ঢাকা, শনিবার 23 February 2019, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শাসন ব্যবস্থা ব্যক্তি নির্ভর হতে পারেনা: ড. রওনক জাহান

ফাইল ফটো।

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে, প্রধানমন্ত্রী হাসিনা গত তিন সপ্তাহে দুর্নীতি আর মাদক দমনের কথাই প্রধানত বলে চলেছেন। 

ঢাকায় শনিবার তার দলের নির্বাচনী বিজয় উদযাপনের সময়, বহু মানুষের চোখ ছিল নির্বাচনী কারচুপির বিস্তর অভিযোগ নিয়ে কী বলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তা নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি তিনি।

সমালোচনার ক্ষুরধার জবাব দেওয়া যার সহজাত, তার এই মৌনতা অনেককেই অবাক করেছে।

শনিবারের ভাষণে শেখ হাসিনা বরঞ্চ চতুর্থ দফার শাসনে তিনি কী করতে চান, তার একটি ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বলেছেন, এবারেও তার প্রধান লক্ষ্য হবে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। সেইসাথে জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন দুর্নীতি এবং মাদক সমস্যাকে তিনি বিশেষভাবে টার্গেট করবেন।

পরের দিন অর্থাৎ আজ (রোববার) সচিবালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে দুর্নীতি এবং মাদক নিয়ে তার মনোভাব স্পষ্ট করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রওনক জাহান মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের আলোচনাকে ঘুরিয়ে ভিন্ন জনপ্রিয় কিছু ইস্যুর দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন যেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ - দুর্নীতি, মাদক ইত্যাদি।

গতকাল বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. রওনক জাহান বলেন, "সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নয়ন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, সুশাসন তেমন গুরুত্ব পায়নি। এবার মনে হয় তিনি সেই বিষয়টিকে সামনে আনতে চাইছেন।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, প্রবীণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান মনে করেন, "দেশের সবাই জানে প্রধানমন্ত্রী একচ্ছত্র ক্ষমতাধর, তার দলও পুরোপুরি তার ওপর নির্ভরশীল, অতএব তিনি সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বাস দিতে চাইছেন তিনি এবার সুশাসন দেবেন।"

সেই ইঙ্গিত শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই।

"মন্ত্রিসভাকেও তিনি বলেছেন আমি তোমাদের ওপর নজর রাখবো। বার্তা দিতে চেয়েছেন যে জবাবদিহিতা তিনি এবার আদায় করে নেবেন।"

ড. জাহান মনে করেন, শেখ হাসিনা এবার তার মন্ত্রীদের কাছ থেকে নিজেকে কিছুটা দুরে রাখার চেষ্টা করছেন যাতে তার হুমকি বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে।

কিন্তু যে সুশাসনের কথা শেখ হাসিনা বলছেন তার বাস্তবায়নের জন্য তাকে নির্ভর করতে হবে তার দলের লোকের ওপর, প্রশাসনের ওপর, পুলিশের ওপর। সেখানে তো কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাহলে তার এসব কথায় মানুষ কতটা ভরসা করতে পারবে? তার ভাষায়, ‘‘এটি একটি কোটি টাকার প্রশ্ন।’’

তিনি বলেন, "একজন ব্যক্তি যত ভালো নেতাই তিনি হোন না কেন, একটি শাসন ব্যবস্থা তো ব্যক্তি নির্ভর হতে পারেনা।"

তাঁর মতে, সবকিছু একটি 'সিস্টেমের' মধ্যে আনতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।প্রশাসনের সবস্তরে জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, সেটাই একটি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

"নেতা যতই ভালো হোন, তিনি তো একজন ব্যক্তি। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্ত না হলে, একজন ব্যক্তির পক্ষে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়," বলছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ