ঢাকা, সোমবার 14 January 2019, ১ মাঘ ১৪২৫, ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাইন্যাছোলা-মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন

গুইমারা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা, ১২ জানুয়ারি: বহু প্রতীক্ষিত এবং প্রত্যাশিত সদ্য প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি’র এবং  খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলার সীমান্ত এলাকা বাইন্যাছোলা –মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক শিক্ষাকার্যক্রমের শুভ  উদ্বোধন  করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১০ জানুয়ারী) দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে  উদ্বোধন করেন,২৪ আর্টিলারী ব্রিগেড গুইমারা রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম সাজেদুল ইসলাম । পরে উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বছরের  বই তুলে দেন তিনি।
এ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এবং লক্ষীছড়ি জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: মিজানুর রহমান পিএসসি,জি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা  সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,লক্ষীছড়ির নবাগত জোন কামন্ডার লে: কর্ণেল ফেরদৌস,ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম বাবু,লক্ষীছড়ির  ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান অংগ্য মারমা,ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মুশফিকুর রহমান,লক্ষীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল,ফটিকছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফেরদৌস হোসেন,লক্ষীছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার সারোয়ার ইউছুফ,ফটিকছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ বাবুল আখতার,লক্ষীছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ আব্দুল জব্বার, কাঞ্চন নগর ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ উদ্দিন চৌধুরীসহ জনপ্রতিনিধি,অভিভাবক,গণ্যমান্য ব্যক্তি,সাংবাদিক,সামরিক পদস্থ কর্মকর্তা,শিক্ষক/শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীরা।
এসময় প্রধান অতিথি বলেন,পার্বত্য জনপদের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে  এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে উজ্জল ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন দেখাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্যাঞ্চলে কাজ করছে। মাত্র দুই মাসের মধ্যে একটি দুর্গম এলাকায় ভূমি ক্রয় থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সেনাবহিনীর সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। সেনাবাহিনী সবসময় এবং সবকাজে পাহাড়ের মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে। প্রয়োজন শুধু শান্তি এবং সম্প্রীতির।
এসময় তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে নতুন বছরের বই তুলে দিয়ে  বলেন, প্রতিযোগিতার বিশে^ টিকে থাকার একটি অস্ত্র তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হল। তোমার এটির মাধ্যমে শিক্ষা,জ্ঞানের মমার্থ হৃদয়ে ধারণ করবে এবং তার সৎ ব্যবহার করবে। তাহলেই তোমরা একদিন এই স্কুলের সম্মান এবং সুনাম বয়ে আনতে পারবে।তোমাদের মেধা ও মনন দিয়ে স্কুলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশে তিনি বলেন,এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিকভাবে শিক্ষা দানের মাধ্যমে একজন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আপনাদের এবং আপনারা এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।
উল্লেখ্য,দুর্গম অত্রালাকার ১৯টি গ্রামের প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস করলেও উচ্চ শিক্ষার কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সকলের সার্বিক সহযোগিতায় গত ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে  বিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।মাত্র দুইমাসের ব্যবধানে বিদ্যালয়টি আজকের জায়গায় দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ মোট ১৩জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।প্রথম বছরই সর্বমোট ৩৮৭জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন শাখায় ভর্তি হয়েছে। অত্রালাকাবাসীর আশা উক্ত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে উচ্চ শিক্ষাসহ ভবিষ্যতে অত্র জনপদের আর্থসামাজিক  ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হবে।

আর্কাইভ