ঢাকা, শনিবার 23 February 2019, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভারত থেকে ১৩০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

এবার ভারত থেকে আতঙ্কে বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। মিয়ানমার ফেরত পাঠানোর ভয়ে ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন বাংলাদেশে।গত দুই সপ্তাহে ভারত থেকে কমপক্ষে ১৩০০ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী রাখাইনদের নিষ্ঠুর নির্যাতনের মুখে রাখাইন থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্টের পর ওই রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নারী–পুরুষ। আগে পালিয়ে আসাসহ বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১১ লাখের বেশি।

ভারত থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার এ তথ্য ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) মুখপাত্র নয়না বোস জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে।

সংস্থাটি জাতিসংঘের এজেন্সিগুলো ও অন্যান্য বিদেশি সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে। নয়না বলেন, ৩ জানুয়ারি থেকে এভাবে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গা এসেছে।

খবরে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ২৩০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে ভারত। রোহিঙ্গাদেরকে এভাবে আটক ও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আতঙ্কে তারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসছে। তারা আশ্রয় নিচ্ছে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরে। এএফপিকে নয়না বোস বলেছেন, ৩০০ পরিবারের প্রায় ১৩০০ সদস্য ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তাদেরকে জাতিসংঘের ট্রানজিট সেন্টারে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সি ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ফিরাস আল খতিব বলেছেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবহিত রয়েছেন।

বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) কর্মকর্তারা এএফপিকে জানায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারত থেকে পালিয়ে আসা কয়েক ডজন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠানো হয়। মূলত, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আতঙ্কেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

এদিকে আল জাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, মানবাধিকার কর্মীরা রোহিঙ্গার রক্ষা করতে ভারতের প্রতি আহবান জানালেও হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা তাদের ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে। কয়েক মাস আগে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে কয়েকজন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করে ভারত। সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি আরও পাঁচজন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে দেশটি। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ভারতের সমালোচনা করেছে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার মুখে বিভিন্ন সময় পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম।

দক্ষিণ এশিয়া হিউম্যান রাইটস ডকুমেন্টারি সেন্টারের (এসএএইচআরডিসি) রাভি নেইর আল জাজিরাকে বলেন, বিগত কয়েক বছরে ভারতে রোহিঙ্গাদের জীবন কঠিন করে তুলেছে ভারত সরকার।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিয়মিত রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নিয়ে থাকে। রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তাদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আমাদের নিজেদের সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে জম্মু থেকে ত্রিপুরা, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুই শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম  বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভারত থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং পুঠিবনিয়া শিবিরে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবারের কর্তা নুর আলম ও তাঁর স্ত্রী সানজিদা বেগম বলেন, তাঁরা ১০-১২ বছর আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কেরাইনটেলায় ছিলেন। সম্প্রতি ভারত কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠায়। ফলে সেখানকার রোহিঙ্গারা আতঙ্কে ভারত ছেড়ে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে।

এই দম্পতি বলেন, রাখাইনে তাঁদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সেখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির (বিচ্ছিন্নতাবাদী রাখাইন বৌদ্ধদের সংগঠন) সংঘাত চলছে বলে জেনেছেন। এ অবস্থায় দেশে ফেরত পাঠানো হবে—এই ভয়ে বাধ্য হয়ে তাঁরা বাংলাদেশে এসেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ