ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 January 2019, ৪ মাঘ ১৪২৫, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জাতীয় নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ করা উচিত -ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগ করা উচিত ছিল । তিনি বলেন, ‘এর আগে তার (মির্জা ফখরুল) নেতৃত্বে বিএনপি আন্দোলনেও ব্যর্থ হয়েছিল।
গতকাল বুধবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ঈসমাইল চৌধুরী সম্রাট।
মির্জা ফখরুলকে ‘ বেপরোয়া চালক’ আখ্যা দিয়ে কাদের বলেন, ‘ বেপরোয়া চালক কখন যে কোন এক্সিডেন্ট ঘটায়, সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। বিএনপি ১০ বছর পর নির্বাচন করলো। ৩০০ আসনের মধ্যে ১০টির কম আসন পেয়েছে। আন্দোলনে ব্যর্থতা, নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়, লজ্জা-শরম থাকলে আরও আগে পদত্যাগ করা উচিত ছিল তার (ফখরুলের)।’
নির্বাচনে কারচুপির জন্য ওবায়দুল কাদেরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মির্জা ফখরুল যে মন্তব্য করেছিলেন, তার জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাকে (কাদের) ক্ষমা চাইতে বলেন কোন দোষে? শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ ভালো লাগছে না, ভালো তো লাগবেই না। এই অভূতপূর্ব নির্বাচনী ফলাফল, পঁচাত্তর পরবর্তীকালের এই গণজাগরণ কেউ আশা করে, দেখেওনি। জনগণের রায়ে ভূমিধস বিজয়। এই বিজয়কে যারা প্রত্যাখ্যান করে তাদেরই ক্ষমা চাওয়া উচিত জাতির কাছে।’
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইলেকশনে যদি কারচুপি হতো আপনি জিতলেন কেমনে (ফখরুল)। এটার জবাব দিন।’
ফখরুল ইসলামের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বেপরোয়া গাড়িচালক। কখন যে অ্যাকসিডেন্ট করে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘যে মহাসচিব ১০ বছরে ১০ মিনিটও আন্দোলন করতে পারেননি, নির্বাচনে ১০টিও আসন পাননি, আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনেও ব্যর্থ, লজ্জা থাকলে তাঁর (ফখরুল ইসলাম) পদত্যাগ করা উচিত।’
বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আমাকে ক্ষমা চাইতে বলেন? কোন দোষে? শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ ভালো লাগছে না? ভালো তো লাগবেই না। এই অভূতপূর্ব ফলাফল পঁচাত্তর–পরবর্তী এই গণজাগরণ বাংলাদেশে কেউ আর কখনো দেখেনি।’ তিনি বলেন, ‘লজ্জা-শরম নেই তো, পদত্যাগও করবে না। নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে? মির্জা সাহেব, আপনি যে জিতলেন, কারচুপি হলে সেখানে আপনি কেমন করে জিতলেন? এটার জবাব দিন।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের এ অভূতপূর্ব বিজয় যারা প্রত্যাখ্যান করছে, তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুন্দর হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, নির্বাচনের দিন বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের কোনো এজেন্ট কি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিবাদ করেছে?
নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক কাদের। তিনি বলেন, টিআইবি গল্প অলীক গল্প সাজাচ্ছে। অবিশ্বাস্য রূপকথার কাহিনি সাজাচ্ছে যে নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি।
ৎটিআইবির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হয়েছে। আপনাদের অথবা প্রতিপক্ষের কোনো প্রতিনিধি নির্বাচনের দিন কোনো কেন্দ্রে কি চ্যালেঞ্জ করেছে? একজন এজেন্ট প্রতিবাদ করেছে?’ টিআইবির কোনো প্রতিনিধি কি কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে প্রতিবাদ করেছে? স্বচ্ছতার বিরুদ্ধে কথা বলেছে? না বললে এত দিন পরে?’ তিনি আরও বলেন, ‘তখন বলেননি, তখন বলার কোনো কারণ খুঁজে পাননি। এত দিন পরে এই অলীক, অবিশ্বাস্য রূপকথার কাহিনি কেন সাজাচ্ছেন, আমরা তা জানি। এর রহস্য আমরা জানি। এর জবাব বাংলাদেশের জনগণই দেবে।’
এর আগে সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী ও রাজপথে সক্রিয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, মনোনয়নে তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ