও অভিজ্ঞতা পেশ করা হলো তা বিস্ময়কর। এতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে ওইসব তথ্য ও অভিযোগের যথার্থতা প্রমাণে প্রয়োজন সত্যনিষ্ঠ তদন্ত। কেউ কেউ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও বলেছেন। নির্বাচন কমিশনের কাছেও অভিযোগ পেশ করা হয়েছে। উপলব্ধি করা যায় যে, সামনের দিনগুলোতে তদন্ত ও আইনি লড়াইটার পাশাপাশি আন্দোলনের কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। এমন বাতাবরণে সরকারের এবং বিরোধী দলের ভূমিকা জাতি গুরুত্বের সাথে অবলোকন করবে। ন্যায় এবং সত্যের বিজয় আমাদের কাম্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ