ঢাকা, রোববার 13 January 2019, ৩০ পৌষ ১৪২৫, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিএনপিকে সংসদে এসে কথা বলা উচিত

গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঢাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভায় সভাপতিত্ব করেন -পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপিকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপিকে সংসদে এসে কথা বলা উচিত। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় যৌথসভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বক্তব্যের শুরুতে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম  সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেন। বক্তব্য শেষে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। আওয়ামী লীগ সভাপতির আসনের দুই পাশে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ, মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতির আগমন উপলক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীরা সভা শুরুর আগেই জিরো পয়েন্টে রাস্তার পাশে অবস্থান নেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন।
 যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। পল্টন মোড় হয়ে জিরোপয়েন্ট ও গুলিস্তানগামী যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি মনোনয়ন বাণিজ্য না করত তাহলে তাদের ফলাফল আরেকটু ভালো হতো । তিনি বলেন, ২০১৮ এর নির্বাচনে বিএনপি যদি মনোনয়ন বাণিজ্য না করত, তাহলে হয়তো তাদের ফলাফল আরও একটু ভালো হতে পারত।
 শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্নীতিগ্রস্ত, সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামী বলেই জনগণ নির্বাচনে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুটের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হত্যা মামলা, দুর্নীতি এবং মানিলন্ডারিংসহ একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী। এসব কর্মকা-ের জন্যই তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, অতীতের মতো সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনও বিএনপি বানচালের চেষ্টা করেছিল। এবারও তাদের নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা সবাই দেখেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনও তারা বানচাল করার অপচেষ্টা করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে এ দোষ তাদের। গণতন্ত্রের স্বার্থে তাদের সংসদে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তা নিজ গতিতেই চলবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে আওয়ামী লীগ আজকের অবস্থানে এসেছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অর্জনগুলো ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় বলেই মানুষ আবারও আমাদেরকে ভোট দিয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গত দশ বছরে জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে বলেই মানুষ ভোট দিয়ে আবারও বিজয়ী করেছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে শুধু আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, দেশের উন্নয়ন হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২১ বছর পর আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে, আমি অন্তত এটুকু দাবি করেত পারি, তখনই কিন্তু এদেশের মানুষ প্রথম উপলব্ধি করে সরকার জনগণের সেবক হতে পারে, সরকার জনগণের জন্য কাজ করতে পারে। আর সরকার কাজ করলে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়, এটা তখনই আমরা প্রমাণ করতে পারলাম।
বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনামল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেওয়া মামলার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এসেছি। আমরা অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে এসেছি। জনগণের বিশ্বাস-আস্থাটা যে কারণে আমাদের ওপরে এসেছে। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করি জনগণের কল্যাণে, জনগণের স্বার্থে। আর জনগণ আজকে উপলব্ধি করতে পেরেছে, আমাদের উন্নয়নের যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি, আমরা সবসময় লক্ষ্য করি, গ্রামের মানুষ তৃণমূলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। তারা একটু সুন্দর জীবন পাবে। তারা একটু উন্নত জীবন পাবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের জীবনমান উন্নত হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রতিটি কর্মসূচি নিয়েছি।
টানা তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে সব থেকে লক্ষণীয় বিষয় ছিল, মানুষের মধ্যে একটা স্বতঃস্ফূর্ততা এবং ভোট দেওয়ার জন্য আগ্রহ। বিশেষ করে এদেশের তরুণ সমাজ, যারা প্রথম ভোটার এবং নারী। এবারের নির্বাচনটা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হলেও কিছু কিছু জায়গায় বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে গেছে। কোথাও তারা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করেছে। তাদের এই অপকর্মের কারণে বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীরা অনেক আছেন।’
 শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার কাছে সমস্ত ঘটনা লিপিবদ্ধ করা আছে। আপনারা মাঠে-ঘাটে দেখেছেন, টেলিভিশনে দেখেছেন, কীভাবে তারা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল কোনোমতে নির্বাচনটা যেন বানচাল করা যায়। কিন্তু তা তারা পারে নাই। এখন বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে, এই দোষটা তারা কাকে দেবে? দোষ দিলে তাদের নিজেদের দিতে হয়। কারণ, একটি রাজনৈতিক দলের যদি নেতৃত্ব না থাকে, মাথাই না থাকে, তাহলে সেই রাজনৈতিক দল কীভাবে নির্বাচনে জয়ের কথা চিন্তা করতে পারে ?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ