ঢাকা, সোমবার 21 January 2019, ৮ মাঘ ১৪২৫, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাঙালি মুসলমানদের সংবাদপত্র প্রকাশনার ২০০ বছর

মুহাম্মদ নূরে আলম : ১৭৫৭ সালে বাংলার মুসলিম শাসনের পতনের সঙ্গে সঙ্গে আহত আবেগে ব্রিটিশ শাসকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় বাঙালি মুসলমানেরা। সেই সুযোগে হিন্দু বাঙালিরা রাজশক্তির কাছাকাছি বিচরণ করে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যায়। পরে মুসলমানরা সাহিত্য চর্চায় আত্মনিয়োগ করে জাতীয় জীবনের কল্যাণ সাধনের দিকে মনোনিবেশ করলেন। তাই জাতীয় জীবনের বিভিন্ন দিক ঐতিহাসিক, ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা-দীক্ষা ইত্যাদি সম্পর্কে লেখকরা সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন। জাতীয় কল্যাণ ব্রতের প্রচেষ্টা সাময়িক পত্রিকাগুলো অবলম্বনেই ব্যাপকভাবে রূপায়িত হয়েছিল। সেই সময় প্রিন্ট মিডিয়ার একচ্ছত্র অধিপতি ছিল। ফলে আলোচিত সাময়িকীসমূহ তখন শিক্ষিত মুসলমানের সংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও মুসলমান সমাজে পাড়া জামাতে সক্ষম হয়েছিল। সাময়িকপত্রের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মুসলিম ইতিহাস, ধর্ম, সমাজ, ভাষা সমস্যা, সাহিত্যচর্চা ইত্যাদি। ইতিহাসের ব্যাপারে লেখকদের দৃষ্টি সমগ্র মুসলিম জগতের প্রতি নিবদ্ধ হয়েছিল। তবে তুরস্কের ইতিহাসই বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল। আরবের ইতিহাস, রসূলুল্লাহ এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের ইতিহাস নিয়ে সেসব পত্র পত্রিকায় সাহিত্য চর্চা হয়েছে। উপমহাদেশে মুসলমান শাসনের  কথাও কখনো প্রেরণা যুগিয়েছে। বাংলার মুসলমান সমাজের অনগ্রসরতা ও কুসংস্কার তৎকালীন লেখকদের আলোচনার বিষয় ছিল। মুসলমানদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা ও ধর্মজীবন প্রত্যাবর্তনের কথা অনেকেই বলেছেন। শিক্ষা বিস্তারের জন্যও সকলে মত প্রকাশ করেছেন। ধর্ম সম্পর্কে লোকের অজ্ঞতা দূরীকরণ এবং ধর্মবোধ করার প্রচেষ্টাও অনেক পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ দূর করার চেষ্টাও অনেকের পরিলক্ষিত হয়। শুরুতে ইংরেজ শাসনের প্রতি আনুগত্য থাকলেও পরবর্তীকালে ইংরেজ বিরোধী চেতনা পরিব্যাপ্ত হয়েছিল।

১৮৫৭’র সিপাহী বিদ্রোহের আগ পর্যন্ত একশ বছরে ক্রমেই বাঙালি মুসলমানরা পিছিয়ে পড়ে। এরই মধ্যে বাংলা ভাষা দ্রুত তার ডানা বিস্তার করে বাংলা প্রদেশে ইংরেজির সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করে। আবির্ভাব ঘটে বিভিন্ন সাময়িক পত্রপত্রিকার। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে গদ্য চর্চার পর সাময়িক পত্র-পত্রিকার পৃষ্ঠায় বিতর্কমূলক নিবন্ধাদি প্রকাশের মাধ্যমেই রাজা রামমোহন রায়, অক্ষয় কুমার দত্ত, প্যারীচাঁদ মিত্র, কালীপ্রসন্ন সিংহ, ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, বঙ্কিম চন্দ্র , প্রমথ চৌধুরী প্রমুখ খ্যাতনামা কবি-সাহিত্যিকদের আবির্ভাব ঘটে। ধর্মীয় ও সামাজিক সমস্যা ও বিতর্ক তৎকালীন সকল পত্র-পত্রিকার উপজীব্য ছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলা সাময়িক পত্র ছিল সংবাদাশ্রিত। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমান লেখক বা পত্রিকার উপস্থিতি নগণ্য ছিল বা ছিলই না।

মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সাময়িকপত্র হিসাবে ১৮৩১ খৃস্টাব্দে কলিকাতা থেকে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক সমাচার সভা রাজেন্দ্র। এর সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ। পত্রিকাটি ছিল বাংলা ফারসি দ্বিভাষিক পত্র। মুসলিম বাংলার দ্বিতীয় সাময়িকপত্রের নাম ‘জগদুদ্দীপক ভাস্কর ১৮৪৬ সালে মৌলভী রজব আলীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় ইংরেজি, বাংলা উর্দু, ফারসী ও হিন্দি- এই পাঁচ ভাষায় প্রকাশিত হত। ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয় উর্দু-বাংলা দ্বি-ভাষিক সাময়িকপত্র ‘মোহাম্মদী আখবার’। ১৮৭৪ সালে বাংলা সাময়িকপত্র ‘আজিজন নেহার’, ১৮৮১ সালে ‘নব সুধাকর’, ১৮৮৪ সালে ‘মুসলমান’, ১৮৮৫ সালে ‘মুসলমান বন্ধু’ ও ‘ইসলাম’, ১৮৮৬ সালে ‘আহমদী’, প্রকাশিত হয়। এসবই ছিল অত্যন্ত স্বল্পায়ু পত্রিকা। ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত ‘আজিজন নেহার’এর সম্পাদক মীর মোশাররফ হোসেন ১৮৯০ সালে প্রকাশ করেন পাক্ষিক পত্রিকা ‘হিতকরী’। এ পত্রিকা প্রসঙ্গে আবুল কালাম শামসুদ্দীন লিখেছেন, ‘মীর মোশাররফ হোসেন এ যুগে মুসলিম বাংলার শুধু আদি সাহিত্যিকই নন, তিনি আমাদের আদি সাংবাদিকও।

১৮৯১ সালে প্রকাশিত হয় ‘ইসলাম প্রচারক’, ১৮৯২ সালে ‘মিহির’ ও ‘হাফেজ’। ১৮৯৪ সালে শেখ আবদুর রহীমের ‘মিহির’ এবং শেখ মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দীন আহমদ-এর ‘সুধাকর’ যুক্ত হয়ে যৌথ সম্পাদনায় ‘মিহির’ ও সুধাকর’ নামে ১৯১০ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। ১৮৯৮ সালে ‘কোহিনূর’, ১৮৯৯ সালে ‘ইসলাম’, ১৯০০ সালে ‘নূর অল ইমান’, ১৯০১ সালে ‘মুসলমান’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এভাবে বাংলা চৌদ্দ শতকের একেবারে সূচনালগ্ন থেকেই বলা চলে বাংলার মুসলমান পরিচালিত ও সম্পাদিত সাময়িকপত্র ও সংবাদপত্র প্রকাশের সূচনা হয়। এরপর বহু সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক পত্র-পত্রিকার জন্ম হয়।

সাধারণভাবে মুসলমানদের মাঝে ইতিহাস-ঐতিহ্যের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি, মুসলিম স্বাতন্ত্র্য ও শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা প্রচার, ইসলামী আন্তর্জাতিকতা বা উম্মাহ-ধারণার প্রচার, তুর্কী খিলাফতের প্রতি আনুগত্য, ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মুসলিম অবদানের মহিমা প্রচার, ইংরেজ ও বর্ণ-হিন্দুদের প্রচার মাধ্যমে সমাজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তার প্রতিকারের উপায় অনুসন্ধান, শিরক-বিদআত-কুসংস্কার দূর করে শরীআতের অনুশাসনের ভিত্তিতে সকল প্রকার আলস্য ও জড়তা কাটিয়ে নতুন হিম্মতে জেগে ওঠার আহবান প্রচার প্রভৃতি বিষয় ছিল এ সকল পত্র-পত্রিকার প্রধান উপজীব্য। তৎকালীন মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র সম্পর্কে ডক্টর আনিসুজ্জামান লিখেছেন: ‘যে চেতনা ইতিহাস চর্চার মূলে ক্রিয়াশীল ছিল, সমাজ সংস্কার চেষ্টার মূলে প্রেরণাস্বরূপ ছিল, তুরস্কের প্রতি অসামান্য প্রীতির উদ্বোধন করেছিল, সে চেতনা স্বাভাবতই এক ধরনের স্বাতন্ত্র্যবোধের সৃষ্টি করেছিল’। (মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র, পৃষ্ঠা ৪০)।

ইতিহাসের দিকে যদি দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখব যে এই সময়ে মুসলমানদের দ্বারা পরিচালিত ও লিখিত পত্রিকাগুলি বাংলা পত্রিকার জগতে প্রতিযোগিতার সামনে পড়ে ছিটকে গেছে। কোহিনূর প্রকাশিত হয় ১৮৯৮ সালে। সম্পাদক ছিলেন এসকেএম মহম্মদ রওশন আলী। কুষ্টিয়া থেকে এ মাসিকটি প্রকাশিত হত। প্রচারক মাসিক পত্রিকাটি ১৮৯৯ সালে কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। মুন্সী ময়েজউদ্দীন আহমদ ছিলেন-এর সম্পাদক। ‘লহরী পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব ছিলেন মোজাম্মেল হক। ১৯০০ সালে এ পত্রিকাটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। ‘নবনূর ছিল তৎকালীন মুসলিম সমাজের সবচেয়ে উন্নত মাসিক পত্রিকা। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ এমদাদ আলী। পত্রিকাটি ১৯০৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। ‘নবনূর পত্রিকাটি মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে। পত্রিকাটিতে বলা হয়, ‘বঙ্গ ভাষা ব্যতীত বঙ্গীয় মুসলমানদের মাতৃভাষা আর কি হইতে পারে? যাহারা জোর করিয়া উর্দুকে বঙ্গীয় মুসলমানের মাতৃভাষার আসন প্রদান করিয়া সমগ্র ভারতে মুসলমানদের এই মাতৃভাষা করিতে চান,

তাহারা কেবল অসাধ্য সাধনের জন্য প্রয়াস করেন মাত্র। পৌনে চার বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। ‘আল-এসলাম’ ছিল আঞ্জুমানে ওলামায়ে বাঙ্গালার মাসিক মুখপাত্র। মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৯১৫ খৃস্টাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯১১ সালে কলকাতায় স্থাপিত হয় ‘বঙ্গীয়-মুসলমান-সাহিত্য- সমিতি’। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রাণপুরুষ। ১৯১৮ সালে এ সমিতির মুখপত্র ‘বঙ্গীয়- মুসলমান-সাহিত্য-পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় প্রথম থেকেই মাতৃভাষার প্রতি নজর পড়েছে। পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যায় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ লিখেছেন: ‘মাতৃভাষা ব্যতীত আর কোন ভাষা কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া পরাণ আকুল করে? 

১৯২০ সালে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ও মোহম্মদ আফজালউল হকের প্রকাশনায় ‘মোসলেম ভারত’ কলকাতা থেকে মাসিক সাহিত্যপত্র হিসাবে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন নজরুল ইসলাম। -‘ধুমকেতু’ পত্রিকা অর্ধ সাপ্তাহিক হিসাবে ১৯২২ খৃস্টাব্দে কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯২৬ সালে ঢাকায় গঠিত হয় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। ঢাকার ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজের’ মুখপত্র হিসাবে ১৯২৭ খৃস্টাব্দে ‘শিখা’ প্রকাশিত হয়। প্রথম সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন।

১৯১৮-র শীতে ভেজা ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশিত হয় ‘সওগাত’ পত্রিকা, সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। ‘সওগাত’ যতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল, অন্যগুলি ঠিক ততখানি অর্জন করতে পারেনি। করাচির ঊনপঞ্চাশ নম্বর সেনা ছাউনি থেকে পাঠানো ‘বাউ-ুলের আত্মকাহিনী’ প্রথম বর্ষ সপ্তম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়, যা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম মুদ্রিত রচনা। পরে নজরুলের মোট আশিটি রচনা ‘সওগাত’-এ প্রকাশিত হয়। করাচি থেকে কলকাতায় এসে ‘সওগাত’-এর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করেন নজরুল। নজরুল যেমন ‘সওগাত’-এর মুখ্য লেখক হয়ে ওঠেন, তেমনি কবির জীবন ও লেখনী সম্পর্কে ‘সওগাত’-এ নানা সংখ্যায় আলোচনা প্রকাশিত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নজরুলের ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে ১৩৩৪-১৩৩৬ বঙ্গাব্দে এখানেই প্রকাশিত হয়েছিল।

১৯১৮ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত দীর্ঘ তিন দশকে ‘সওগাত’-এ প্রায় সকল উল্লেখযোগ্য লেখকের রচনা প্রকাশিত হয়েছে। ‘সওগাত’ সম্পাদকের আহ্বান ফেরাননি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিভিন্ন সংখ্যায় লিখেছেন প্রমথ চৌধুরী, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ক্ষিতিমোহন সেন, কুমুদরঞ্জন মল্লিক, সরলাবালা সরকার, নন্দলাল বসু, এস ওয়াজেদ আলি, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, দীনেশচন্দ্র সেন, জলধর সেন, দিলীপকুমার রায়, জীবনানন্দ দাশ, সুকুমার সেন, জসীমউদ্দিন, অন্নদা শঙ্কর রায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী আব্দুল ওদুদ, সুফিয়া কামাল, ইসমাইল হোসেন সিরাজি, আবদুল কাদির-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সওগাত পত্রিকা তিন দশকব্যাপী সময়ে বাংলার সাহিত্যজগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছিল। এই পত্রিকা শুধু সাহিত্য-রচনা প্রকাশ করেই তার কর্তব্য শেষ করেনি, বরং বিভিন্ন সংখ্যায় দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন বিষয়ে বলিষ্ঠ অবস্থানও নিয়েছে।

‘সওগাত’ যে লক্ষ্যে প্রথম থেকে শেষ অবধি অবিচল ছিল, তা হল স্ত্রীশিক্ষা ও নারী-স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন। সচিত্র মাসিকপত্রিকাটির প্রথম সংখ্যায় ইতিহাসখ্যাত মহিলাদের ছবি মুদ্রিত হয়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কবিতা প্রথম পাতায় ছাপা হয়। এ রকম লেখকসূচির থেকে দু’রকম ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে সমালোচকদের ধারণা। প্রথমত নারীর স্বাধীন ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি, দ্বিতীয়ত হিন্দু-মুসলমানের মিলন কামনা। ‘সওগাত’-এ মেয়েদের জন্য পৃথক বিভাগ: জেনানা মহফিল, মহিলা সংখ্যা, মহিলা সওগাত প্রকাশ করতে থাকেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। ১৯২৯ থেকে ১৯৪৫, ষোলো বছরে ছ’টি মহিলা সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। ১৯৪৭-এ ‘সওগাত’-এর তত্ত্ববাবধানে প্রকাশিত মেয়েদের নিজস্ব পত্রিকা ‘বেগম’। সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল। দ্বাদশ সংখ্যা থেকে সম্পাদক হন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিনের মেয়ে নূরজাহান বেগম। সহ-সম্পাদক লায়লা সামাদ। ১৯৫০-এ ‘বেগম’ স্থানান্তরিত হয় ঢাকায়। তিন বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘বেগম’-এর ছত্রিশটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। তৈরি হয় ‘বেগম ক্লাব’, যার সভাপতি শামসুন্নাহার মাহমুদ। প্রবীণ লেখিকা, সমাজসেবী ও নবীন লেখিকারা বিভিন্ন অধিবেশনে মিলিত হতেন। ‘বেগম’ পত্রিকার কলকাতা বিদায়ের ক্ষণটিকে স্মরণীয় করতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, সেখানে গান গেয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও তালাত মামুদ।

মিহির নামে মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৯২ সালে। এর সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম। সাহিত্য বিজ্ঞান, পুরাবৃত্ত চর্চার দিকে পত্রিকাটির লক্ষ্য ছিল। রাজনীতি বিষয়ে ছিল উদাসীন, তবে সামাজিক কল্যাণ সাধনের দিকে মনোযোগী ছিল। মিহিরে প্রকাশিত রচনার বিষয়ের মধ্যে ছিল ঐতিহাসিক কাহিনী, সমকালীন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের জীবনী, পুরাতত্ত্ব, দর্শন, বিজ্ঞান, গল্প-উপন্যাস, অনুবাদ, খন্ড কবিতা, সাহিত্য সমালোচনা প্রভৃতি। পত্রিকার প্রধান প্রধান লেখক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম, পন্ডিত রেজাউদ্দিন আহাম্মদ মাশহাদী, মির্জা ইউসুফ আলী, কবি মোজাম্মেল হক, হবিবুর রহমান, ডাক্তার আবদুল মাজেদ খাঁ, ডাক্তার গিরিশচন্দ্র বাগচী, মধুসূদন সরকার প্রমুখ। 

পত্রিকার প্রকাশ ছিল অনিয়মিত এবং বেশিদিন তা টিকে থাকেনি শেখ আবদুর রহিম সুধাকরের সাথে মিহিরের নাম সংযুক্ত করে ১৯০৮ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটির অস্তিত্ব ছিল। শেষ বছর শেখ ওসমান আলী সম্পাদনা করেছিলেন। ড. কাজী আবদুল মান্নান ওই পত্রিকা প্রসংগে মন্তব্য করেছেন, ‘‘মুখ্যাত সাহিত্যচর্চার আকাংখা নিয়েই এ পত্রিকার আবির্ভাব হয়েছিল কিন্তু তখন মুসলমান সমাজে ধর্ম ও জাতির যে দুর্ভাবনা দেখা দিয়েছিল এবং সে ভাবনার যে উৎচকিত কণ্ঠ ধ্বনিত হয়ে উঠেছিল, তাতে নিছক সাহিত্যচর্চার বাসনা বিঘ্নিত হওয়া অসম্ভব ছিল না।

হাফেজ মাসিক পত্রের সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম। ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে পত্রিকাটি কোলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ছিল বিবিধ বিষয়ক মাসিক পত্র। ভোগ বিলাস সুখবিলাসী নিদ্রিত বংগীয় মুসলমানদের পূর্বপুরুষের অতীত গৌরব ও ধর্মভক্তির কাহিনী এবং পবিত্র গ্রন্থের পবিত্র রীতিনীতি অবহিত করার জন্য এই পত্রিকার প্রকাশ। ইসলাম ধর্ম ও ইসলাম সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে এই পত্রিকার উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলে। পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন মীর মোশাররফ হোসেন, কবি মোজাম্মেল হক, কবি কায়কোবাদ, শেখ ওসমান আলী প্রমুখ। মীর মোশাররফ হোসেনের অনেক রচনা এতে প্রকাশিত হয়েছে। হাফেজ পত্রিকা ও তার লেখক-গোষ্ঠী পূর্বসুরীদের মতই ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও হিন্দু-মুসলমানের মিলনকামী। স্বীয় ধর্ম এবং সমাজ সম্পর্কে তীক্ষè সচেতনতা থাকলেও পরধর্ম বা প্রতিবেশীর প্রতি তাদের কোন বিদ্বেষ ছিল না। পত্রিকাটি এক বছরের বেশি চলেনি। 

 কোহিনুর প্রকাশিত হয় ১৮৯৮ খৃষ্টাব্দে। সম্পাদক ছিলেন এস কে এম মোহাম্মদ রওশন আলী। কুষ্টিয়া থেকে এই মাসিকটি প্রকাশিত হত। সম্পাদকের নিবেদন ছিল, ‘‘হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি, জাতীয় উন্নতি, মাতৃভাষার সেবাকল্পে এবং কলকাতার অনাথ আশ্রমের সাহায্যার্থে কোহিনুর প্রচারে ব্রতি হইয়াছিল। সর্বসম্প্রদায়ের সাহিত্য মোদিদের নিয়ে পত্রিকার জন্য একটি পরিচালক সমিতি গঠিত হয়েছিল। এই পত্রিকার লেখকদের মধ্যে ছিলেন মীর মোশাররফ হোসেন, মোজাম্মেল হক, মুনশী মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দিন আহাম্মদ, কবি কায়কোবাদ, মৌলভী আবদুর রহিম, শেখ জমির উদ্দিন, মুনশী মেহেরুল্লাহ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, অক্ষয় কুমার  মৈত্র, চন্দ্রশেখর সেন, ব্যারিস্টার অবিনাশ চন্দ্র দাস প্রভৃতি। এই পত্রিকায় ধর্মচর্চা ও সমাজ সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয়ও প্রকাশ পেয়েছে। পত্রিকাটি বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিন চলেছিল। 

লহরী নামক ‘‘নানা বিষয়িনী কবিতাময়ী’’ সমালোচনা পত্রিকা মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ১৯০০ খৃষ্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। পত্রিকাটিতে কেবল কবিতাই প্রকাশিত হত। সম্পাদক হিন্দু কবিদের কবিতাও স্থান দিতেন। লহরীতে প্রকাশিত কবিতাগুলিতে কবির আত্মগতভাব কল্পনাকে আশ্রয় করে খন্ড কবিতা, মুসলমানদের জাতীয় গৌরব, তুরস্কের মহিমা প্রভৃতি বিষয় অবলম্বনে কবিতা দেখা যায়। এ ছাড়াও সমসাময়িক সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে অবলম্বন করে কবিতা দেখা যায়। পত্রিকাটি বেশিদিন চলেনি। নবনূর ছিল তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে উন্নত মুসলিম সম্পাদিত মাসিক পত্রিকা। সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ এমদাদ আলী। পত্রিকাটি ১৯০৩ খৃষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়। সম্পাদক পত্রিকার সূচনাতে বলেছিলেন, ‘‘মুসলমানগণ সকল বিষয়ে পশ্চাদপদ হইয়া পড়িয়াছে এবং তাহাদের জাতীয় জীবনে আবসাদই যেন একাধিপত্য বিস্তার করিয়াছে। পতিত মুসলমান সমাজকে উন্নত করিবার উদ্ধার করিবার একমাত্র অবলম্বন সাহিত্য।’’ সম্পাদক এই উদ্দেশ্যে সফল করবার জন্য মুসলমান, হিন্দু এবং অন্তঃপুরস্থ প্রত্যেক মহিলাকে সাহিত্য সাধনার জন্য নবনূরে আহবান জানিয়েছিলেন। পৌনে চার বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। মুসলমান সমাজে নবনুর বিশেষ প্রেরণা সঞ্চার করতে সক্ষম হয়েছিল। এই পত্রিকার লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন কবি কায়কোবাদ, শেখ ফজলুল করিম কাজী ইমদাদুল হক, মতিউর রহমান, আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, শেখ জসিম উদ্দিন, রেয়াজউদ্দিন আহমদ, মিসেস আর এস হোসেন। 

বাসনা নামে মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিল রংপুরের কাকিনা থেকে ১৯০৮ খৃষ্টাব্দে। শেখ ফজলুল করিম ছিলেন এর সম্পাদক। পত্রিকাটি প্রায় দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল। নিয়মিত লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রিয়াজউদ্দিন আহমদ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, তাসলিম উদ্দিন, সৈয়দ নূরুল হোসেন, মুনসী হামেদ আলী, খগেন্দ্রনারায়ন দাস, ললিতমোহন সেন প্রমুখ। ধর্ম, ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, জীবনী সমালোচনা প্রভৃতি বিষয়ে রচিত প্রবন্ধ এবং গল্প কবিতা এতে প্রকাশিত হত। হিন্দু মুসলমান উভয় শ্রেণীর লেখকই স্বীয় ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। ইতিহাস, দর্শন প্রভৃতির চর্চা করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ঐক্য কামনা করেছেন। এই পত্রিকাটির সমালোচনা বিভাগ ছিল বেশ সমৃদ্ধ। আল-এসলাম ছিল আঞ্জুমানে ওলামায়ে বাঙালার মাসিক মুখপত্র। মাওলানা আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৯১৫ খৃস্টাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রথম সংখ্যায় আভাস দেয়া হয়েছিল এই বলে, ‘‘স্ব-ধর্ম, স্ব-জাতি, স্বদেশ ও সঙ্গে সঙ্গে মাতৃভাষার সেবা করিবার নিমিত্তেই আল-এসলামের প্রচার।’’ ধর্মীয় শিক্ষায় সুশিক্ষিত একদল মুসলমান দ্বারা পত্রিকাটি দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়েছিল। পত্রিকাটিতে গল্প, উপন্যাস প্রকাশের নিদর্শন না থাকলেও চিন্তামূলক এবং অনুসন্ধান ও পরিশ্রম সাপেক্ষ প্রবন্ধ ও আবেগপ্রবণ কবিতা এতে স্থান পেত। লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হেল বাকী, আবদুল গফুর সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মোজাফফর উদ্দিন, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, আবদুল লতিফ, মোহাম্মদ কে চাঁদ, মুজাফফর আহাম্মদ, শেখ হবিবর রহমান, কায়কোবাদ, সিরাজী, মোজাম্মেল হক, মিসেস আর এম হোসেন প্রভৃতি। 

পত্রিকাটিতে মুসলমানদের ধর্ম, ইতিহাস, দর্শন, সমাজ, সাহিত্য প্রভৃতি বিষয় আলোচিত হতো। সাহিত্যক্ষেত্রে মুসলমানদের স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এই পত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সওগাত প্রথম প্রকাশিত হয় কলকাতা থেকে ১৯১৮ সালে। সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। পত্রিকাটি পরে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এখনও এর অস্তিত্ব টিকে আছে। ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় মোসলেম ভারত মাসিক সাহিত্যপত্র হিসাবে প্রথম প্রকাশিত হয়। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিখ্যাতি পাওয়ার পেছনে এই পত্রিকার বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল। সমকালীন খ্যাতিমান কবি সাহিত্যকদের রচনা এতে প্রকাশিত হতো। ধূমকেতু পত্রিকা অর্ধ সাপ্তাহিক হিসাবে ১৯২২ খৃস্টাব্দে নজরুলের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এর জন্য আশাবাণী পাঠিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বারীণ ঘোষ প্রমুখ। সে যুগের উত্তাপ-উত্তেজনা ধূমকেতুতে প্রতিফলিত হয়েছিল বলে পত্রিকাটি আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে সকলের হৃদয় জয় করে নিয়েছিল। এর জ্বালাময়ী সংবাদ এবং সম্পাদকীয় প্রবন্ধাবলী একদিকে যেমন জনগণের মধ্যে প্রবল আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল অন্যদিকে তেমনি তৎকালীন ইংরেজ শাসকের রোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পত্রিকায় বিদ্রোহমূলক কবিতা প্রকাশের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম এক বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হয়েছিলেন। নজরুলের নিজস্ব অবদানের জন্য সে যুগে ধূমকেতু ছিল একটি অনন্য পত্রিকা। ‘শিখা’ ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র হিসাবে ১৯২৭ খৃস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন। ঢাকার সাহিত্যিক গোষ্ঠী মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। ‘শিখা’ ছিল বার্ষিকপত্র। পর পর পাঁচ বছর পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিল। আবুল হোসেনের পরবর্তী সম্পাদক ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন। মোহাম্মদ আবদুর রশিদ ও আবুল ফজল। প্রকাশকের নিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘‘শিখার বর্তমান উদ্দেশ্য বর্তমান মুসলমান সমাজের জীবন ও চিন্তাধারার গতির পরিবর্তন সাধন।’’ পত্রিকার পরিচালকরা মনে করতেন, ‘‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।’’ শিখার রচনাবলীতে এই আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছিল বলে পত্রিকাটি সে আমলে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক সম্মেলনে পঠিত লেখা এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। জাতীয় জীবনের কল্যাণের ব্রত নিয়ে তারা পত্রিকা প্রকাশে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। জাতীয় জীবনের কল্যাণ সাধনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিশিষ্ট মাধ্যম হিসাবে সাময়িক পত্রিকার অবদান কম ছিল না। বিশেষ যুগের পটভূমিকায় অগণিত পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো যেমন শিল্প-সাহিত্যের দাবি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছিল তেমনি তা জাতীয় জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে দিয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ