ঢাকা, রোববার 13 January 2019, ৩০ পৌষ ১৪২৫, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্টার: গত বছরে (২০১৮) শহরে জীবনযাত্রার ৬ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে পণ্য ও সেবার মূল্য ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়বিষয়ক এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।
শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় বাদ দিয়ে জীবনযাপনের ব্যয় সংক্রান্ত এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবার মধ্য থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবাখাতের তথ্য পর্যালোচনা করে ক্যাব এই হিসাব করেছে।
ক্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ। পণ্যমূল্য ও সেবা সার্ভিসের মূল্য বেড়েছে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। পূর্ববর্তী ২০১৭ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছিল ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ, পণ্যমূল্য ও সেবাসার্ভিসের মূল্য বেড়েছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে গত বছর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ পয়েন্ট কম।
২০১৮ সালে আগের বছরের তুলনায় সব ধরনের চালের গড় মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। তবে গতবছর সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে প্রসাধনী পণ্য সাবানের। পণ্যটির দাম গড়ে বেড়েছে ২০ শতাংশ। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে মাছের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, শাকসবজির দাম গড়ে বেড়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
এ ছাড়া তরল দুধে দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, মাংসে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ডিমে বেড়েছে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, চা-পাতায় বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। দুইকক্ষ বিশিষ্ট বাড়ি ভাড়া ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া শাড়ি কাপড়, নারিকেল তেল, ওয়াসার পানি প্রভৃতি জিনিসের দাম বেড়েছে। তবে গত বছর ২০১৭ সালের তুলনায় ডাল, লবণ, মসলা ও চিনির দাম কমেছে
ক্যাবের হিসাবে ২০১৮ সালে এর আগের বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সাবানের। এই পণ্যটির দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া চালের গড় মূল্য ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, মাছের দাম ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, শাক-সবজিতে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, পান-সুপারিতে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, তরল দুধে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ দাম বেড়েছে।
এই ব্যয়বৃদ্ধি যৌক্তিক কি না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে গোলাম রহমান বলেন, ব্যয় বৃদ্ধির এই হার ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ভিন্ন রকম ফল বয়ে আনতে পারে। ব্যয় অনুপাতে একজন ব্যক্তির আয় বৃদ্ধি না পেলে তো সেটা স্বস্তিদায়ক হবে না।
“আয় বৃদ্ধির ওপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। যদি ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় মানুষের আয় বৃদ্ধি হয় তাহলে সেটাই হবে স্বস্তিদায়ক।”
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, বিগত বছর আমদানি শুল্ক বাবদ এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা দিতে হয়েছে ভোক্তাদের। এটি প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ভোক্তাদের উপর থেকে এই শুল্কের হার কমাতে হবে।
বাংলাদেশে আমদানি পণ্যের ওপর ২০১৭ সালে গড়ে ২৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে গড়ে শুল্ক ছিল ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ, কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় এর হার ছিল ১২ দশমিক ১৯ শতাংশ।
ক্যাবের সুপারিশ
 ধান-চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং কৃষককে উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মূল্য দিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কন্ট্রাক গ্রোয়িং পদ্ধতি’ অনুসরণ করে ধান কাটার মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি শস্য সংগ্রহ করা এবং শস্য বীমার প্রবর্তন করা।
ক্যাবের প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংস্কার এবং ‘প্রাইস স্ট্যাবলাইজেশন ফান্ড’ গঠন করে দেশে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা। এলএনজি আমদানি সকল প্রকার শুল্ক-কর মুক্ত রেখে গ্যাসের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা।
চিকিৎসকদের ফিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ, ওষুধের মান ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ; বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সুলভে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদান নিশ্চিত করা।
 ওষুধ নীতি বাস্তবায়ন করা। বিএসটিআই ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা।
শিক্ষা খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে অবিলম্বে শিক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। শিক্ষার মান উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
খেলাপি ঋণ ঠেকাতে সরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে পর্ষদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং আইনের সংস্কার করে দ্রুত খেলাপি ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করা।
 আমদানি শুল্কের ব্যাপক হ্রাস এবং লবণসহ যে সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ অবিলম্বে সে সব পণ্যের অবাধ আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করা।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা-স্বার্থ সংরক্ষণে প্রণীত আইন ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, প্রতিযোগিতা আইন ২০১২, নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩, ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৫ এর বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যাতে সুষম বণ্টন হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা। আয় বৈষম্য নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ