ঢাকা, সোমবার 14 January 2019, ১ মাঘ ১৪২৫, ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পার্লামেন্টের বাইরেও বিরোধী দল হয় -খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার : কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বিরোধী দল শুধু পার্লামেন্টের ভেতরেই হয় না, পার্লামেন্টের বাইরেও বিরোধী দল হয়। যারা জনগণের কথা বলে, মানুষের অধিকারের কথা বলে তারাই বিরোধী দল।’
গতকাল রোববার দুপুরে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নং বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানির সময় তিনি একথা বলেন।
এই মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার নিজের পক্ষে শুনানিতে বলেন, ‘আজ আমরা বিরোধী দলে আছি বলেই বিপদে পড়েছি।’ এ সময় পাশ থেকে এক আইনজীবী প্রশ্ন করেন- ‘আপনারা কি বিরোধী দলে আছেন?’ তখন এর জবাবে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।
এর আগে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে হুইল চেয়ারে করে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এই কারাগারেই দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বন্দী রয়েছেন তিনি। গতকাল নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। আগামী ২১ জানুয়ারি চার্জ শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালতে বেগম জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার নিজের পক্ষে শুনানি শুরু করেন। এরপর তিনি গতকালের জন্য শুনানি শেষ করার আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর আসামি গিয়াস উদ্দিন মামুন, সেলিম ভূঁইয়ার পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অভিযোগ শুনানি করেন।
এছাড়াও আসামী এম ইউছুফ নিজের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ভুয়া মামলায় আজ আমি আসামী হয়েছি। মামলায় আসামী হওয়ার কারণে আমার পেনশন বন্ধ হয়ে আছে। আমার ছেলেমেয়ে ও সংসারের খরচ চালাতে কষ্ট হচ্ছে। আমি আপনার কাছে এই মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চাচ্ছি।
এরপর আদালত পরবর্তী অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। অপরদিকে ব্যারিস্টার মওদুদের একটি আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন।
মামলা করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অন্য আসামীরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দী রাখা হয়। সেখান থেকেই গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। টানা এক মাস ২ দিন বিএসএমএমইউয়ে চিকিৎসা নেয়ার পর ৮ নভেম্বর তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ