ঢাকা, সোমবার 14 January 2019, ১ মাঘ ১৪২৫, ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হবে -বিজিএমইএ

গতকাল রোববার পোশাক শিল্পে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, যেসব শ্রমিক কারখানায় ফিরবেন না তাদের কোনো মজুরি দেয়া হবে না। আজ সোমবারের মধ্যে শ্রমিকরা কাজে ফিরে না গেলে সব পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হবে।
গতকাল রোববার পোশাক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিজিএমইএ’র সাংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি, আতিকুল ইসলাম, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বর্তমান সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, মোহাম্মদ নাছির প্রমুখ।
শ্রমিকদের উদ্দেশে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আপনারা কর্মস্থলে ফিরে যান। উৎপাদন কাজে অংশগ্রহণ করুন। শ্রমিকরা আগামীকাল (সোমবার) থেকে কাজ শুরু না করলে কারখানা বন্ধ করা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা মোতাবেক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হবে। এ সময় সরকারের কাছে ব্যবসায়ী মালিকদের জান ও মালের নিরাপাত্তা চান বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডে বৈষম্য আছে বলে তাদের আন্দোলনে নামিয়েছে একটি কুচক্রী মহল। পোশাক শিল্পের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি মহল চক্রান্ত করছে। বৈষম্যের কথা বলে শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে, ভয়-ভীতি দেখিয়ে, কর্মবিরতি করতে প্ররোচিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে যেন ব্যবসা সরে যায় সে জন্য বিদেশী একটি মহলও চক্রান্ত করছে।
বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, আমরা একাধিকবার শ্রমিকদের অনুরোধ করেছি কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা কাজে ফেরেনি। নতুন বেতন কাঠামোয় বৈষম্য আছে এই উসকানি দিয়ে পোশাক খাতের শ্রমিকদের অশান্ত করা হচ্ছে। পোশাক শিল্প খাতকে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এ খাতটি ধ্বংস হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরা। কর্মহীন হবেন তারা। কারণ, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হতে পারে এমন কোনো খাত এখনো গড়ে ওঠেনি।
আন্দোলনে ক্ষতির বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একেক জনের লস একেক রকম। সবচেয়ে বড় লস ইমেজের। টাকার লস কোনো না কোনোভাবে পুষিয়ে নেয়া যায়। আমরা পুষিয়ে নিতে পারি৷ কিন্তু বহির্বিশ্বে ভাবমর্যাদা যে ক্ষতি হয়, সেটাই বড় ক্ষতি। কোনো একবার ভাবমর্যাদা ক্ষতি হলে সেটা পুষিয়ে নিতে ২ থেকে ৩ বছর সময় লেগে যায়।
সিদ্দিকুর রহমান জানান, ৮ জানুয়ারি সরকার-মালিক ও শ্রমিকদের ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মজুরি গ্রেডের ৩, ৪ ও ৫ যদি সমন্বয়ের প্রয়োজন থাকে তা বিবেচনা করে সুপারিশ করবে সেই কমিটি। সেদিনের সভায় সবাই একমত হন বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট সমন্বয়ের পর তা কোনো শ্রমিকের মূল অথবা মোট মজুরির কম হবে না। এই ঘোষণা দেওয়ার পরও শ্রমিকরা কাজে ফেরেনি। তারা কারখানা ভাঙচুর করছে, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে, জনজীবনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেয়া হচ্ছে। কিছু ব্যতয় হলে সেখানেও পরিশোধ করে দেয়া হবে। তবে আমরা দেখেছি যেখানে নতুন ওয়েজ অনুযায়ী বেতন দেয়া হয়েছে সেসব কারখানায় বেশি ভাঙচুর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছেই। গতকাল রোববারেও আশুলিয়া ও সাভারে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভের কারণে আশুলিয়ার জামগড়া ও নরসিংহপুরের অন্তত ৫০টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয় অন্তত ১০ জন শ্রমিক। মজুরি কাঠামো অনুযায়ী প্রতিশ্রুত মজুরি না দেওয়া এবং মজুরি কাঠামোর পরিবর্তনের দাবিতে এই বিক্ষোভ হচ্ছে। বিভিন্ন সড়ক ও কারখানার সামনে সামনে টহল দেয় পুলিশ ও বিজিবি। শিল্প পুলিশ-১-এর সুপার সানা শামিনুর রহমান বলেন, গতকাল ৫০ টির মতো কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ