ঢাকা, বৃহস্পতিবার 17 January 2019, ৪ মাঘ ১৪২৫, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

টিআইবির প্রতিবেদন একপেশে মনগড়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে টিআইবির প্রকাশিত প্রতিবেদন একপেশে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সংস্থাটির বেশীরভাগ প্রতিবেদন ত্রুটিপূর্ণ বলেও দাবি করেন তিনি। বুধবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের বাসভবনে টিআইবির প্রতিবেদন নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
এসময় তিনি আরও বলেন, এই প্রতিবেদন ও বিএনপির বক্তব্যের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। দেশে কয়েকটি সংগঠন আছে, যারা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার কাজেই লিপ্ত থাকে। টিআইবি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং বলে যে, তাদের গবেষণাপ্রসূত প্রতিবেদন।
অতীতেও দেখা গেছে, সংস্থাটি যে গবেষণার কথা বলে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে সঠিক কোনো গবেষণা নয়। বেশিরভার প্রতিবেদন হচ্ছে উদ্দেশ্যপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, একপেশে এমনকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই ধরনের মনগড়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান হাছান মাহমুদ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। যারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে এসেছিলেন তারা সবাই এ নির্বাচনের প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে যতগুলো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্যে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অনেক শান্তিপূর্ণ হয়েছে। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে উৎসবমুখর নির্বাচন হয়েছে।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দল ৩০০ আসনে ৮০০ প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। বিএনপি লজ্জাসকরভাবে যেভাবে মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে এ নির্বাচনে ৮০০ প্রার্থীকে ৩০০ আসনে অর্থাৎ প্রায় তিনগুণ প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে তা নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনে কোনো বক্তব্য নেই। পদ্মা সেতু নিয়ে টিআইবি মনগড়া কল্পকাহিনি সাজিয়েছিল-অভিযোগ করে, তথ্যমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুতে যে দুর্নীতি হয়নি, সেটি শুধু দেশে নয়, বিদেশেও প্রমাণিত হয়েছে। কানাডার আদালতে মামলায় হেরে গেছে বিশ্ব ব্যাংক। টিআইবিসহ যেসব সংস্থা কল্পকাহিনী সাজিয়েছিল, তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন ড.হাছান মাহমুদ । টিআইবির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কী না সাংবাদিকদের করা এমন প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের প্রচার এবং প্রকাশনা সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি বেশ কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ত্রুটিপূর্ণ গবেষণার নামে যে সমস্ত প্রতিবেদন সময়ে সময়ে প্রকাশ করেছে এতে টিআইবির গ্রহণযোগ্যতা অনেক নষ্ট হয়ে গেছে। টিআইবির যে গ্রহণযোগ্যতা, ক্রেডিবিলিটি ছিল সেটি এখন আর নেই। জনগণ চাইলে যেকোনো কিছু হতে পারে। আমরা মনে করি ক্রেডিবল বিভিন্ন অরগানাইজেশন থাকা প্রয়োজন যেগুলো বস্তুনিষ্ট সমালোচনা করে। আশা করি টিআইবি তাদের কার্যক্রমকে ঢেলে সাজাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ