ঢাকা, সোমবার 14 January 2019, ১ মাঘ ১৪২৫, ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষে আহত ২০

স্টাফ রিপোর্টার : টানা আন্দোলনে গতকালও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সরকার নির্ধারিত নতুন বেতন কাঠামো সমন্বয় ও বাস্তবায়নের দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। তবে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে এখনও কথা বলেনি শ্রমিক নেতারা।
গতকাল রোববার সকালে আশুলিয়ার জামগড়া, নরসিংধিসহ ১২ পয়েন্টে পোশাক শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। এসময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন শ্রমিক। আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তবে গতকাল মজুরি কাঠামো পরিবর্তনের মিটিং ছিল পূর্ব নির্ধারিত। এ কারণেই আন্দোলন হয়েছে অনেকটা ঢিলেতালে। শ্রমিকদের  এ মিটিং এ ভালো কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে। দুটি গ্রেড বাড়িয়ে এখন পাঁচটি কাঠামো করা হয়েছে। এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তবে তারা এখনও এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। কোন প্রতিক্রিয়াও জানাননি। আন্দোলন অব্যাহত থাকবে না পিছু হটবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
শ্রমিকরা জানান, গতকালও আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বাইপাইল-আবদুুল্লাহপুর মহাসড়কের আশুলিয়ার নরসিংপুর অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হন। এদিকে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা টানা সপ্তম দিনের মত উৎপাদন বন্ধ থাকায় মালিকরা চরম বিপাকে পড়েছে।
এছ্াড়া সাভারে বেশিরভাগ পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও সকালে উলাইল এলাকার এইচ আর টেক্সটাইল গার্মেন্টসে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। কোন প্রকার গুজবে কান না দিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়েছে শিল্প পুলিশ ১ এর পরিচালক শানা শামীনুর রহমান।
 বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গতকাল রোববার গাজীপুরে বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে এদিন জেলার ৪০ কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে টঙ্গী বিসিক এলাকার এক কারখানার শ্রমিক নাজমুলসহ কয়েক শ্রমিক জানান, বেতনভাতা বৃদ্ধির দাবিতে শনিবার টঙ্গী বিসিক এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সকাল হতে আন্দোলন করছিল। এসময় স্থানীয় ট্রিপল ই (ট্রাইভল) পোশাক কারখানার পাঁচ শ্রমিককে সাদা পোশাকধারীরা ধরে নিয়ে গেছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং তারা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা পার্শ্ববর্তী টঙ্গী স্টেশন রোড মোড় এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও টঙ্গী-নরসিংদী সড়ক মোড়ের উপর অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় তারা বেশ কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভাংচুর করে।
পুলিশ অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই কারখানাসহ ওই এলাকার প্রায় ২৫টি কারখানা রোববারেই জন্য ছুটি ঘোষণা করে কর্তপক্ষ। ছুটি ঘোষণার পর এসব কারখানার শ্রমিকরাও কারখানা থেকে বেরিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে সড়কে নেমে পড়লে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও টঙ্গী-নরসিংদী সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
টঙ্গী (পূর্ব) থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও টঙ্গী-নরসিংদী সড়ক থেকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তিনি বলেন, শ্রমিক অসন্তেষের ফলে স্থানীয় বিসিক এলাকার প্রায় ২০টি কারখানা রোববার জন্য ছুটি হয়ে যায়।
সরকার ঘোষিত মজুরি কাঠামোয় বৈষম্যের অভিযোগে ন্যূনতম বেতন ভাতা বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে গতকালও গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে।
এদিন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ি, টঙ্গী, গাজীপুরা, ভোগড়া, চান্দনা চৌরাস্তা, ইসলামপুর, সাইনবোর্ড, বোর্ডবাজার ও নলজানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকাল হতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসে। এসময় তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য তারা আশেপাশের বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের আহ্বান জানায় এবং কারখানায় ইটপাটকেল ছুড়ে ভাংচুর করে।
বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ ও গাড়ি ভাংচুর শুরু করে।
এতে মহাসড়কগুলোর কয়েকস্থানে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় মহাসড়কের উপর থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে শিল্প পুলিশ, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়।
কর্মকর্তারা জানান, সরকার ঘোষিত বেতন কাঠামোয় পোশাক কারখানার সিনিয়র-জুনিয়র অপারেটরদের মূল বেতনসহ আনুসাঙ্গিক খাতের ভাতাদি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের আগের ঘোষিত গেজেটে কর্মীদের দক্ষতা অনুযায়ী তাদের গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে।
 এ ক্ষেত্রে তাদেরকে বেতন ভাতা কম দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। অথচ বিভিন্ন মহল সিনিয়র ও দক্ষ অপারেটরদের ভাতাদি বৃদ্ধি করা হয়নি বলে গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনে ইন্দন দিচ্ছে। এতে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে তারা অযৌক্তিকভাবে বেতন ভাতা বাড়ানোর দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ ও আন্দোলন করে ভাংচুর করে আসছে।
মালিক পক্ষ বলছেন,শ্রমিকদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা বেতন কাঠামো পরিবর্তন করেছি। আমরা আশা করছি আজ থেকে আর কোন আন্দোলন হবে না। এর পরেও যদি আন্দোলন হয় তাহলে আমরা আরোও কঠোর অবস্থান নিবো। প্রয়োজনে আমরা কারখানা বন্ধ করে দিব।
আমরা আশা করছি পোশাক খাতে আবারও শান্তি নেমে আসবে। শ্রমিক মালিক মিলে আমরা আবারও দেশ এবং দেশের রফতানি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। রফতানির স্বার্থে আমরা সকল শ্রমিকের সহায়তা চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ