ঢাকা, শনিবার 19 January 2019, ৬ মাঘ ১৪২৫, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এখনো অস্থির চালের বাজার নতুন করে বাড়ছে ডালের দাম

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে কমছে না চালের দাম। হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সরু চালের দাম। বস্তাপ্রতি ২শ থেকে ৩শ টাকা করে বেড়েছে। আর কেজি প্রতি বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী দাম কমার আশ্বাস দিলেও এখনো বাজারে চালের দাম কমেনি। উল্টো চড়া চালের বাজারের পাশাপাশি এবার বাড়ল ডালের দাম। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা এ পণ্যের মূল্য হঠাৎ অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়েছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। আর অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কম দামি ডাল অ্যাঙ্করের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। তবে সবজির দাম রয়েছে স্বাভাবিক।
খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর সিন্ডিকেট করে কিছু অসাধু আমদানিকারক ও চালের মিল মালিক এসব পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচনের আগে আমন ধান আসার আগমুহূর্তেও চালের দাম ছিল স্থিতিশীল। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে চালের কিছুটা ঘাটতি থাকলেও পর্যাপ্ত চালের সরবরাহ আছে বলে সে সময় জানান মিল মালিকরা। অথচ এখন আমন ধানের ভরা মওসুমে চালের সরবরাহ কম বলে দাবি তাঁদের। এই অজুহাতে মিল মালিকরা নির্বাচনের পর সব ধরনের চালে কেজিতে চার থেকে আট টাকা দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রাজধানীর খুচরা ব্যবসায়ীদের।
এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, নির্বাচনের পরের থেকে চালের বাজার অনেক বেশি। এখন আমনের সিজন, আমনের সিজনে গত বছরের চালও এ বছর আছে। দাম বাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একমাত্র সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়ানো হইছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছিলেন, বাজারে চালের দাম আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কমে আসবে। নির্বাচনের জন্য মাঝখানে ২/৩ দিন যানবাহনের সমস্যা ছিল। এ কারণে চালের দাম বেড়েছে।
এদিকে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, দেশে পর্যাপ্ত ধান চাল মজুদ আছে। তাই চালের দাম ভোক্তাদের নাগালেই থাকবে। দেশে পর্যাপ্ত ধান চাল মজুদ আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে প্রধান করে প্রতিটি জেলায় একটি করে তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার যে দরে ধান ও চালের দাম বেঁধে দিয়েছেন সেই দরে ধান ক্রয় ও চাল বিক্রি করলে কৃষক ও চাতাল মালিক উভয় লাভবান হবেন।
এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, চালের দাম না কমলেও আমদানীকৃত বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা।
এক দোকানদার বলেন, ‘গত সপ্তাহের থেকে এই সপ্তাহে মসুরের ডাইল কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ছে। মুগ ডাইল কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ছে। রসুন কেজিতে তিন থেকে চার টাকা করে বাড়ছে। আদার কেজি ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি বাড়ছে। চিনির কেজি এক থেকে দেড় টাকা করে বাড়ছে গত সপ্তাহের চেয়ে।’
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দেশে উৎপাদিত ডালের মওসুম ফুরিয়ে আসায় দাম বাড়ানোর সুযোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি করা বেশিরভাগ ডালই বিক্রি হওয়ায় আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে আমদানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে যাওয়ায় ডালের দাম দেশেও বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত তিন দিনে পাইকারিতে মসুর ডালের দাম বস্তায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ কারণে খুচরা বাজারে ডালের দামও বেড়ে গেছে।
ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশি সরু মসুর ডাল ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এ ডাল তিন দিন আগেও ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এ ছাড়া দেশি হাইব্রিড মাঝারি মসুর ডাল কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আমদানি করা বড় মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে। এ ডাল ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা।
অপরদিকে কাঁচাবাজারে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে সব থেকে দামি সবজি তালিকায় রয়েছে করলা। বাজার ও মানভেদে করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, এক সপ্তাহ আগেও এ সবজির দাম একই ছিল। করলার পরেই রয়েছে লাউ। বাজার ও মানভেদে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়।
বাজারে কম দামের সবজির তালিকায় রয়েছে- ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শালগম, বেগুন, পেঁপে, শিম। শিম বাজার ও মানভেদে ১৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে দাম ছিল ৩০ থেকে ৫০ টাকা।
মানভেদে বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। ফুলকপি ১৫ থেকে ২০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ১৫ থেকে ২৫ টাকা পিস, শালগম ১০ থেকে ২০ টাকা কেজি এবং মুলা ১০ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি হয়েছে এসব সবজি।
সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা দাম কমার তালিকায় রয়েছে- পাকা টমেটো ও নতুন আলু। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। গত সপ্তাহে এ সবজির কেজি বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। নতুন আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
দাম অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের। আগের সপ্তাহের মতো নতুন দেশি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। কাঁচামরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ