ঢাকা, সোমবার 14 January 2019, ১ মাঘ ১৪২৫, ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বরগুনায় হচ্ছে আরেকটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা : সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে দুই কিলোমিটার এবং সুন্দরবন (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বরগুনা জেলায় নির্মিত হচ্ছে আরও একটি কয়লাভিত্তিক নতুন ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এ জন্য এরই মধ্যে বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র পেয়েছে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে এ কেন্দ্র। তবে গত বছরের ১২ এপ্রিল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত (পার্চেজ এগ্রিমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন) চুক্তি করে ফেলেছে। ২৫ বছর মেয়াদের এই চুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ টাকা। এই কেন্দ্র স্থাপনে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা।
সংসদ ভবনে গতকাল অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৪৬তম বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম। কমিটির সদস্য ও সংসদের হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক এমপি এবং এম এ লতিফ এমপি বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে বাস্তবায়নাধীন কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র সমূহের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। জানানো হয়, গত দুই বছরে বেসরকারি বেশ কয়েকটি কোম্পানি সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের চুক্তি করলেও অনেক কোম্পানির কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। তবে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং এটি আগামী বছর থেকে উৎপাদনে যেতে পারবে। এ ছাড়া বরগুনার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের গতি সন্তোষজনক। সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপিত বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ চুক্তি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৭ সালে কয়লা আমদানি করে প্লান্ট চালানোর জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটির অগ্রগতি ১৮ শতাংশ। আর বরগুনা জেলায় নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অগ্রগতি ২২ শতাংশ। উৎপাদনে যাবে ২০২২ সালে। এই প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চীনের ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ ও বাংলাদেশের আইসোটেক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আইসোটেক ইলেকট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড’।
প্রকল্প বাস্তবায়নে এরই মধ্যে পরিবেশ অধিদফতরের অবস্থানগত সার্টিফিকেট পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ, জমি ক্রয়, বাঁধ নির্মাণ, মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এসব কাজ শেষে দেওয়া হবে স্থাপনা নির্মাণের ছাড়পত্র। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে যুক্ত হবে ন্যূনতম ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ৩০০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এই কেন্দ্র স্থাপনে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা।
সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়, পরিবেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এখন সেখানে চলছে স্থানীয় এলাকাবাসীর জন্য পুনর্বাসন কার্যক্রম। এ জন্য প্রকল্প এলাকায় সাড়ে তিন একর জমি কেনা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে পানি উন্নয়নের বোর্ডের জমিতে ১০৪টি পরিবার বসবাস করে। তাদের প্রত্যেককে পাঁচ শতক করে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সেখানে নির্মিত হবে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির। থাকবে সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ