ঢাকা, শনিবার 19 January 2019, ৬ মাঘ ১৪২৫, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

যৌবন হারাচ্ছে শাহজাদপুরের করতোয়া নদী ॥ বুক জুড়ে ধান চাষ

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : করতোয়া নদীতে পানি না থাকায় তলদেশে ধান চাষ করা হচ্ছে

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : শাহজাদপুর শহর ঘেষে নিরন্তর বয়ে চলা করতোয়া নদী ক্রমশই যৌবন হারাচ্ছে। এক সময়ের খড়স্রোতা এই নদীটি সময়ের বির্বতনে দখল ও দূষণের কবলে পড়ে এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। চৈত্র মাস আসার আগেই প্রমত্তা করতোয়া তাঁর জৌলুস যৌবন হারিয়ে পানি শূন্যতায় ভূগছে। শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী থেকে বগুড়া সারিয়াকান্দী পর্যন্ত দীর্ঘ এই নদীটি তাঁর ঐতিহ্য হারিয়ে মৃত্যুপ্রান্তে উপণিত। একটি নদীর জন্য যতটুকু পানি প্রবাহ থাকার প্রয়োজন তা নেই বললেই চলে। যতটুকু পানি আছে তা দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি প্রাচীণ খড়স্রোতা নদী। এক সময়ের বাঙ্গালা নদী বর্তমানে করতোয়া নাম ধারণ করে বগুড়া সারিয়াকান্দী থেকে শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী যমুনা ও বড়াল নদীর মোহনায় মিলিত হয়েছে। অথচ বেশিদিন আগের কথা নয় যখন নদীর বুক জুড়ে নিরন্তর বয়ে চলতো ছল ছল পানি। আর জেলেদের কর্মব্যস্ত দেখা যেত মাছ শিকারে। নদীতে গুণটানা নৌকা চলতে দেখা যেত। করতোয়া অবাহিকায় শাহজাদপুর উপজেলা শহরে অবস্থিত হওয়ায় এই করতোয়া নদীপথেই বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ নৌকা পথে শহরে আসতো। কিন্তু সময়ের বির্বতনে ঐতিহ্যবাহী করতোয়া নদী পানি শূন্য হয়ে পরায় বুক জুড়ে জেগে উঠে ধুধু বালু চর। আর এ সুযোগে জমির মালিকরা ধান,সরিষাসহ নানা ফসল চাষ করতে থাকে। বর্ষা মওসুমে শুধু নদীটি পানিতে টইটুম্বুর হয়ে তাঁর ভরা যৌবন ফিরে পেলেও চৈত্র মাস আসার আগেই শুকিয়ে মৃত্যু নদীতে পরিণিত হয়। বর্তমানে নদীর দ-ুতৃতীয়াংশ এলাকাই শুকিয়ে গেছে। সামান্য একটু অংশ জুড়ে হাটু পানি আছে। নদীর এমন গতিপথ ও পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় শাহজাদপুরের অর্থনীতিতেও বিরুপ প্রভাব পরেছে। একদিকে যেমন জেলেরা মৎস শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তেমনি উপজেলা শহরের সাথে নৌ-যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসা বাণিজ্যে চরম সমস্যা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে বড় বড় বর্জ্র্য নৌকায় ধান,পাট,সরিষাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল আনা নেওয়া করা হতো। নদীর বুক জুড়ে বারো মাস পানি থাকতো। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পরতে দেখা যেত। আর পানি ভিতরে শুশক মাঝে মধ্যেই ঝাপুড়ি দিয়ে লাফিয়ে বেড়াতো। পালতোলা ও গুণটানা নৌকা হরহামেশাই দেখা মিলতো। বিশেষ করে যমুনা নদী তীরবর্তী এব সোনাতুনী, গালা, রুপবাটি পোতাজিয়া, পোরজনা ইউনিয়নের মানুষ করতোয়া নদীপথেই উপজেলা শহরের সাথে যোগাযোগ মালামাল আনা নেওয়া করতো। কিন্তু নদীটির এই দুরবস্থার কারণে এসব ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ এখন চরম বিঘিœত হচ্ছে। নদীটি নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি নদী তীরে গড়ে উঠা অর্ধশত তাঁত শিল্প কারখানা আর কারখানায় নির্গত বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। মরে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ। নদীতে গোসল করে নানা রকম চর্মরোগে ভূগছে নদী তীরের শত শত মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ