ঢাকা, সোমবার 14 January 2019, ১ মাঘ ১৪২৫, ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গ্রামীণ জনপদ থেকে বিলুপ্তির পথে ‘ডাহুক’ পাখি

মিরসরাই : মিরসরাইয়ের মঘাদিয়া শেখের তালুক গ্রামে এমন অনেক ডাহুক পাখি এখনো শিকারীদের হাত থেকে বেঁচে আছে এলাকার কিছু সচেতন মানুষের জন্য -সংগ্রাম

মো: ছায়াফ উল্লাহ, (মিরসরাই) থেকে : “ডাহুক” নামটি অনেক সুন্দর হওয়ায় পল্লী কবি জসিম উদ্দিনসহ অসংখ্য লেখকের গান, গল্প, কবিতা ও নাটকে বহুবার উঠে এসেছে এই পাখির নামটি। নিসর্গের কবি জীবনানন্দ লিখেছেন, "মালঞ্চে পুষ্পিতা অবনতামুখী/ নিদাঘের রৌদ্রতাপে একা সে ডাহুকী/ বিজন তরুণ শাখে ডাকে ধীরে ধীরে/ বনচ্ছায়া অন্তরালে তরল তিমিরে।  পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এই পাখির নামে নিরবধি বয়ে চলেছে ডাহুক নদী। চট্টগ্রামের বৈচিত্রপূর্ণ জনপদ মিরসরাই উপজেলার গ্রামের তেপান্তর পুকুর, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় জলাভূমি ও পতিত পুকুরের ঝোপে-ঝাড়ে থাকা এই পাখিটি এখন দিনে দিনেই হারিয়ে যাচ্ছে।  রাতে ‘কোয়াক’ ‘কোয়াক’ ডাক শুনে সহজেই চিনতে পারা যায় তাকে। ডাহুকের লেজ ছোট, লেজের নিচের অংশ লালচে আভাসমৃদ্ধ। পিঠের রং ধূসর থেকে খয়েরী-কালো, মাথা ও বুক সাদা। পা লম্বা। ঠোঁট হলুদ, ঠোঁটের উপরে লাল রঙের একটি ছোট দাগ আছে। দেহ কালচে। মুখমন্ডল, গলা, বুক ও পেট সম্পূর্ণ সাদা। মাটিতে ঝোপের তলায় এরা বাসা বাঁধে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর এদের প্রজননকাল। ৬/৭ টি ডিম পাড়ে। ডিমের রং ফিকে হলুদ বা গোলাপী মেশানো সাদা। ডাহুক-ডাহুকী উভয়েই ডিমে তা দেয়। ডাহুক আসলে চিরবিরহী একটি পাখি। সঙ্গীহীন হলে এরা পাগল হয়ে যায়। বাচ্চাদের রং সব সময় হয় কালো। জলজ পোকা-মাকড়, উদ্ভিদের কচি ডগা, শ্যাওলা এদের প্রিয় খাবার।  পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাডাও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। কোনো কোনো জায়গায় এদেরকে ডাইক, পান পায়রা, ধলাবুক ডাহুক নামেও ডাকা হয়। সারা পৃথিবীতে প্রায় ৮৩ লক্ষ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে এদের আবাস। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে ডাহুক পাখিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের অসতর্কতার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পাখিটি। উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের শান্তা মিয়া কাজী বাড়ির বাসিন্দা শাহ এমরান চৌধুরী বলেন, আমাদের শেখেরতালুক গ্রাম সহ পুরো জনপদই ডাহুকপ্রবণ এলাকা, কথা বলতে বলতে তিনি তাঁর বাড়ির সামনের ডোবার পাশে ঝোপ থেকে বেরিয়ে নিরবে একদল ছানা সহ ডাহুক পরিবার দেখালেন। একটু শব্দ হতেই মা ডাহুকী তার বাচ্চাদের নিয়ে উধাও। চলে গেছে নিরাপদ আশ্রয়ে। তিনি বললেন এখনো এখান থেকে ডাহুক ধরতে আসে কিছু পাখি শিকারী।  কিন্তু আমরা এইসব শিকারীদের সন্ধান পেলে তাড়া করি। এরপর ও সকলের অলক্ষে শিকারীরা থেমে নেই। এভাবে প্রকৃতি হারাচ্ছে দিনে দিনে সমৃদ্ধ নিজস্ব রূপ। ডাহুক খুব সতর্ক পাখি। আত্মগোপনে পারদর্শী। বাসা করে পানির কাছে ঝোপঝাড়ের ভেতরে অথবা ছোট গাছের ঝোপালো ডালে। নিরাপত্তা ঠিকঠাক থাকলে মাটিতেও বাসা করে। প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতায় ও দারুণ লড়াকু পাখি এরা। প্রকৃতিতে এদের নিরাপত্তা দিতে অবশ্যই এদের বাসস্থান ধ্বংস বন্ধ করতে হবে, না হলে সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন বিপন্নের লাল তালিকায় লেখা হবে ডাহুক পাখির নাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ