ঢাকা, মঙ্গলবার 22 January 2019, ৯ মাঘ ১৪২৫, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির সংকেত!

মজলুম ফিলিস্তিনীদের পর বর্তমান সভ্যতায় নির্মম জুলুমের শিকার হয়েছেন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানরা। বর্তমান সভ্যতা কিংবা বিশ্বরাজনীতি তাদের রক্ষায় কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে রোহিঙ্গাদের দুঃখের রজনী প্রলম্বিত হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বড় দেশ ভারতের ভূমিকাও প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে সচেতন মানুষের মনে। এ প্রসঙ্গে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ভারতের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের উপেক্ষার অভিযোগ করেছেন ভারতের এই গুণীজন। অমর্ত্য সেন বলেন, আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের আটক করে মিয়ানমারে প্রত্যর্পণের ভারতীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, নাগরিকত্বের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না। ধর্মীয় সূত্রে নাগরিকত্ব দেয়া না দেয়ার আইন পাস করাটা ভারতের সংবিধানের মূল নীতির ব্যত্যয়। প্রতিবেশী হিসেবে রোহিঙ্গাদেরও ভারতের সহানুভূতি পাওয়ার অধিকার আছে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে কথিত হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সন্ত্রাসবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের নামে শুরু হয় নিধনযজ্ঞ। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে থাকে ধারাবাহিকভাবে। এমন বাস্তবতায় রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। উল্লেখ্য যে, ভারতের নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন ২০১৬তে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে প্রবেশকারী হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, শিখ ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ভারতের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত এই নতুন আইনে কোন সুসংবাদ নেই আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য। ভারত বরং তাদের চিহ্নিত করে মিয়ানমারে প্রত্যর্পণের আদেশ দিয়েছে। ভারত সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন অমর্ত্য সেন। তার ভাষ্য, ‘এটা অদ্ভুত যে প্রতিবেশী দেশগুলোর অমুসলিমদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিলেও মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের জন্য কোন জায়গা দিতে পারছে না ভারত। অথচ ভারতের শাসকপক্ষ ভাল করেই জানে যে, মিয়ানমারে তাদের কি ধরনের অসহিষ্ণুতা ও নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে।’ আসলে ভারতের শাসকগোষ্ঠীর ওই ধরনের সিদ্ধান্তে সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির সংকেত পাওয়া গেলেও মানবিক চেতনার কোন আভাস নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ