ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 January 2019, ৪ মাঘ ১৪২৫, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার: প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর (৭২) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। আমানুল্লাহ কবীরের মৃত্যুর খবর তার ছেলে শাতিল কবীর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
গতকাল বুধববার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের জানাযা। বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। পরে সেখানে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২ জানুয়ারি বিএসএমএমইউর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আমানুল্লাহ কবীরকে ভর্তি করা হয়েছিল। গত কয়েক দিন অপরিবর্তিত থাকলেও মঙ্গলবার তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। আমানুল্লাহ কবীর ডায়াবেটিস ও লিভারের নানা জটিলতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বছরের শুরুতে অসুস্থতার কারণে তিনি শ্যামলীর ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ধানম-ির ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ইবনে সিনা থেকে তাকে বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়।
প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর ১৯৪৭ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। সাংবাদিকতা জগতে রয়েছে তার সাড়ে চার দশকের অবদান। বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো অনুষ্ঠানগুলোতে আমানুল্লাহ কবীর ছিলেন নিয়মিত আলোচক।
৭২ বছর বয়সী আমানুল্লাহ কবীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যৈষ্ঠ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজে শোক নেমে এসেছে। আমানুল্লাহ কবীর ১৯৪৭ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। আমানুল্লাহ কবীর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দৈনিক আমার দেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর বার্তা সম্পাদক ছিলেন। ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন আমানুল্লাহ কবীর।
জামায়াতের শোক : প্রবীণ সাংবাদিক বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে বন্ধ থাকা দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আমানুল্লাহ কবীরের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ গতকাল বুধবার শোকবাণী দিয়েছেন।
শোকবাণীতে তিনি বলেন, প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর সব সময়ই স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে গিয়েছেন। সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা ও বিশিষ্ট কলামিস্ট জনাব আমানুল্লাহ কবীরের লেখনী বিভিন্ন সময়ে জাতিকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছে। তিনি তার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
তার জীবনের নেক আমলসমূহ কবুল করে তাকে জান্নাতে স্থান দান করার জন্য তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করেন এবং তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে এ শোকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।
বিভিন্ন সংগঠনের শোক
সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ও মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণমাধ্যমে পাঠানো আলাদা শোকবার্তায় তারা এই সাংবাদিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন তার শোকবার্তায় বলেন, সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের মৃত্যুতে দেশ ও সাংবাদিক সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি।
অপর এক শোকবার্তায় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আমানুল্লাহ কবীরের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। সাংবাদিকতা জগতে তার অবদান নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের এই দুঃসময়ে তার মৃত্যু গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
বিএফইউজে-ডিইউজের শোক
আমানুল্লাহ কবীরের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতৃবৃন্দ। এক যৌথ শোকবাণীতে বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ এবং ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমানুল্লাহ কবীর ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক পেশাদার সাংবাদিক। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষার সাংবাদিকতায় তার দক্ষতা ছিল ঈর্ষণীয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। অবিভক্ত  ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ও পরে সভাপতি হিসেবে তিনি যে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ মরহুম আমানুল্লাহ কবীরের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ