ঢাকা, শনিবার 23 February 2019, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দৈনিক মানবজমিন স্টাফ রিপোর্টার রাশিদের চার সপ্তাহের আগাম জামিন

খুলনা অফিস : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় চার সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন দৈনিক মানবজমিনের খুলনার স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও ন্যাশনাল রিপোর্টাস ফোরামের সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম। আগাম জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আজ সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মহী উদ্দিন শামীম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ জামিন দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এম মাসুদ রানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্ণি জেনারেল রাফি আহমেদ।

খুলনা-১ (দাকোপ-বাটিয়াঘাটা) আসনে মোট ভোটারের চেয়ে বেশি ভোট পড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষণার ভিত্তিতে (৩১ ডিসেম্বর) প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগে ১ জানুয়ারি সকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী বাদি হয়ে বাংলা ট্রিবিউনের খুলনা প্রতিনিধি হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা ও দৈনিক মানবজমিনের খুলনার স্টাফ রিপোর্টার মো. রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ১ জানুয়ারি বিকেলে নগরীর গল্লামারী এলাকা থেকে হেদায়েৎ হোসেন মোল্লাকে গ্রেফতার করে বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ। ২ জানুয়ারি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক নয়ন বিশ্বাস হেদায়েৎ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৩ জানুয়ারি খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তার অর্ন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় খুলনা জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা। গত ১৪ জানয়ারি সোমবার দুপুরে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে হেদায়েতের স্থায়ী জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। শুনানী শেষে বিচারক হেদায়েতের অর্ন্তবর্তীকালীন জামিনের সময় আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ৩০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯ টায় খুলনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হেলাল হোসেন খুলনা-১ আসনের (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) বেসরকারি ফলাফলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পঞ্চানন বিশ্বাস ২,৫৩,৬৬৯ ভোট এবং ধানের শীষের প্রার্থী আমীর এজাজ খান ২৮,১৭৭ ভোট পেয়েছেন বলে ঘোষণা দেন। যা মোট ভোটারের চেয়ে ২২,৪১৯ ভোট বেশী ছিল। পরে রাতেই রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল সংশোধন করে ঘোষণা দেন নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ১৫২ ভোট। ধানের শীষ পেয়েছে ২৮ হাজার ৩২২ ভোট। তার এই সংশোধনের আগেই মানবজমিন ও বাংলা ট্রিবিউনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রথম বার ঘোষিত ফল প্রকাশ করে। পরের দিন মানবজমিনে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফল প্রকাশ হয়েছিল। তখন বেশি ভোট পড়ার অডিও ভিডিও এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা দেশে ও বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ