ঢাকা, সোমবার 14 January 2019, ১ মাঘ ১৪২৫, ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হামাসের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে চায় ইসরাইল

১৩ জানুয়ারি, আল জাজিরা : ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে চায় ইসরায়েল। শনিবার হামাসের শামরিক শাখা জানিয়েছে, গত নভেম্বরে গাজায় আন্ডারকভার অপারেশন পরিচালনা করে দখলদার শক্তি। ওই অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল হামাসের যোগাযোগ নেটওয়ার্কে তালগোল পাকিয়ে দেওয়া। পুরো সিস্টেমটিই বিশৃঙ্খল করে দিতে চেয়েছিল তারা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ক্ষমতাসীন দল হামাস জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী গাজা উপত্যকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

ইসায়েলের দাবি, প্রকৃতপক্ষে ওই ঘটনা ছিল একটি গোয়েন্দা মিশন। কিন্তু পরে গোয়েন্দারা ধরা পড়ে গেলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়।

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মূল শক্তি হচ্ছে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের রাজনৈতিক দল ফাতাহ। দলটি ইসরায়েলের সমর্থনপুষ্ট। অন্যদিকে হামাস ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন সশস্ত্র সংগ্রাম করে আসছে। সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করলেও ইসরায়েলের পৃষ্ঠপোষকতায় দলটির কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয় ফাতাহ। তবে গাজা উপত্যকায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দলটির। গাজা উপত্যকার নির্বাচনে হামাসের জয়লাভের পর থেকেই সেখানে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল ও মিসর। তারা গাজায় যেকোনও পণ্যসামগ্রী আমদানি-রফতানিতে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ইসারায়েল মনে করে, এতে হামাস চাপে থাকবে আর গাজাবাসীও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আশায় হামাসকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করবে।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে হামাস সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে পণ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া করতো। সুড়ঙ্গ দিয়ে মিসর থেকে আনা পণ্যসামগ্রীর ওপর নির্ধারিত করই ছিল তাদের আয়ের উৎস। তবে মিসরে জেনারেল সিসি ক্ষমতা দখলের পর ফিলিস্তিনিদের ব্যবহৃত এসব সুড়ঙ্গ বন্ধ করে দেয়। কেননা, হামাসের সঙ্গে মিসরের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের একটি অংশ মনে করে, হামাসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি তাদের সামরিক শাখা বিলুপ্ত করা জরুরি। কিন্তু বিশাল সংখ্যক ফিলিস্তিনির সমর্থন থাকায় তা অনেকটা অসম্ভব। কারণ বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি তাদের জাতিমুক্তি আন্দোলনের জন্য ফাতাহ’র চেয়ে হামাসকে বেশি বিশ্বস্ত মনে করেন। তারপরও হামাসকে চাপে রাখতে তাদের কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। তবে শুধুমাত্র হামাসকে চাপে রাখতে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাজার অর্থনীতি। সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন গাজার বাসিন্দারা। তাতেও কার্যকরী ফল না আসায় হামাসের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হয় ইসরায়েল। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ