ঢাকা, রোববার 24 March 2019, ১০ চৈত্র ১৪২৫, ১৬ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক পায়নি মানবাধিকার কমিশন

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

ভোটের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক থাকার ‘প্রমাণ মেলেনি’ বলে প্রতিবেদন দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তথ্যানুসন্ধান কমিটি।তবে ধর্ষণের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে মানবাধিকার কমিশনের ওই প্র তিবেদনে।

গত ২ জানুয়ারি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের এক সপ্তাহের মাথায় তথ্যানুসন্ধান কমিটি এ প্রতিবেদন দিয়েছে, যা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়, “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে ভিকটিমের মারপিট ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার কোনো সম্পর্ক তদন্তকালে তদন্ত কমিটির সামনে উন্মোচিত হয়নি।

“বরং, ভিকটিমের স্বামীর দায়েরকৃত এজাহারের ভাষ্যমতে এটি আসামিদের সাথে ভিকটিমের পরিবারের পূর্বশত্রুতার জের।”

গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়।

ওই নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘সাঙ্গপাঙ্গরা’ বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।

চরজব্বার থানায় ওই নারীর স্বামীর দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা তার বসতঘরে ভাংচুর করে, ঘরে ঢুকে বাদীকে পিটিয়ে আহত করে এবং সন্তানসহ তাকে বেঁধে রেখে দলবেঁধে ধর্ষণ করে তার স্ত্রীকে।

ধর্ষণের ওই ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আসার পর তথ্যানুন্ধান কমিটি গঠন করে মানবাধিকার কমিশন।

কমিশনের পরিচালক আল-মাহমুদ ফায়জুল কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই কমিটি সুবর্ণচরে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে। 

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, “ভিকটিম তদন্ত কমিটির সামনে দেওয়া জবানবন্দির কোথাও বলেননি যে তিনি ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন বা তিনি ধানের শীষ প্রতীকের নেতা, কর্মী, সমর্থক বা আসামিরা ধানের শীষের বিপরীত দলের নেতা, কর্মী, সমর্থক বা পোলিং এজেন্ট।”

তবে প্রতিবেদনের আরেক জায়গায় ভিকটিমের জবানবন্দির বরাত দিয়ে বলা হয়, “তিনি ১৪ নম্বর ভোট কেন্দ্র যান, তাকে নৌকায় ভোট দিতে বলে, তিনি বলেন তার ভোট তিনি দিবেন, তখন বলে যে যান বিকাল বেলা খবর আছে। সোহেল বলে রাইতে দেখা করবে, সন্ধ্যার পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েন।”

এরপর রাত সাড়ে ১২টার পর মারপিট ও ধর্ষণের ঘটনা ওই নারীর জবানিতে তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

এজাহার ও ভিকটিমের জবানবন্দির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, “ভোট দেওয়ার কারণে তার ধর্ষণ ও গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া বা আসামিদের আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়া বা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মী দ্বারা তার মারপিট ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না।”

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, “ভিকটিম ও তার স্বামীর জবানবন্দি, এজাহারের ভাষ্য এবং ইনজুরি সার্টিফিকেট ও প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট একত্রে বিশ্লেষণ করে এবং গাইনি ডাক্তারের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ভিকটিমকে ধর্ষণ করা হয়েছে।”

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে।

এ অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

তিনি বলেন, 'বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে প্রচন্ড মারধোর করেছে। এরপর পালাক্রমে ধর্ষণ করছে। এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই ঘটনার স্টেটমেন্ট সবগুলোই একই ধরনের। তদন্ত কমিটির কাছে প্রমাণিত হয়েছে এবং ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। দোষীদের কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ