ঢাকা, শনিবার 19 January 2019, ৬ মাঘ ১৪২৫, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আগে ভোট হত নির্বাচনের দিন এখন ভোট হয় নির্বাচনের আগের দিন

স্টাফ রিপোর্টার: মজুরি বোর্ড, বিকেএমইএ এবং বিজিএমইএ এর নেতৃবৃন্দের ভুলের কারণে আনসারের গুলীতে শ্রমিক সুমনের মৃত্যু হয়েছে বলে আভিযোগ করে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, তাদের নামে মামলা হওয়া উচিত। তারা এভাবে শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করতে পারে না। শ্রমিকদের গুলী করে হত্যা করে আবার শ্রমিকদেরকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে নূন্যতম গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। আগে জাল ভোট হত, এখন রাতে অন্ধকারে ভোট হয়। আগে ভোট হত নির্বাচনের দিন, এখন ভোট হয় নির্বাচনের আগের দিন। এই হচ্ছে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পাশাপাশি শ্রমিক সুমন হত্যার বিচারের দাবি করেন তিনি।
গতকাল দুপুরে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিকফন্টের ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব বুলবুল এবং দপ্তর সম্পাদক খালেকুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি লাল পতাকা মিছিল নিয়ে পল্টন এলাকায় প্রদক্ষিণ করে তারা।
ওসমান আলী বলেন, আজকে শ্রমিক আন্দোলন করছে তাদের দাবির জন্য। ভুল করেছে আজকের মজুরি বোর্ড, ভুল করেছে বিকেএমইএ এবং বিজিএমইএ, আর তার খেসারত শ্রমিকদের দিতে হবে কেন? আমি এই সমাবেশ থেকে তার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। তিনি আরও বলেন, সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট গঠিত  হয়েছে। আমরা ৩৭ বছর পূর্বে বলেছিলাম এই সমাজ ব্যাবস্থা টিকিয়ে রেখে এই দেশের শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি আসবে না।
তিনি আরও বলেন, শ্রম আইন শ্রমিকদের পক্ষে তৈরি করে নাই, শ্রম আইন মালিকদের পক্ষে তৈরি হয়েছে। পুঁজিবাদীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই আইন হয়েছে। শ্রম আইনের যত কালো (এটা কিন্তু কালোই হবে, কলা নয়। অন্ধকার) কানুন এ পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে, পরিষ্কার করে তা বাতিল করতে হবে। যে সকল শ্রম আইনের মাধ্যমে শ্রমিকদের নির্যাতনের শিকল পরিয়ে দেয়া হয়েছে, আজকে সেই শিকল ভেঙে সারা দেশের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, এই সমাজের যা কিছু সম্পদ তৈরি হয় শ্রমিকের শ্রমে আর ঘামে। আর এই সমাজের সবচেয়ে বেশি লাঞ্চিত হয় শ্রমিক এবং কৃষকরা। উন্নয়নের মহাসড়কের অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত আমরা দেখছি। একদিকে ফ্লাইওভার দেখছি, সুউচ্চ ভবন দেখছি কিন্তু আরেক দিকে শ্রমিকদের জীবন কিভাবে অতলে তলিয়ে যাচ্ছে তার খবর কি আমরা রাখছি?
তিনি আরও বলেন, একদিকে উন্নয়নের নামের লুণ্ঠন আরেক দিকে শ্রমজীবী মানুষদের দমন একই সঙ্গে চলছে। আমাদের বাংলাদেশের প্রায় ৪০০ ধরনের খাত আছে। এর মধ্যে ৪৩ টা খাতের মজুরি নির্ধারণ করা হয় মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে। এই মজুরি বোর্ডে একজন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও স্বতন্ত্র সদস্যরা থাকেন। তারা যে মজুরি নির্ধারণ করেন, তারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন এই মজুরি দিয়ে একজন মানুষ কিভাবে তার স্বাধীন মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারে।
সমাবেশ থেকে শ্রম আইনের গণতান্ত্রিক ধারা সমূহ বাতিল, ট্রেড ইউনিয়ন করার গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যূনতম জাতীয় মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ, মজুরি গ্রেড ও মাতৃত্বকালীন ছুটির বৈষম্য দূর করা, সড়ক পরিবহন আইনের শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ধারা সমূহ বাতিল করা, কর্ম ক্ষেত্রে শ্রমিকের মৃত্যুতে আজীবন আর সমান ক্ষতিপূরণ প্রদান, শ্রমিক ছাঁটাই, গ্রেফতার এবং মিথ্যা মামলা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি: এদিকে শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পাশাপাশি শ্রমিক সুমন হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি তাসলিমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক জুলহাসাইন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শীল, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের নেতা ফিরোজ আহমেদ, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জানুয়ারি মাসের বেতন পাওয়ার পর থেকেই সব গ্রেডে সমান হারে মজুরি বৃদ্ধি ও সমন্বয়ের দাবিতে আন্দোলনে নামে পোশাক শ্রমিকরা। গাজীপুর, হেমায়েতপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকরা আন্দোলন করে। আন্দোলনে শ্রমিক সুমন মিয়ার মৃত্যু হয়। আমরা শ্রমিক সুমনের হত্যার বিচার এবং গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।
বক্তারা আরও বলেন, এক দিকে মজুরি সমন্বয়ের নামে প্রহসন অন্যদিকে শ্রমিকরা কাজে ফেরত যাওয়ার পরপরই নামে-বেনামে মামলা করা হয়েছে। শুধু মামলা নয় অনেক শ্রমিক নেতা ও সাধারণ শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। নামে-বেনামে মামলার কারণে শ্রমিক অঞ্চলে ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ