ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 January 2019, ৪ মাঘ ১৪২৫, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : [ছয়]
ফলে মেহমানদের না খেয়ে ফিরে যেতে হয়। ১১ ডিসেম্বর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যুবলীগের তান্ডব ও পুলিশের তাল্লাশীতে ধানের শীষ প্রার্থী ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ৯ নেতা-কর্মীর বাড়ি তছনছ করা হয়। নরসিংদী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডঃ আব্দুল মঈন খানের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা করে যুবলীগ। হামলায় ১০ জন আহত হয় এবং ১০টি মটর সাইকেল ও ৪টি বাই-সাইকেল ভাংচুর করা হয়। রাজবাড়ির গোয়ালন্দে বিএনপির নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা ১৫ জন আহত ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতানুল ইসলাম মুন্নুকে পুলিশ আটক করে। ১৩ ডিসেম্বর বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল ১১ নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করে যুবলীগ-ছাত্রলীগ। ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের খুলশী ঝাউতলা এলাকায় গুড্ডুর বাসায় হামলা করে যুবলীগ। এ সময় স্বেচ্ছসেবক দল নেতা আলিম উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে আব্দুল্লাহ ঘাটা এলাকায় পোষ্টার লাগানোর সময় যুবদল নেতা শওকত আলীর উপর হামলা করে যুবলীগ-ছাত্রলীগ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মুসলিম উদ্দিনের নির্বাচনী পরামর্শ সভায় যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা ও ভাংচুর। ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কর্মী বেলাল উদ্দিন সন্দ্বীপ হারামিয়া ইউনিয়নে ব্যানার লাগানোর সময় যুবলীগ-ছাত্রলীগ তার হাত-পা কেটে দেয়এবং রহমতপুরে মাহফুজুর রহমানের উপরও হামলা চালায় তারা। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহেরের ধানের শীষ প্রতীকের পোষ্টার ও ব্যানার ছিড়ে ফেলে যুবলীগ-ছাত্রলীগ। ১৭ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদরের রহিমানপুর মাদারগঞ্জ এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পোস্টার লাগাতে বাধা দেয় যুবলীগ। এ সময় তাদের হামলায় স্বেচ্ছসেবক দলের ইউনিয়ন নেতা আবু সায়েম পরাগ আহত হয়। টাঙ্গাইলের মধুপুরে সাইলবাইদ এলাকায় বিএনপি নেতা এ্যাডঃ মোহাম্মদ আলীর গাড়িবহরে হামলা করে যুবলীগ নেতা আইউব, শিমুল ও ছাত্রলীগ নেতা সজীবের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী। এতে মোহাম্মদ আলী আহত হয়। কুষ্টিয়া শহরে বাবর আলী গেট এলাকায় বিএনপির প্রার্থী জাহির হোসেন সরকারের গাড়িতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা গাড়ি ভাংচুরসহ তিনি আহত হন। 
১৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানার ৩৭নং ওয়ার্ডের এছাহাক কনটেইনার ডিপো এলাকায় যুবলীগ দু’গ্রুপের দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে সাহেদ রনি নামে এক খুন হয়। যুবলীগ নেতা মেজবাহ উদ্দিন মোর্শেদ গ্রুপ ও দেবাশীষ পাল দেবু গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ২০ ডিসেম্বর ঢাকার আশুলিয়ায় নৌকা প্রতীকের প্রচারণা চালানোর সময় যুবলীগ দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। যুবলীগ নেতা ফারুক হাসান তুহীন গ্রুপ ও মোশররফ হোসেন মুছা গ্রুপের এই সংঘর্ষে মোশাররফ হোসেন মুছা ও আনোয়ার হোসেনসহ ১০ জন আহত হয়। ২২ ডিসেম্বর বিগত ৪ দিন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বাথুলী বাজার, পরাইখালী, ধানকী মহেড়া ও কুপাখি গ্রামের বিএনপির ৪টি অফিস ভাংচুর করে যুবলীগ। হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জ বাজারে বিএনপির প্রার্থী জি.কে গউসের ওপর হামলা করে অবরুদ্ধ করে যুবলীগ-ছাত্রলীগ। হামলায় ২৫-৩০ জন আহত হয়। পুলিশ ও ইউএনও এসে গউসকে উদ্ধার করে। যশোর শহরে বিজিবি যুবলীগ নেতা তুহীন ও মঈনকে ১টি পিস্তল, ১টি শর্টগান ও কয়েক রাউন্ড গুলিসহ আটক করে। ৩০ ডিসেম্বর গাজীপুর মহানগরীর হারিনাল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে যুবলীগের দলীয় কোন্দলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কাজী আজিম উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের সাবেক ভিপি লিয়াকত হোসেন নিহত হয়। ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডুর পৌর সভার ভোলাগিরি রাস্তার মাথায় দলীয় কোন্দলে যুবলীগ নেতা দাউদ সম্রাট নিহত হয়। যুবলীগ নেতা দাউদ সম্রাট গ্রুপ ও শহীদ গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই হত্যাকান্ড ঘটে।
কৃষক লীগ ঃ ১৭ ডিসেম্বর শেরপুরের নলিতাবাড়িতে বারোমারী বাজারে বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে পুড়াগাঁও উপজেলা কৃষক লীগ যুগ্ম-আহবায়ক আজাদ মিয়ার লোকজন।
শ্রমিক লীগ ঃ ২০ ডিসেম্বর বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে পাতারহাট বন্দরে বিএনপির প্রার্থী জে.এম নূরুর রহমান জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা করে শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঃ ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা-৯ আসনে মানিকনগর এলাকায় বিএনপির প্রার্থী আফরোজা আব্বাস গণসংযোগে গেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের হামলায় সাংবাদিক হায়দার আলীসহ বিএনপির আফরোজা আক্তার শোভা, নূর জাহান আক্তার ইভা, মনোয়ারা রহমান জয়া, শারমিন আক্তার, মিজানুর রহমান ও সোনিয়া আহমেদসহ প্রায় অর্ধশত আহত হয়।  
বিএনপি ঃ ১ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ বিএনপি নেতা মীর সরফত আলী সপু, সাইফুল ইসলাম পটু ও যুবদল গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাটকে আটক করে। ২ ডিসেম্বর বগুড়ার শেরপুর থেকে পুলিশ বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও উপজেলা যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল হামিদকে আটক করে। ৩ ডিসেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুরে টেপিরবাড়ি এলাকা থেকে বিএনপির রেজাউল করীম মৃধা ও রায়হানসহ ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। ৪ ডিসেম্বর বগুড়ার আদমদীঘি থেকে বিএনপির আব্দুল কাদের জিলানী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহের হোসেন পিংকুকে আটক করে পুলিশ। ঢাকার বংশাল মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সভানেত্রী রাজিয়া আলমকে পুলিশ আটক করে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ইকবাল  চৌধুরীকে ডিবি পুলিশ জেল গেট থেকে ফের আটক করে। ৫ ডিসেম্বর ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকা থেকে পুলিশ বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন সিকদার মুরাদকে আটক করে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় কোরালখালী এলাকায় আসামী ধরলে পুলিশের ওপর বিএনপির হামলায় ৪ পুলিশ আহত এবং আটককৃত আনোয়ারুল আজিম এরফানকে ছিনতাই করে। পরে পুলিশ মামুন, রুবেল ও ২ নারীকে আটক করে।
৬ ডিসেম্বর ফরিদপুর সদরের কৈজুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মোল্লাকে পুলিশ কৃষি কলেজের সামনে থেকে আটক করে। নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি সভাপতি বাবুল আলম তালুকদারকে আটক করে পুলিশ। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পুলিশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মাইজগাঁও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ছুফিয়ানুল করীম  চৌধুরীকে করিমপুরের বাড়ি থেকে আটক করে। ৭ ডিসেম্বর ঢাকা  আগারগাঁও নিউরো সাইন্স হাসপাতালের সামনে থেকে জাতীয়তাবাদী সাইবার হলের অফিস সম্পাদক মাহফুজুল হককে আটক করে পুলিশ। ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার হোসেন জুয়েল নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। ৮ ডিসেম্বর ফরিদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক ও ৭ ডিসেম্বর ছাত্রদল নেতা খায়রুল ইসলাম রুমানকে পুলিশ আটক করে। ৯ ডিসেম্বর বগুড়ার শেরপুর বিএনপি নেতা হাসানুল মারুফ শিমুলকে আটক করে পুলিশ। ৯ ডিসেম্বর নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে পুলিশ বিএনপির ৪ নেতা-কর্মীকে আটক করে। আটককৃতরা হলো- বড়াইগ্রাম পৌর ছাত্রদল সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তায়েদুল হক বুলু, নটরাবড়িয়া গ্রামের বিএনপির শাহজাহান কবিরাজ, রহুল আমীন ও সমেজ আলী। ১০ ডিসেম্বর দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থেকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী নয়নকে পুলিশ আটক করে।
শীতাকুন্ডু এলাকা থেকে বিএনপির ১৫ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে এবং কোতোয়ালী থানায় বিএনপি নেতা ইয়াকুব  চৌধুরীকেও আটক করে। ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিন আকন, ইলিয়াস সিকদার ও গোলাম আজমকে পুলিশ আটক করে। নেত্রকোনা পুলিশ বিএনপির ১২ নেতা-কর্মীকে আটক করে। আটককৃতরা হলো- দূর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইমাম হাসান আবু চাঁন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আসাদ, ছাত্রদল নেতা ফয়সাল আহমেদ দূর্জয়, জাহাঙ্গীর, সাজ্জাদ, সদরে জেলা কৃষক দল সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাকিল, চল্লিশা ইউনিয়ন বিএনপি সহ-সভাপতি ইসলাম উদ্দিন, বাবুল ডাক্তার, রৌহা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জুয়েল মিয়া ও লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবুল। নোয়াখালী সদরের দক্ষিণ সুলুকিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে যুবলীগ ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক হানিফ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। এ ছাড়া আরো ৪ জন আহত হয়। ফরিদপুরের সদরের গোলডাঙ্গী বাজারে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইউসুফ আলম মামুন নিহত হয়। আওয়ামী লীগ ঘটনার জন্য বিএনপিকে অভিযুক্ত করে।
১২ ডিসেম্বর ঢাকার গুলশান থেকে বিএনপি নেতা এ্যাডঃ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে আটক করে পুলিশ। ঢাকায় মোহাম্মদপুর থানা বিএনপি সভাপতি ওসমান গণি শাহজাহান ও ৩৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদককে পুলিশ আটক করে। চাঁদপুরের কচুয়া থেকে পুলিশ উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন, সাচার গ্রামের হোসেন মুন্সী, সফিকুল ইসলাম, আবু তাহের, আলী হোসেন, আবুল কাশেম, চন্দ্রা গ্রামের মিলন, বাইছাড়া গ্রামের হাসান, কচুয়া বাজারের মনির হোসেন, নাউলা গ্রামের ইকবাল ও পালাখাল গ্রামের জিয়াউর রহমানকে আটক করে।
ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে পুলিশ বিএনপির আরিফ সরকার, রমজান, এ্যাডওয়ার্ড খান ও শরীফকে আটক করে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আনছার আলী সিকদার, পারখী ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ জিন্নাহ. কোকডহরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, থানা যুবদল নেতা লিটন তালুকদার, ইদ্রিস আলী, নায়েব আলী, মুজিবর রহমান, রাজা মিয়া, উপজেলা ছাত্রদল সাবেক সভাপতি লুৎফার রহমান লেলিন, কালিহাতী পৌর বিএনপি নেতা হারুন-অর-রশীদ, কৃষকদল বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন সভাপতি লাল মিয়া, বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল মালেক মেম্বারকে আটক করে। কুষ্টিয়া সদর থেকে বিএনপির ১৮ নেতা-কর্মী আটক। ঢাকার দোহার থেকে বিএনপির ১৫ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। জামালপুর বিএনপির নেতা নূরুল ইসলামকে ঢাকা হাইকোর্ট এলাকা থেকে আটক করে সাদা পোষাকের পুলিশ। রাজবাড়ির বালিয়াকান্দি থেকে বিএনপির ৭ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর পুলিশ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ নেতা-কর্মীকে আটক করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ