ঢাকা, বুধবার 16 January 2019, ৩ মাঘ ১৪২৫, ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আমাদের মিডিয়া ও সাম্প্রদায়িকতা

মো: রাসেল হোসেন : সাম্প্রদায়িক দুষ্টচক্র কম-বেশি সব দেশেই পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এটা নিয়ে রাজনীতি করা মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। আজকাল আমাদের দেশে প্রায়ই সাম্প্রদায়িকতার কথা উচ্চারণ করা হচ্ছে। এ শ্রেণির বেশিরভাগ লোক ইহলৌকিক বা বাম ধারার লোক। এরা একথা প্রমাণ করতে চাইছে যে, যেন এদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতা বিদায় করা। কিন্তু এরা সাম্প্রদায়িকতার বিপক্ষে অনেক কথা বললেও নির্দিষ্ট করে বলেনা যে, কাদের বিরুদ্ধে এই অভিযান। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে দেশের একজন জাতীয় অধ্যাপক সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে একথাগুলো বললেন সে মঞ্চ কি অসাম্প্রদায়িক ? সেখানে তো লেখা ছিলনা বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। তাহলে কি অধ্যাপক মহোদয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদেরকে প্রতিহত করার আহবান জানালেন? হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ধর্ম পালন করলে অসাম্প্রদায়িক আর মুসলিমরা পালন করলে সাম্প্রদায়িক? আবার এ শ্রেণির কিছু কিছু বক্তব্য ইঙ্গিতপূর্ণ। এসব বক্তব্য থেকে সহজেই অনুমান করা যায় এরা সাধারণত ধর্ম ও ধর্মীয় শক্তির বিপক্ষে। এরা বিশেষভাবে ইসলামি শক্তির বিরুদ্ধে কথা বলে থাকে। তারা কি এসব বক্তব্য দিয়ে সহনশীলতা প্রকাশ করতে চান? প্রকৃতপক্ষে এদের আচারণই অসহনশীলতা প্রকাশ করে। ধর্ম কখনো অসহনশীলতার প্রতীক হতে পারেনা। আর এক্ষেত্রে ইসলাম তো স্বীয় স্বাধীনতার কথা বলে। স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের কথা বলে থাকে। কিন্তু কিছু লোক সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কথা বলে প্রকৃত পক্ষে ধর্মের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর এদের সাহায্য করেছে কিছু দলকানা মিডিয়া। এদের একটি বড় অংশই সারাক্ষণ ইসলামিস্টদের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডায় ব্যস্ত। তারা সারাক্ষণ বিশেষ করে একটি ইসলামি দলের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অদ্ভুদ অদ্ভুদ কথা বলছে। এরা প্রগতিশীলতা ও চেতনার কথা বলছে কিন্তু এরা এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারছে না। বর্তমানে আমাদের দেশে ঘুষ দুর্নীতি একটা নিত্য নৈমিত্ত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিআইবির হিসাব মতে ২০১৭ সালে সেবা খাতে ঘুষ বাণিজ্য ছিল ১০ হাজার ৬৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে নাকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী শির্ষে ছিল। অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের মধ্যে পাসপোর্ট (৬৭.৩%), বিআরটি এ (৬৫.৪%), বিচারিক সেবা (৬০.৫%) ভূমি সেবা (৪৪.৯%) মদি ও টি আবির সমীক্ষা নিয়ে অনেকে স্বচ্ছতার প্রশ্ন করেছেন। কিন্তু সেটাও আমাদের মিডিয়া খুঁজে বের করতে পারেনি। কিন্তু আমাদের মিডিয়া যদি সারাক্ষণ কিছু নির্ধারিত শব্দ যেমন: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, পাকিস্তানি মৌলবাদ, প্রগতিশীল, মৌলবাদ, জামায়াত, শিবির, বিএনপি, খালেদা, তারেক, জঙ্গি, এসবের পিছনে না ঘুরে এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের পরিশ্রমের একভাগও খরচ করতো তাহলে সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা আরো সহজ হতো। আমরা আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দিকে তাকালে বুঝতে পারি সেখানে গো-রক্ষা কমিটির উগ্রবাদীরা কি করেছে? আমাদেরকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে ‘জয় শ্রীরাম জয়মতাকি’ স্লোগান না দেওয়ায় কাশ্মীরের এক অসহায় ইমামকে কিভাবে নির্যাতন করেছিল বিজেপির অনুগামি উগ্র বজরং দল। এমনকি ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলাও তাদের উগ্র নীলনকশা থেকে রেহাই পাচ্ছে না এর অংশ হিসাবে তারা বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। প্রথমে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধংস করা হলো রামজন্মভূমির ধূয়া তুলে। এখন আবার তারা শত বছরের ঐতিহ্য তাজমহলকে টার্গেট করেছে এখন তারা। তাজমহলকে তেজোমহল হিসাবে প্রচার করতে চাইছে। ভারত বরাবরই নিজেকে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসাবে দাবি করে থাকে। আর এ দাবীকে সামনে রেখেই কিছু প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবি সাম্প্রদায়িকতার মূল উত্থান করতে গিয়ে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রাণপ্রিয় ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কথা বলে যাচ্ছে এবং এটাকেই তারা প্রগতি বলে পরিচয় করাতে চাচ্ছে। ভারতের সৃষ্ট বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশ হিন্দু নির্যাতন চলছে বলে দাবি করেছে। তারা সামান্য পাড়া মহল্লার ঘটনাকেও সাম্প্রদায়িক বলে হাক দিচ্ছে। যার প্রধান এজেন্ট কিছু মিডিয়া এবং নির্দিষ্ট বুদ্ধিজীবিরা। ভারতে যখন মুসলিম নির্যাতন হয় তখন এরা সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ পান না। এরা শুধু ভাবে কিভাবে মুসলমান ও ইসলামকে টার্গেট করা যায়। অহিংসা পরম ধর্ম এটা বৌদ্ধদের দৈব বাণী। অথচ মাত্র মুসলমান হওয়ার কারণে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা করা হয়েছে। বাধ্য করা হয়েছে দেশ ছাড়তে। বলা যায় সবদিক থেকে মুসলমানরাই হামলার শিকার। ভারত যেখানে প্রতিনিয়ত মুসলিমদের নির্যাতন করছে সেখানে সোচ্চার হতে দেখা যাচ্ছেনা প্রগতীশীল দাবিদার মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবিদের। ভারত যে একটা উগ্র সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ভারতের স্বয়ংসেবক সংঘের অন্যতম নীতিনির্ধারক গোলওয়ালকরের লেখা থেকে। তার লেখা WE ARE OUR NATIONHOOD DEFIEND বইতে তিনি লিখেছেন, “The foreign races in Hindusthan must either adopt the Hindu culture and language, must learn to respect and hold in reverence Hindu religion, must entertain no idea but those of the glorification of the Hindu race and culture i.e., of the Hindu nation and must losethire separate existence to marge in the hindu race or may stey in the country Who have chosen to live in our country. wholly subordinated to the hindu Nation, claiming nothing, deservigno privileges, far less any perferential treatment not even citizen’s rights. there is, at least, shuld be, no other course for them to adopt. We are an old nation; let us deal, as old nations ought to and to deal, with the foreign races, who have shosen to live in our country.” অর্থাৎ হিন্দুস্তানে বসবাসকারী বিদেশী জাতির সম্প্রদায়ের লোকদের অবশ্যই মেনে নিতে হবে হিন্দু সংস্কৃতি ও ভাষা, অবশ্যই সম্মান করতে হবে এবং ধারণা করতে হবে হিন্দু ধর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির অর্থাৎ হিন্দু জাতিকে মহিমান্বিত করার আচার ছাড়া সাদরে অন্য কোনো ধারণাচার পালন করতে পারবে না, তাদেরকে অবশ্যই তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বিলোপ করে মিশে যেতে হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে। তা না হলে তাদেরকে এদেশে থাকতে হবে হিন্দু জাতির পুরোপুরি অধীনস্থ হয়ে, যেখানে এরা দাবি করতে পারবেনা কিছুই, এরা কোনো অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য হবে না, বিন্দুমাত্র অগ্রাধিকার আচরণ পাবে না এমনকি পাবে না কোনো নাগরিক অধিকার ও। তাদের জন্য অন্য কোনো বিকল্প ও থাকবে না। আমরা একটি পুরনো জাতি। যারা দেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একটি পুরনো জাতি হিসেবে আমাদের তাদের সাথে বিদেশী হিসেবেই আচরণ করা উচিত। এখন তাহলে প্রশ্ন আসে সাম্প্রদায়িক কারা? এত কিছু স্বত্ত্বেও আমাদের মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা প্রকৃত সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নিশ্চুপ। সব ধর্মেই কিছু কুলাঙ্গার থাকে এদেশের হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমান সবাই মিলে তাদের দমন করবো এটাই প্রত্যাশা। নির্দিষ্ট এক ধর্মে দুষ্কৃতিকারী আছে অন্যে ধর্মে নেই এমন সাফাই গাওয়া ধর্মবিদ্বেষী মানুষের কথা ছাড়া কিছু নয়।
নিজে অন্যদের সন্ত্রাসী বলবে আবার নিজেই ক্ষতার মদমত্ততায় রাষ্ট্রীয় স্বেচ্ছাচারিতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাস করে বেড়াবো এমন দ্বৈতনীতিতে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না । আর আমাদের একটা বিষয় মনে রাখা উচিত অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের একটা নিজস্ব আদর্শ আছে। তাদের নাম খাদ্যভাস, পোশাক-আশাক আদব-কায়দা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন-কানুন   নৈতিকতা এমন কি তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় ইসলামের চেয়ে অন্য কিছু প্রভাব ফেলতে পারেনি। অতএব আমাদের সবার উচিত হবে এসব হীনকাজ থেকে দূরে থাকা। তানা হলে দেশ আরো বৈষম্যের দিকে ধাবিত হবে।
ই-মেইল : ahmadshees82@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ