ঢাকা, মঙ্গলবার 22 January 2019, ৯ মাঘ ১৪২৫, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নীতিমালা ও ফান্ড গঠন জরুরি

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সমুন্নয় ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে নতুন সরকারের কাছে চরের মানুষের প্রত্যাশা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে চর নীতিমালা, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও ফান্ড গঠন জরুরি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তাঁরা আরও বলেন, বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১০ শতাংশ চরভূমি দেশের প্রায় ৩২টি জেলার ১০০ উপজেলার অংশজুড়ে বিস্তৃত। নদী ভাঙন, বন্যা, খরাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে চরের মানুষদের বেঁচে থাকতে হচ্ছে। তাই তাদের টেকসই উন্নয়নে সরকারকে সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে চরের মানুষের উন্নয়নে চর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
গতকাল সোমবার দুপুরে সমুন্নয় ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর, অর্থনীতিবিদ ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সভাপতি খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব জাহিদ রহমান, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ম্যানেজার মেহেরাব উল গণি, ফ্রেন্ডশিপের পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন, ওয়াটার এইডের অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার ঘোষ, জিটিভি ও সারাবাংলা ডটনেটের এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ।
ভোটারের সংখ্যা চর এলাকায় অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় চরের মানুষ পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর, অর্থনীতিবিদ ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সভাপতি খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ। ইব্রাহীম খালেদ বলেন, চরের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী হয়তোবা জানেন। হয়তোবা অগ্রাধিকারে একটু পিছিয়ে গেছে চরের মানুষ। সব রাজনৈতিক মানুষ তো ভোটের কথা চিন্তা করে। আট কোটি ভোটারের মধ্যে হয়তো আট থেকে ১২ লাখ চরাঞ্চলের ভোটার হবে। সেজন্য হয়তো আমরা পেছনে পড়েগেছি। এক সময় দেখা যাবে, তারাই হয়তো জাতির ভাগ্য নির্ধারণে মতো ব্যক্তি বলা হবে।
তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে বলা হয়, রাস্তাঘাট স্কুল-কলেজ তৈরি করবো, দুদিন পর নদীভাঙনে পানির তলে চলে যাবে। টাকা নষ্ট করে লাভ কী’? এর বিপরীতে আমি বলবো ঠিক আছে। কথা সত্য কিন্তু ওখানে যে লোকজন আছে, তাদেরকে যদি ওখানেই রাখতে চান, তাহলে সেখানে ন্যূনতম একটা সুবিধা দিতে হবে। চর ভেঙে যায় কিন্তু চরের মানুষের মানব উন্নয়ন যদি আমরা করতে পারি, সেজন্য চেষ্টা করতে হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে একটি চর ফাউন্ডেশন করার দাবি জানিয়ে ইব্রাহীম খালেদ বলেন, মানুষের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ের ফাউন্ডেশন বোর্ড গঠন করা যায়। মানুষের উন্নয়নে, দুর্যোগ মোকাবিলায়, বিশেষ কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে এরকম একটি কর্তৃপক্ষ না থাকায়, প্রতি বছরের উন্নয়নের জন্য জাতীয় বাজেটে যে বরাদ্দ থাকে তা ব্যয় হয় না। এর পাশাপাশি নতুন সরকারের কাছে চরাঞ্চলের মানুষের আরও দুটি প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চরের মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা নিশ্চিত, খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান তৈরি, দক্ষ জনসম্পদ তৈরি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলা এসব লক্ষ্য পূরণে এপর্যন্ত সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। এসডিজি লক্ষ্য পূরণে এসব খাতে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ, বরাদ্দ প্রদান ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, চরের মানুষের উন্নয়নে কোনও জাতীয় নীতিমালা না থাকায়, চরাঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালনা, দুর্যোগ মোকাবিলা, শিক্ষা সেবা নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশু অধিকার রক্ষা, ভূমির ব্যবহার, কৃষি উন্নয়ন ফসল বিপণন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ চর গোষ্ঠীর উন্নয়নের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায় না। তাই জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে চরের মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে হবে।
জিটিভি এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘চরের মানুষেরা প্রান্তিকের চেয়ে প্রান্তিক মানুষ। গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। এজন্য আমাদের অনুসন্ধানের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কিছু একটা করা দরকার। সাংবাদিকরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে চরের মানুষের জন্য কিছু করছি কিনা সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এজন্য গণমাধ্যম অনুসন্ধানী ও ব্যাখ্যামূলক সংবাদ করে সরকারের দৃষ্টি আকষর্ণ করতে পারে।
ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব জাহিদ রহমান বলেন, সরকারের নানা কমর্সূচি ও পদক্ষেপের পরিধি বাড়লেও দেশের চরাঞ্চলে বসবাসরত ১ কোটি মানুষের উন্নয়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। উল্টো জাতীয় বাজেটে প্রতি বছর বরাদ্দ দেওয়া হলেও বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত যাচ্ছে। এজন্য চরাঞ্চলের জন্য উন্নয়ন ফান্ড গঠন অতি জরুরি। আর এটি গঠন করা হলে চরের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ