ঢাকা, মঙ্গলবার 22 January 2019, ৯ মাঘ ১৪২৫, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জাতি বিধ্বংসী নিষ্ক্রিয়তার অবসান প্রয়োজন

ঢাকার কাকরাইল মসজিদের অদূরে, বিপরীতদিকে পাবলিক হেলথ ভবন পার হয়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের দিকে আসতে ডান দিকে ছিমছাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি ভবন চোখে পড়ে। ভবনটির এলাকা নীরব এবং তার আভিজাত্য চোখে পড়ার মত। কাকরাইল ১নং সড়কে অবস্থিত এই ভবনটির নাম আর্চ বিশপ হাউজ। ১৮৮৬ সালে এই ভবনটি ডাইঅসিস অব ইস্টার্ন বেঙ্গল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে এর নাম ছিল ভিকারিয়েট এপস্টলিক অব ইস্টার্ন বেঙ্গল এবং তা ১৮৫০ সাল থেকে চালু ছিল। ১৯৫০ সালে এটিকে আর্চ ডাইঅসিস অব ঢাকা নামে অভিহিত করা হয়। এটি হচ্ছে খৃস্টানদের প্রধান গীর্জা। প্রথমত সারা পূর্ব বাংলা ছিল তাদের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা। পরবর্তীকালে খৃস্টানদের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শুধু ঢাকার মুখ্য গীর্জা হিসাবে এই প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়, এখন সারা বাংলাদেশের ক্যাথলিক খৃস্টানদের পাশাপাশি ঢাকার খৃস্টানদের দেখাশোনার দায়িত্বও এই প্রতিষ্ঠানের। সারা বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাদের বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদেশে ক্যাথলিক, প্রোটেস্টান্ট ইউনিটারী-সব ধরনের গীর্জা এবং খৃস্টানরাই আছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে, চরম নিষ্ঠার সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা মিশনারী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে পাহাড়ী ও উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহে খৃস্টানদের তৎপরতা অত্যন্ত বেশি। আন্তর্জাতিক এনজিওসমূহ তাদের মিশনারী কাজ-কর্মে প্রধান শরিক হিসেবে কাজ করে। সেবা তৎপরতার মাধ্যমে খৃস্টান ধর্ম প্রচারই হচ্ছে তাদের প্রধান কাজ। দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন, মৎস্য চাষ, গবাদি পশু পালন, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা সরবরাহ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, হাসপাতাল-ক্লিনিক স্থাপন, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাস্থ্যসেবা, শিশু শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, মহিলা উন্নয়ন ও তাদের ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ প্রভৃতি হচ্ছে তাদের সেবা কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। সারা দুনিয়ার ব্যাপ্টিস্ট মিশনসমূহের ইউনিয়ন ও ফেডারেশন রয়েছে। মিশনারী এবং সেবা কার্যক্রমের জন্য আছে তাদের বিশাল বাজেট ও অর্থের সংস্থান। বিভিন্ন মহাদেশের খৃস্টান দেশ ও সংস্থাসমূহ তাদের অর্থের যোগানদার। সব দেশের আর্চ বিশপরা এর তদারক করেন এবং মিশনারী কাজে নেতৃত্ব দেন। ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপ্টিস্ট মিশনগুলো ও খৃস্টান এনজিওসমূহের অনেকগুলোর কার্যক্রম দেখার আমার সুযোগ হয়েছে। তাদের মধ্যে কখনো অনৈক্য দেখিনি। মানুষের প্রতি তাদের সহমর্মিতা ও দরদ প্রশংসনীয়। মাইকেল রোজারিও ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০৫ সালের মাঝামাঝি, পলিনাস কোস্টা থেকে ২০০৫ সালের জুলাই থেকে ২০১১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এবং ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে প্যাট্রিক ডি. রোজারিও ঢাকার আর্চ বিশপের দায়িত্ব পালন করছেন। এদের আর্থিক চরিত্র অথবা সাংগঠনিক অথর্বতা নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠতে দেখিনি। তাদের নেতৃত্বে দেশব্যাপী ব্যাপকহারে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও প্রকৃতি পূজারী উপজাতীয়রা খৃস্টান ধর্ম গ্রহণ করছে এবং খৃস্টানদের গীর্জার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের আলেমদের একটা অংশ এতে বিক্ষুব্ধ; তারা অনেকেই মিশনারীদের তৎপরতা বন্ধ করার জন্য বক্তৃতা বিবৃতি দেন, আন্দোলনের হুমকি দেন। তাদের বক্তব্যে যুক্তি আছে কিন্তু যে সেবার মাধ্যমে তারা মানুষের মন জয় করছেন সেই সেবার বিকল্প কোনও ব্যবস্থা তাদের হাতে নেই; অনেকে করতে পারেন না। কিছু কিছু মুসলিম এনজিও অধুনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উপরোক্ত সেবাসমূহের আঞ্জাম দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকারের হাতে তাদের অনেকেই নিগৃহীত হচ্ছে। সেক্যুলার ও মুসলিম বিদ্বেষী মিডিয়া তাদের মৌলবাদী ও জঙ্গি আখ্যায়িত করছে। এ অবস্থায় তাদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পক্ষান্তরে খৃস্টান এনজিওগুলো তাদের এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয়ও লক্ষণীয়।
কাকরাইল রোডে খৃস্টানদের প্রধান গীর্জার পাশাপাশি মুসলমানদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আছে এবং সেটি হচ্ছে কাকরাইল মসজিদ। এই মসজিদটি দীর্ঘকাল ধরে তবলীগ জামায়াতের কেন্দ্র হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। এই কেন্দ্রটি এখন বিভক্ত, মারামারির কেন্দ্র। কিছুদিন আগে টঙ্গীতে ইজতেমার স্থান দখল ও তবলীগ জামায়াতের নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে যে মারামারি হয়েছে তা সারা দুনিয়ায়- শুধু বাংলাদেশ নয়, আলেম সমাজ ও মুসলমানদের মাথাও হেঁট করে দিয়েছে। এর জের হিসেবে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা তবলীগের উভয় গ্রুপের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
কয়েক বছর আগে দেশের প্রথিতযশা একজন আলেম ও উপমহাদেশের খ্যাতনামা একজন হাদিস বিশারদকে খুনের মামলায় আসামী করা হয়েছিল। পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে তৎকালীন সরকার তার সাথেই আবার সহযোগিতা চুক্তি করেছিলেন। দেশের সেক্যুলার ও বামপন্থী রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, ইসলাম, ইসলামী অনুশাসন, ইসলামী ঐতিহ্য সব কিছুর মধ্যেই এখন স্বাধীনতা বিরোধী গন্ধ খুঁজে পান। দ্বীন, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান, কুরআন-হাদীসসহ ইসলামী বইপত্র এখন অপরাধ সামগ্রীতে পরিণত হয়েছে। ইসলামের ষষ্ঠ স্তম্ভ জিহাদকে সন্ত্রাসের সমার্থক হিসাবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কুরআন-হাদীস ও ইসলামী বইপত্রকে জিহাদী বই-পত্র বলে আখ্যায়িত করছে। এর বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ নেই। অনেকে পুলিশী অভিযানের ভয়ে বাসা-বাড়ি থেকে ইসলামী বই পুস্তক লুকিয়ে ফেলছে। ফলে এগুলো পড়া এবং চর্চা সাংঘাতিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এই পলায়নপর মনোভাব মুসলমানদের কাপুরুষের জাতিতে রূপান্তর করছে। ভোটের প্রয়োজনে এই হেফাজতে ইসলামের আমীর বয়োবৃদ্ধ আলেম মুফতি শফি সাহেবের কাছে সরকারি নেতারা আবার আত্মসমর্পণও করেছিলেন এবং সর্বোচ্চ কওমী ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের বন্ধু সেজে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। এখন আবার এই মুফতি সাহেবের একটি উক্তিকে উপলক্ষ করে দেশব্যাপী তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী অকুতোভয় অন্যতম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের শেষ নেই। এই দলটিকে স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধপরাধীদের দল হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে। পাকিস্তান আমলে বলা হতো এই দল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছে। এখন বলা হচ্ছে, এরা পাকিস্তানের পক্ষ শক্তি হিসাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং এদের রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। আসল কথা হচ্ছে, জামায়াত নয়, এদের প্রধান টার্গেট ইসলাম। জামায়াত পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বস্তরে ইসলামী অনুশাসন কায়েম করতে চায় এবং ধর্মভীরু সৎ ও যোগ্য লোককে নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করা তাদের লক্ষ্য। এটা যদি কায়েম হয় তাহলে চুরি-চামারী, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদাকাসক্তি, স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি, চাঁদাবাজি, ঘুষ, রিসাওয়াত, জ্বেনা-ব্যাভিচারের সাথে যারা জড়িত তারা বিপদে পড়বেন, রাজনীতি করা তাদের জন্য কঠিন হবে। এ কারণে জামায়াতকে নির্মূল করার জন্য তারা উদগ্রীব হয়ে পড়েছেন। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে তারা জামায়াতমুক্ত করতে চান। এটা যদি করতে পারেন তাহলে তাদের ধারণা, সাহস করে ইসলামের পক্ষে অন্ততঃ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ফাঁসির মঞ্চে যাবার কেউ থাকবে না। ধর্ম মানুক বা না মানুক দুনিয়ার সর্বত্র ধর্মীয় নেতাদের সম্মান করা হয়। ইহুদী, খৃস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, কোনও ধর্মাবলম্বীকে তাদের ধর্মীয় নেতাদের নেতা অথবা ধর্মীয় পুস্তকের অপমান করতে আমি দেখিনি। বাংলাদেশে তা হচ্ছে। আলেম ওলামাদের শুধু অবজ্ঞা নয়, অনেকে পশু থেকে অধম বলে মনে করে। আল্লাহ তার রাসূল (সা.), সাহাবায়ে কেরাম, রাসূল (সা.)-এর সম্মানিত বিবিগণ, খোলাফায়ে রাশেদীন তাদের অকথ্য ভাষায় গালি দেয়ার যে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের ব্লগাররা সৃষ্টি করেছেন, দুনিয়ার অন্য কোনো দেশে তা হয়নি। একজন ধর্মমন্ত্রী তো রাসূল (সা.) এর উপর মিথ্যা আরোপ করে বলেছিলেন যে, তিনি মসজিদে নববীর অর্ধেক হিন্দুদের দিয়ে দিয়েছিলেন। পবিত্র হজ্ব এবং কুরবানীর যৌক্তিকতার উপরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাড়ি-টুপীধারীদের অবজ্ঞার দৃষ্টান্ত তো আছেই। এই দেশ যখন বিধর্মী বৃটিশদের অধীনে ছিল তখনও সহজে তারা পরহেজগার পর্দানশীন মহিলাদের উপর হাত দেননি, তাদের সম্মান করেছেন। এখন একদিকে যেমন ধর্মীয় সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না, অন্যদিকে একান্ত ঘরোয়া পরিবেশে দোয়ার মাহফিল, কুরআন শিক্ষার আসর থেকেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য মায়েরা যাতে ইসলামী শিক্ষা না পান এবং অনুশীলন না করেন। মা যদি ভাল মুসলমান হন, তাহলে তাদের সন্তানরাও ভাল মুসলমান হবে। এটা আমাদের সমাজপতিরা চান না। এতে ইসলামের প্রচার প্রসার নিষিদ্ধ হচ্ছে, জুলুম-নির্যাতনের ফলে ইসলামী আকিদা বিশ্বাসে মানুষ আগ্রহ হারাচ্ছে। এর ফলে বিধর্মীরা অনুপ্রাণিত হচ্ছে। খৃস্টান জনসংখ্যা ও মুশরিক নাস্তিকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘরে ঘরে মন্দিরে পূজা হচ্ছে। সেটা কেমন?
বাংলাদেশের মুসলমানরা ধর্ম চর্চা এবং ব্যক্তি ও সামষ্টিক জীবনে তার অনুশীলন করলে মৌলবাদী ও জঙ্গি খেতাব পায়, সরকারি নির্যাতনের শিকার হয়। পক্ষান্তরে হিন্দু, খৃস্টানরা তাদের ধর্ম চর্চায় উৎসাহ পায়। ফলে আমাদের যুব সমাজ ও শিশু কিশোররা হিন্দু খৃস্টান ধর্ম ও সংস্কৃতির দিকেই ঝুঁকে পড়ছে। অন্যদিকে নাস্তিকের সংখ্যাও বাড়ছে।
আকাশ সংস্কৃতি এখন খোলা ও অবারিত দ্বার। জি বাংলা, স্টার, স্টার জলসা, জি-সিনেমা, সনি, এসটিভি, এমটিভি কালারস, কালারস বাংলাসহ শতাধিক টিভি চ্যানেলে একযোগে হিন্দু ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতি প্রচার করা হচ্ছে। বাংলাদেশী চ্যানেলগুলো তো আছেই। ইন্ডিয়ান চ্যানেলের সিরিয়ালসমূহ ঘরে ঘরে দেখা হয়। আমরা আমাদের দেশের নাটক সিনেমায় ধর্ম বা ধর্মীয় অনুশাসন টেনে আনলে অপরাধ হয়। কিন্তু এমন কোন ইন্ডিয়ান চ্যানেল ও তাদের প্রচারিত নাটক-সিনেমা নেই যেখানে দেব দেবীর পূজা-অর্চনা নেই। তাদের প্রত্যেক বাড়িতে মন্দির আছে এবং এসব মন্দিরে দেব-দেবীকে প্রতিষ্ঠা করে তারা পূজা করে। নাটক-সিরিয়ালগুলোতে এই পূজা বাধ্যতামূলক। পূজা তাদের ধর্মের অংশ, নাটক সিনেমারও অংশ। এই পূজা ও মন্দির টেলিভিশন চ্যানেলের বদৌলতে আমাদের দেশে ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক, আমাদের ছেলেমেয়ে ও তাদের অভিভাবকরা এই পূজায় অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ মুসলমান। এই মুসলমানদের একটা ঐতিহ্য আছে, সভ্যতা আছে। তার প্রচার ও প্রসার এখানে নিষিদ্ধ। ১৯৭১ সালের আগের ইতিহাস আমাদের ছেলে-মেয়েদের জানতে দেয়া হচ্ছে না। ইন্ডিয়ান চ্যানেলগুলো হিন্দু ধর্মশাস্ত্র মহাভারত ও পুরানের নায়ক-নায়িকাদের নাটক সিনেমায় নিয়ে এসেছে এবং তাদের ছেলেমেয়েদের যেমন হিন্দু কালচার ও ঐতিহ্য শিক্ষা দিচ্ছে, তেমনি হিন্দু বীরদেরও পরিচিত করে তুলছে। মুসলিম কালচার ও ঐতিহ্য শিক্ষার অনুপস্থিতিতে হিন্দু কালচার ও ঐতিহ্য চ্যানেলগুলোর সৌজন্যে মুসলিম কালচার ও ঐতিহ্য ধ্বংস করে তার স্থান দখল করে নিচ্ছে। এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন সামরিক আগ্রাসন থেকেও জঘন্য এবং আমার আশঙ্কা তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন আমাদের জাতিসত্ত্বাও ধ্বংস হয়ে যাবে।
এ থেকে পরিত্রাণের উপায় আমাদেরকেই বের করতে হবে এবং এ জন্য ওলামায়ে কেরামের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ